০১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
গার্দিওলার বিদায় মঞ্চে মাইকেল জর্ডানের আবেগঘন বার্তা, কেঁদে ফেললেন ম্যানসিটি কোচ চীনের মহাকাশে ইতিহাস, প্রথমবারের মতো হংকংয়ের নারী নভোচারীর যাত্রা আফগানিস্তানে মেয়েদের স্বপ্ন এখন বিয়ের খাঁচায় বন্দি সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০: স্বপ্নের মেগা প্রকল্পে ধাক্কা, বাস্তবতার মুখে নতুন হিসাব ৪৫০ টাকার বিরোধে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহত, রাজশাহীতে চাঞ্চল্য আফগানিস্তানে মেয়েদের স্বপ্ন থামিয়ে দিচ্ছে বাল্যবিয়ে, বন্ধ স্কুলে বাড়ছে হতাশা খরার জমিতে কাস্টার্ড আপেলের জয়, কৃষকদের আয়ে খুলছে নতুন সম্ভাবনা আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষাবন্দি জীবন, বিয়েই এখন অনেকের একমাত্র ভবিষ্যৎ দিল্লির ঐতিহ্যবাহী জিমখানা ক্লাব বন্ধের শঙ্কা, উত্তাল বিতর্কে ক্ষমতা-ঐতিহ্য-অভিজাত সংস্কৃতি লাওসের গুহায় এক সপ্তাহ ধরে আটকা ৭ গ্রামবাসী, চলছে প্রাণপণ উদ্ধার অভিযান

পেন্টাগনের গোপন নেটওয়ার্কে মাস্কের গ্রক! এআই দৌড়ে নতুন উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর গোপন সামরিক ব্যবস্থায় নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করতে যাচ্ছে—এমন খবর সামনে আসতেই প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের তৈরি ‘গ্রক’ চ্যাটবটকে শ্রেণিবদ্ধ সামরিক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে টানাপোড়েনও তীব্র হয়েছে।

Report: US to integrate Musk's Grok AI into classified military systems

শ্রেণিবদ্ধ সামরিক ব্যবস্থায় গ্রক

খবরে বলা হয়েছে, এই চুক্তি কার্যকর হলে গ্রক হবে এমন দ্বিতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা, যা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সংবেদনশীল সামরিক নেটওয়ার্কে ব্যবহারের অনুমোদন পাবে। এসব নেটওয়ার্কে সাধারণত গোয়েন্দা বিশ্লেষণ, অস্ত্র উন্নয়ন এবং যুদ্ধক্ষেত্র পরিকল্পনার মতো উচ্চঝুঁকির কাজ পরিচালিত হয়। আগে এসব প্ল্যাটফর্মে একমাত্র অনুমোদিত মডেল ছিল অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লদ’, যা একটি প্রযুক্তি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

Not Woke': Pentagon Embraces Elon Musk's Grok AI Despite Global Backlash

অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে নীতিগত দ্বন্দ্ব

প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের বিরোধ মূলত নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা ঘিরে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রযুক্তি গণ নজরদারি বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থায় ব্যবহার না করার জন্য কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে। বিপরীতে এক্সএআই নাকি “আইনসম্মত সব কাজে” ব্যবহারের শর্তে রাজি হয়েছে, যা পেন্টাগনের চাহিদার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইকে বৈঠকে ডেকেছেন বলে জানা গেছে। সূত্র বলছে, সেখানে কোম্পানিকে চাপ দেওয়া হতে পারে—নয়তো তাদের “সরবরাহ শৃঙ্খলা ঝুঁকি” হিসেবে চিহ্নিত করার হুমকিও রয়েছে।

Pentagon integrates Musk's Grok AI chatbot into military networks - The  Globe and Mail

প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা আরও তীব্র

এই চুক্তির মাধ্যমে সামরিক এআই বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে। গুগলের জেমিনি মডেলকেও শ্রেণিবদ্ধ ব্যবহারের অনুমোদনের কাছাকাছি বলা হচ্ছে, যদিও ওপেনএআই এখনো চূড়ান্ত চুক্তি থেকে দূরে রয়েছে।

