০৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
আলিয়া ভাটের ‘আলফা’ টিজারে ওয়াইআরএফ স্পাই ইউনিভার্সে নতুন অধ্যায় ১৯ জুন আসছে ‘ককটেল ২’: শাহিদ-ক্রিতি-রাশ্মিকার ত্রিকোণ প্রেম বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে বিটিএস, শাকিরা ও ম্যাডোনা বিটিএস-এর ১৩তম বার্ষিকী: ‘কাম ওভার’ স্ট্রিমিংয়ে, ‘সুইম’ বিলবোর্ডে শীর্ষে ব্রিটেনে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের পরিকল্পনা ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য আলোচনার কেন্দ্রে হরমুজ সংকটে বাংলাদেশের সার কারখানা বন্ধ, কৃষিতে শঙ্কা এখনো কাটেনি চুক্তির আগেই হরমুজে ট্যাংকার চলাচল শুরু যুদ্ধ শেষ, তবু আটকে হাজারো প্রবাসী — ফিরতে আরও অপেক্ষা হরমুজ চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বস্তির সুযোগ: প্রবাসী, রেমিট্যান্স ও জ্বালানির ভবিষ্যৎ

ডিম-ক্ষোভে আবারও টিএমসি নেতা নিশানায়, গ্রেপ্তারের পর সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) অভ্যন্তরীণ সংকট ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে আবারও ডিম নিক্ষেপের শিকার হলেন দলের এক নেতা। এবার লক্ষ্যবস্তু হন টিএমসির যুবনেতা সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর আদালতে নেওয়ার পথে তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ জনতার ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

সোমবার পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই সময় তিনি পুলিশ ভ্যানে ওঠার জন্য বের হতেই একদল ব্যক্তি তাঁর দিকে একের পর এক ডিম ছুড়ে মারতে শুরু করে। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, হামলা থেকে বাঁচতে তিনি মাথা নিচু করে হাত দিয়ে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ হস্তক্ষেপ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তিনি নিরাপদে গাড়িতে উঠতে সক্ষম হন।

বিজেপি নেতা রবি কেশরীর অভিযোগের ভিত্তিতে সৌমিত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়, বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

ডিম নিক্ষেপের ঘটনা বাড়ছে

সাম্প্রতিক সময়ে টিএমসি নেতাদের বিরুদ্ধে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বারবার আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে দলের বড় ধরনের পরাজয়ের পর এ ধরনের প্রতিবাদমূলক ঘটনা আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় টিএমসি বিধায়ক কুণাল ঘোষও ডিম নিক্ষেপের শিকার হন। দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের বাইরে ঘটনাটি ঘটে। বাসভবন থেকে বের হওয়ার পরই তাঁর দিকে ডিম ছোড়া হয়।

ঘটনার পর কুণাল ঘোষ কালীঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরদিন কলকাতা পুলিশ এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে। কুণাল ঘোষ জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাম চন্দন সিং ও রবি কোয়াল। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সামান্য ধারায় মামলা হওয়ায় অভিযুক্তরা দ্রুত জামিন পেয়ে যেতে পারেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরেই শুরু

টিএমসি নেতাদের ওপর ডিম নিক্ষেপের ধারাবাহিকতার সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে। বর্তমানে দলের চলমান সংকটের কেন্দ্রেও রয়েছেন তিনি।

গত ৩০ মে সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করতে গেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ডিম ও পাথর নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হন। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, স্লোগান দিতে দিতে একদল মানুষ তাঁর দিকে এগিয়ে আসে এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ সময় তাঁকে ধাক্কাধাক্কির পাশাপাশি ‘চোর, চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়। ঘটনাটির নিন্দা করে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এটিকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেন এবং অভিষেকের প্রতি সমর্থন জানান।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক সহিংসতা’ ও ‘রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষক সন্ত্রাস’ হিসেবে বর্ণনা করেন। পাশাপাশি সমর্থনের জন্য রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদ জানান।

টানা কয়েকটি ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে টিএমসি নেতাদের বিরুদ্ধে ডিম নিক্ষেপ ও বিক্ষোভের পুনরাবৃত্তি রাজ্যের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আলিয়া ভাটের ‘আলফা’ টিজারে ওয়াইআরএফ স্পাই ইউনিভার্সে নতুন অধ্যায়

ডিম-ক্ষোভে আবারও টিএমসি নেতা নিশানায়, গ্রেপ্তারের পর সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা

০৫:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) অভ্যন্তরীণ সংকট ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে আবারও ডিম নিক্ষেপের শিকার হলেন দলের এক নেতা। এবার লক্ষ্যবস্তু হন টিএমসির যুবনেতা সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর আদালতে নেওয়ার পথে তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ জনতার ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

সোমবার পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই সময় তিনি পুলিশ ভ্যানে ওঠার জন্য বের হতেই একদল ব্যক্তি তাঁর দিকে একের পর এক ডিম ছুড়ে মারতে শুরু করে। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, হামলা থেকে বাঁচতে তিনি মাথা নিচু করে হাত দিয়ে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ হস্তক্ষেপ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তিনি নিরাপদে গাড়িতে উঠতে সক্ষম হন।

বিজেপি নেতা রবি কেশরীর অভিযোগের ভিত্তিতে সৌমিত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়, বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

ডিম নিক্ষেপের ঘটনা বাড়ছে

সাম্প্রতিক সময়ে টিএমসি নেতাদের বিরুদ্ধে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বারবার আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে দলের বড় ধরনের পরাজয়ের পর এ ধরনের প্রতিবাদমূলক ঘটনা আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় টিএমসি বিধায়ক কুণাল ঘোষও ডিম নিক্ষেপের শিকার হন। দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের বাইরে ঘটনাটি ঘটে। বাসভবন থেকে বের হওয়ার পরই তাঁর দিকে ডিম ছোড়া হয়।

ঘটনার পর কুণাল ঘোষ কালীঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরদিন কলকাতা পুলিশ এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে। কুণাল ঘোষ জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাম চন্দন সিং ও রবি কোয়াল। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সামান্য ধারায় মামলা হওয়ায় অভিযুক্তরা দ্রুত জামিন পেয়ে যেতে পারেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরেই শুরু

টিএমসি নেতাদের ওপর ডিম নিক্ষেপের ধারাবাহিকতার সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে। বর্তমানে দলের চলমান সংকটের কেন্দ্রেও রয়েছেন তিনি।

গত ৩০ মে সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করতে গেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ডিম ও পাথর নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হন। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, স্লোগান দিতে দিতে একদল মানুষ তাঁর দিকে এগিয়ে আসে এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ সময় তাঁকে ধাক্কাধাক্কির পাশাপাশি ‘চোর, চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়। ঘটনাটির নিন্দা করে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এটিকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেন এবং অভিষেকের প্রতি সমর্থন জানান।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক সহিংসতা’ ও ‘রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষক সন্ত্রাস’ হিসেবে বর্ণনা করেন। পাশাপাশি সমর্থনের জন্য রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদ জানান।

টানা কয়েকটি ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে টিএমসি নেতাদের বিরুদ্ধে ডিম নিক্ষেপ ও বিক্ষোভের পুনরাবৃত্তি রাজ্যের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।