লালমনিরহাটে রমজানের শুরুতেই সবজি ও ফলের দাম কট্টরভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসের প্রারম্ভেই শহরের বিভিন্ন বাজারে ক্রেতারা হুলস্থুল অবস্থা লক্ষ্য করেছেন।
শাক-সবজির দাম অব্যাহত উর্ধ্বগতি
শহরের কিচেন মার্কেটে সবুজ মরিচের কেজি দাম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৭০ টাকা, যা রমজানের আগে মাত্র ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে ছিল। শসার দামও প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া শসা এখন ৬০ টাকায়, আর স্থানীয় খিরার দাম ৩০–৪০ টাকার পরিবর্তে এখন ৮০ টাকার কেজি। বেগুনের দামও প্রতি কেজিতে ২০–৩০ টাকা বেড়েছে। টমেটোর দাম রমজানের আগে ৪০ টাকার নিচে থাকলেও মাস শুরুতে ৮০ টাকায় পৌঁছেছে, বর্তমানে ৬০ টাকায় স্থিতিশীল। লাউ, বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৩০ টাকার নিচে থাকলেও বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত।

ফলের দামেও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
কলা রমজানের শুরুতেই অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়িয়েছে। আগে ভালো মানের কলা চার টুকরার বালিতে ৩০–৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৬০–৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লালমনিরহাটের তুষভাণ্ডার বাজারের বাসিন্দা রেজাউল করিম জানিয়েছেন, “কলার মতো দৈনন্দিন প্রয়োজনের জিনিস রমজানে ইফতারের জন্য অত্যন্ত জরুরি। দাম বেশি হলেও কিনতেই হচ্ছে। শুধু কলা নয়, প্রায় সব ফলই দামি।”
একটি বাজার জরিপে দেখা গেছে, আপেল ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা, কমলা ৩৪০ টাকা, আনারস ৫৩০ থেকে ৬০০ টাকা, নাশপাতি ৪০০ টাকা, মাল্টা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, আঙ্গুর ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং খেজুর ২০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ছোট আনারস ৫০ থেকে ৭০ টাকা, বেল ১০০–১৫০ টাকা, পাপাইয়া ১৩০ টাকা এবং পেয়ারা ১০০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা এবং ভোক্তাদের উদ্বেগ
ফল ব্যবসায়ী এমডি আমান খান জানিয়েছেন, পাইকারদের কাছ থেকে দাম বেশি হওয়ায় তাদেরও বিক্রি করতে হচ্ছে উচ্চ মূল্যে। তিনি বলেন, “প্রায় সব ফলের দাম ৫০–১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশি মূল্যে কেনা হলে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।”
আদিতমারী উপজেলার নামুরি এলাকার বাসিন্দা এমডি সাবেদ আলী অভিযোগ করেছেন, “কম আয়ের মানুষদের পক্ষে ফল খাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সকালে দাম কম থাকে, দুপুরে আবার আগের স্তরে চলে আসে। কার্যকরী নজরদারি তেমন দেখা যায় না।”
ভোক্তারা মনে করেন, দুর্বল বাজার নজরদারি ব্যবসায়ীদের স্বাধীনভাবে দাম বাড়ানোর সুযোগ দিয়েছে। তারা চেয়েছেন কড়া নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান চালানো হোক, নইলে রমজান জুড়ে বাজার পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















