রমজান মাসে আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাক্তিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনায় ভারত সরাসরি কড়া নিন্দা প্রকাশ করেছে। আফগান নাগরিকদের মধ্যে নারী ও শিশু নিহত হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রন্ধীর জয়সওয়াল সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “পাকিস্তান এই হামলার মাধ্যমে তার অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা লুকানোর চেষ্টা করছে। আমরা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডীয় অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করছি।”

পাকিস্তান দাবি, কাবুল বলছে ভিন্ন
পাকিস্তান তার সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ৭০ জন মিলিট্যান্ট নিহত হয়েছে দাবি করেছে। তবে আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, “হামলায় নারী ও শিশুসহ ডজনখানেক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে।” আফগান রেড ক্রিসেন্টের নানগারহার প্রদেশের প্রাদেশিক পরিচালক মাওলভী ফজল রহমান ফয়্যাজ নিশ্চিত করেছেন, অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
আফগান সরকার পাকিস্তানের দূতকে ডাকে
হামলার পর আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে কাবুলে তলব করে প্রতিবাদ জানায়। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, “নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে বিমান হামলা আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং প্রদেশের স্বায়ত্তশাসনের প্রতি বিদ্বেষমূলক কাজ।” পাকিস্তানকে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনার যে কোনো প্রতিকূল ফলাফলের জন্য তারা দায়ী থাকবেন। হামলার পরে নানগারহার প্রদেশের গ্রামবাসীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নেন এবং নিহতদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেন। স্থানীয়দের বক্তব্য, নিহতরা “গরিব মানুষ যারা বড় কষ্টের মধ্যে ছিল”।
![]()
মানবিক দিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় উপজাতি নেতা জানান, “যারা নিহত হয়েছেন, তারা তালেবান, সামরিক কর্মী বা প্রাক্তন সরকারের সদস্য ছিলেন না।” এই হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং রমজান মাসের পবিত্র সময়ে এ ধরনের ঘটনা মানবিক ও নৈতিকভাবে নিন্দনীয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















