যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর শুল্ক নীতি বড় ধাক্কা খেয়েছে। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এমন শুল্ক আরোপ সাংবিধানিক নয়। এতে প্রশাসন ও বিচার বিভাগের মধ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
আদালতের কঠোর বার্তা
রায়ে আদালত কার্যত স্মরণ করিয়ে দেয় যে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মূলত কংগ্রেসের হাতে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দেন।
এই সিদ্ধান্তকে অনেক বিশ্লেষক নির্বাহী ক্ষমতার ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হিসেবে দেখছেন।

ট্রাম্পের তীব্র প্রতিক্রিয়া
রায় ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বিচারপতিদের সিদ্ধান্তকে দেশের জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন এবং অভিযোগ করেন যে আদালত সঠিক কাজ করার সাহস দেখায়নি।
বিশেষভাবে নিজের মনোনীত বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নীল গোরসাচ–এর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, এই রায় তাদের পরিবারের জন্যও বিব্রতকর।
রায়ের পরও নতুন শুল্ক ঘোষণা
আদালতের সিদ্ধান্তের পরও ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। তিনি বাণিজ্য আইনের আওতায় একটি নির্বাহী আদেশে সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।
এর পরদিন সামাজিক মাধ্যমে তিনি সেই হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার কথাও জানান, যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্ক
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক মধ্যপন্থী রিপাবলিকান স্বস্তি প্রকাশ করলেও অর্থনীতিবিদদের একাংশ সতর্ক করছেন—অস্থির শুল্ক নীতি ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ ফেলতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের এই অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা প্রয়োগের সীমা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















