বলিউড তারকা রণবীর সিংকে সংবেদনশীল আচরণের পরামর্শ দিল কর্ণাটক হাইকোর্ট। ‘কান্তারা’ চরিত্র অনুকরণ বিতর্কে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় আদালত আপাতত তাকে অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিয়েছে, তবে একই সঙ্গে সতর্ক করেছে—জনপ্রিয় ব্যক্তিদের কথাবার্তায় দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
মঙ্গলবার বিচারপতি এম নাগপ্রসন্নের বেঞ্চে শুনানির সময় আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, কেউ সুপারস্টার হলেই সংবেদনশীলতা উপেক্ষা করা যায় না। আদালতের মতে, জনমানসে প্রভাব ফেলতে পারেন এমন শিল্পীদের কথা বলার আগে তার প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
রণবীরের পক্ষে আইনজীবী যুক্তি দেন, অভিনেতার মন্তব্য প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা হয়েছে এবং কারও অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছিল না। তবে আদালত মনে করিয়ে দেয়, মানুষ ভুলে যেতে পারে, কিন্তু ইন্টারনেট কিছুই ভুলে না—তাই প্রকাশ্যে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

আপাতত গ্রেপ্তারি পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ
‘কান্তারা’ চরিত্র অনুকরণ ঘিরে দায়ের হওয়া এফআইআর–এর প্রেক্ষিতে আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত রণবীরের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ না নিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে অভিনেতাকে।
কী নিয়ে বিতর্ক
গত বছরের ২৮ নভেম্বর গোয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঋষভ শেঠি। মঞ্চে উঠে তার ‘কান্তারা’ ছবির দাইভা চরিত্রের অনুকরণ করেন রণবীর। অতিরঞ্জিত ভঙ্গি এবং দাইভাকে ‘ভূত’ বলে উল্লেখ করায় সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাস্থলেই ঋষভ শেঠি তাকে এমন অনুকরণ না করতে অনুরোধ করেন। পরে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিযোগ দায়ের হয়।

আগেই ক্ষমা চেয়েছিলেন অভিনেতা
বিতর্কের পর রণবীর সিং লিখিত বিবৃতিতে বলেন, তিনি আসলে ঋষভ শেঠির অভিনয়ের প্রশংসা করতেই অনুকরণ করেছিলেন। দেশের সব সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে বলেও জানান তিনি। কারও অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকলে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এই অভিনেতা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















