বরগুনার পাথরঘাটায় বিএফডিসি মৎস্য ঘাটের চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র মারামারির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, চাঁদার অর্থ বণ্টন নিয়ে বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং শামীম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দুপুর প্রায় দুইটার দিকে পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকার ব্রিজ সংলগ্ন বাইপাস সড়কে। এলাকাবাসী জানান, হঠাৎ করেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে উত্তেজনা
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাটে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের মাছের লেনদেন হয়। এখানকার জেলে, আড়তদার, পাইকার ও ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরেই আপত্তি ওঠে। সেই বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে দাবি ব্যবসায়ীদের একাংশের।
হামলায় আহত একাধিক ব্যক্তি
বিএফডিসির মাছ ব্যবসায়ী ফোরকান জানান, দুপুরের দিকে কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে একদল লোক এসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এতে মো. কালু, সোহাগ, আবু সালেহ, শামীমসহ সাত থেকে আটজন আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য। উত্তেজিত জনতা শামীমকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে এবং পরে পুলিশে খবর দিয়ে তাকে হস্তান্তর করে।

অভিযুক্তের অস্বীকার
অভিযোগের মুখে নাম আসা এনামুল হক ইমু চাঁদাবাজির বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, মৎস্য ঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার ছিল। তিনি নিজ উদ্যোগে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন এবং তার ছোট ভাইও এতে সম্পৃক্ত। এ কারণেই তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তার বক্তব্য। তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় একটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের অবস্থান
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাটকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















