পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার চন্দ্রদ্বীপ ফেরিঘাট এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল এলাকায় ভয়ভীতি, নির্যাতন ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রতিবাদে ফুঁসে উঠল চন্দ্রদ্বীপ
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা বলেন, স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের এক নেতা ও তার সহযোগীরা নানা কৌশলে গ্রামবাসীদের জমি বিক্রিতে বাধ্য করছেন। বিশেষ করে তরমুজ চাষের জন্য জমি ছাড়তে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। জমির প্রতিটি খণ্ডের জন্য আলাদা করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলেও জানান তারা। কেউ প্রতিবাদ করলে হামলা ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়—এমন অভিযোগও উঠে আসে কর্মসূচিতে।

অবৈধ বালু উত্তোলনে ভাঙনের শঙ্কা
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, একই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এতে ইউনিয়নের হাজারো মানুষের বসতভিটা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। নদীপাড়ের বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের ওপর বাড়তি চাপ
চরওয়াদেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আহসান হাবিব বলেন, এলাকার অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। তাদের জীবিকা কৃষি ও মাছধরার ওপর নির্ভরশীল। এমন অবস্থায় নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার চাপ তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। তিনি নদীবেষ্টিত এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানান, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়।
অভিযোগ অস্বীকার, তদন্তের আশ্বাস
অভিযুক্ত নেতা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও একটি বিরোধী দলের সমর্থকদের অপপ্রচার এটি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