প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় অ্যানথ্রপিককে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা সহজ হবে না এবং এতে স্বল্পমেয়াদে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

Pentagon to Integrate Elon Musk's Grok AI Using Military Data

নিরাপত্তা বনাম সামরিক প্রয়োজনে বিতর্ক

অ্যানথ্রপিক দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের নিরাপত্তা-সচেতন প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের প্রধান নির্বাহী বারবার সতর্ক করেছেন—নিয়ন্ত্রণহীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবতার জন্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, সামরিক কর্তৃপক্ষ উন্নত এআইকে কৌশলগত সুবিধা হিসেবে দেখছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে সামরিক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আরও বড় নীতিগত বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গার্দিওলার বিদায় মঞ্চে মাইকেল জর্ডানের আবেগঘন বার্তা, কেঁদে ফেললেন ম্যানসিটি কোচ

পেন্টাগনের গোপন নেটওয়ার্কে মাস্কের গ্রক! এআই দৌড়ে নতুন উত্তেজনা

০৩:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর গোপন সামরিক ব্যবস্থায় নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করতে যাচ্ছে—এমন খবর সামনে আসতেই প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের তৈরি ‘গ্রক’ চ্যাটবটকে শ্রেণিবদ্ধ সামরিক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে টানাপোড়েনও তীব্র হয়েছে।

Report: US to integrate Musk's Grok AI into classified military systems

শ্রেণিবদ্ধ সামরিক ব্যবস্থায় গ্রক

খবরে বলা হয়েছে, এই চুক্তি কার্যকর হলে গ্রক হবে এমন দ্বিতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা, যা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সংবেদনশীল সামরিক নেটওয়ার্কে ব্যবহারের অনুমোদন পাবে। এসব নেটওয়ার্কে সাধারণত গোয়েন্দা বিশ্লেষণ, অস্ত্র উন্নয়ন এবং যুদ্ধক্ষেত্র পরিকল্পনার মতো উচ্চঝুঁকির কাজ পরিচালিত হয়। আগে এসব প্ল্যাটফর্মে একমাত্র অনুমোদিত মডেল ছিল অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লদ’, যা একটি প্রযুক্তি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

Not Woke': Pentagon Embraces Elon Musk's Grok AI Despite Global Backlash

অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে নীতিগত দ্বন্দ্ব

প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের বিরোধ মূলত নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা ঘিরে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রযুক্তি গণ নজরদারি বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থায় ব্যবহার না করার জন্য কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে। বিপরীতে এক্সএআই নাকি “আইনসম্মত সব কাজে” ব্যবহারের শর্তে রাজি হয়েছে, যা পেন্টাগনের চাহিদার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইকে বৈঠকে ডেকেছেন বলে জানা গেছে। সূত্র বলছে, সেখানে কোম্পানিকে চাপ দেওয়া হতে পারে—নয়তো তাদের “সরবরাহ শৃঙ্খলা ঝুঁকি” হিসেবে চিহ্নিত করার হুমকিও রয়েছে।

Pentagon integrates Musk's Grok AI chatbot into military networks - The  Globe and Mail

প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা আরও তীব্র

এই চুক্তির মাধ্যমে সামরিক এআই বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে। গুগলের জেমিনি মডেলকেও শ্রেণিবদ্ধ ব্যবহারের অনুমোদনের কাছাকাছি বলা হচ্ছে, যদিও ওপেনএআই এখনো চূড়ান্ত চুক্তি থেকে দূরে রয়েছে।

প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় অ্যানথ্রপিককে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা সহজ হবে না এবং এতে স্বল্পমেয়াদে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

Pentagon to Integrate Elon Musk's Grok AI Using Military Data

নিরাপত্তা বনাম সামরিক প্রয়োজনে বিতর্ক

অ্যানথ্রপিক দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের নিরাপত্তা-সচেতন প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের প্রধান নির্বাহী বারবার সতর্ক করেছেন—নিয়ন্ত্রণহীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবতার জন্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, সামরিক কর্তৃপক্ষ উন্নত এআইকে কৌশলগত সুবিধা হিসেবে দেখছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে সামরিক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আরও বড় নীতিগত বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।