জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ কঠিন বার্তা নিয়ে বসছে বেইজিং পৌঁছেছেন; দেশটির সম্পর্ক এখন আর আগের মতো নেই। ব্যবসা নেতাদের একটি বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে মের্জ যাচ্ছেন বেইজিং ও হাংজউতে, কিন্তু বার্তা স্পষ্ট: জার্মান ব্যবসা চীনকে শ্যালক ভাবছে না, বরং সরাসরি প্রতিযোগী ও ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট।
চীনের বাজার যে আর আগের জোশে নেই, তা জার্মান সরকারও বুঝেছে। গত অল্প সময়ের মধ্যে চীনা বাজারে জার্মান পণ্যের মধ্যমধ্যেই পতন নেমেছে, আর বিপরীতে চীনা পণ্যের প্রবেশ বেড়ে গেছে, যা প্রায় €৯০ বিলিয়ন ঘাটতির দিকে ঠেলেছে। জার্মান বড় বড় শিল্প গুলোর অনেকেই বলছেন, তারা শুধু চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে লড়াই করছে না, বরং চীনা রাষ্ট্রের বিপুল সহায়তা ও মুদ্রানীতির চাপেও টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।
জার্মান শিল্পের অন্তরালে
চীনের দিকে নির্ভরতার কারণে জার্মান নির্মাতারা চ্যালেঞ্জে পড়েছে, বিশেষত বিরল মাটির রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও কিছু মাইক্রোচিপ সরবরাহ কমে যাওয়ার পরে। এমনকি কিছু শিল্প বিশেষ সূক্ষ্ম চাপে, গাড়ি থেকে রাসায়নিক পণ্য পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতার মাত্রা বেড়ে গেছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের মালিকানাধীন মিটারস্ট্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক মডেলেই সমস্যায় পড়ছে। অনেককে এই পরিস্থিতি “চীন শক ২.০” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
চ্যান্সেলরের উদ্দেশ্য
মের্জের আলোচনায় সরাসরি ন্যায্য প্রতিযোগিতা ও জার্মান শিল্পের স্বার্থ রক্ষাই অন্যতম মূল বিষয় হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ইস্যু ও চীনা সাইবার হামলা সম্পর্কেও তিনি উদ্বেগ তুলে ধরবেন। যদিও তিনি বড় ধরনের নীতি পরিবর্তনের আশা করেন না, মূল লক্ষ হল চীনের উপরে দেশটির নির্ভরতা কমিয়ে আনা বা “ডিরিস্কিং” করা। সরকারের ভেতরেও মতপার্থক্য বিরাজ করছে—কেউ কম ব্যারিয়ার চান, কেউ আবার কঠোর নিয়মের পক্ষে।

ইইউ-র প্রেক্ষাপট
জার্মানি এখন শুধু নিজের জন্যই নয়, গোড়াতেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিনির্ধারণে প্রভাব খাটাচ্ছে। “ইউরোপ কিনুন” ধরনের নীতি, পর্যাপ্ত তহবিল ও সংবিধানগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ইউরোপ আরও আত্মনির্ভর হতে চাইছে। তবে অনেকেই মনে করেন অতিরিক্ত দোকানি হওয়া অন্য অংশীদারদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

চীনের প্রতি কঠোর পদক্ষেপের ঝুঁকি
চীনের মতো এক-পক্ষীয় শক্তি রাষ্ট্রের সঙ্গে কঠোর অবস্থানে থাকা সহজ নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, জার্মানি ও ইইউ নিজেদের বাজারের গুরুত্বকে কম করে দেখছে। যদিও আমেরিকায় শুল্ক আরোপের কারণে চীনের জন্য ইউরোপীয় বাজার এখন গুরুত্বপূর্ণ, চীন ইইউ’র বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর আরোপিত শুল্ক তুলে নিতে আগ্রহী।
মের্জের এই সফর শুধু সংবাদ হবে না; এটা জার্মানি ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে, যেখানে জার্মান শিল্প ও নীতি ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে নতুন রূপ নেবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















