ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন সফরকে কেন্দ্র করে। তিনদিনের সফরের মধ্যে মোদি কনেসেটের ভাষণ দেবেন এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হার্জোগের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কিন্তু বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ায়ার লাপিদ জানিয়েছেন, যদি সুপ্রিম কোর্ট প্রধান ইয়িতঝাক আমিতকে কনেসেটে আমন্ত্রণ না জানানো হয়, তবে তিনি মোদির ভাষণ বয়কট করবেন।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনা

ইসরায়েলে বিচারিক সংস্কার নিয়ে দ্বন্দ্ব দুই বছর ধরে চলমান, যা দেশের জনগণকে গভীরভাবে বিভক্ত করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর ৭-র হামাস হামলার আগে এই সমস্যায় প্রতি সপ্তাহান্তে লক্ষাধিক মানুষ রাস্তায় নামে। জানুয়ারি ২০২৫-এ আমিতকে কোর্টের প্রধান নির্বাচিত হওয়ার পর, ন্যায়বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন তার ক্ষমতা স্বীকার করেননি, সাক্ষাৎ করেননি এবং প্রধান বিচারপতি হিসেবে সম্বোধন করেননি। এ কারণে আমিতকে বহু কনেসেট অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যেখানে সাধারণত আমন্ত্রণ থাকত।
বিরোধী দলের হুঁশিয়ারি
লাপিদ স্পষ্ট করেছেন, “আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান করতে চাই না। যদি কোয়ালিশন বিশেষ সেশনে সুপ্রিম কোর্ট প্রধানকে আমন্ত্রণ না দেয়, আমরা তর্কবিতর্কে অংশ নিতে পারব না।” তিনি আরও দাবি করেছেন, কনেসেট স্পিকারকে তাৎক্ষণিকভাবে আমিতকে আমন্ত্রণ জানানোর নির্দেশ দিতে হবে যাতে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
কনেসেটের উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়া

কনেসেট স্পিকার আমির ওহানা বিরোধী দলের নেতাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “বিরোধী নেতা যদি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়, সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এটি দুঃখজনক এবং ভুল। আমি আশা করি তিনি এটি সংশোধন করবেন।” স্পিকার আরও প্রশ্ন তুলেছেন, আমিতকে না আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও লাপিদ কেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট বা ট্রাম্পের ভাষণ বয়কট করেননি।
ইসরায়েলি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মোদির সফর আন্তর্জাতিক এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















