০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
ইন্টারনেট ফিরলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণে ইরান, যোগাযোগে ভোগান্তি অব্যাহত আর্কটিকের বরফে হারিয়ে যাওয়া জাহাজের রহস্যে নতুন মোড়, ১৮০ বছর পর শনাক্ত তিন নাবিক এআই চিপের জোয়ারে ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও বাড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা সংকট ভারতে কমিউনিস্ট রাজনীতির পতন, শেষ দুর্গ হারিয়ে নতুন সংকটে বামপন্থীরা রাশিয়া থেকে ৫ লাখ টনের বেশি এমওপি সার আমদানি করবে বাংলাদেশ শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত সকাল ৯টায়, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় প্রস্তুত ঐতিহাসিক ঈদগাহ ঢাকায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ঈদ প্রস্তুতিতে ভোগান্তি বাড়ছে হামে ভয়াবহতা বাড়ছেই, আরও ১০ শিশুর মৃত্যু যুদ্ধ যখন যন্ত্রের গতিতে, রাজনীতি কি তখনও মানুষের থাকবে

রিজিয়া বেগমকে মৃত ভেবেছিল পরিবার, ১৩ দিন পর আঙুলের ছাপে মিলল পরিচয়

দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরলেন সৌদি ফেরত রিজিয়া বেগম। যাঁকে স্বজনরা প্রায় মৃত বলেই ধরে নিয়েছিলেন, সেই রিজিয়াকে ফিরে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েছেন তিন সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা। মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফেরার পর পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় টানা ১৩ দিন অনিশ্চয়তায় কাটে তাঁর জীবন।

উত্তরার একটি মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে রিজিয়াকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য মিলিয়ে নিশ্চিত করা হয় তাঁর পরিচয়। জানা যায়, তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মামদনগর গ্রামে।

কীভাবে মিলল পরিচয়

১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রিজিয়া বেগম। তাঁর কাছে কোনো পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত কাগজপত্র ছিল না। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অবস্থায় তাঁকে বিমানবন্দর থেকে একটি সুরক্ষা কেন্দ্রে রাখা হয়।

পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন সদস্যরা তাঁর আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। সেখানেই মিল পাওয়া যায় তাঁর পরিচয়ের। এভাবেই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।

সৌদি থেকে ফেরার ১৩ দিন পর রিজিয়ার ঘরে ফেরা

 

পরিবারের কান্না, সন্তানের আর্তি

রিজিয়ার মেয়ে লিজা আক্তার জানান, ২০১৯ সালে গ্রামের এক দালালের মাধ্যমে ঢাকার একটি এজেন্সির সহায়তায় তাঁর মা সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই নিয়োগকর্তার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। অভিযোগ জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। ২০২১ সালের পর মায়ের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যরা ধীরে ধীরে ধরে নেন, রিজিয়া আর বেঁচে নেই। ২০২৩ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি। অবশেষে বাড়িতে গিয়ে জানানো হয়, রিজিয়া দেশে ফিরেছেন। লিজা বলেন, নির্যাতনে মায়ের চেহারা এতটাই বদলে গেছে যে চিনতে কষ্ট হচ্ছে। আর মা এখনো কোনো কথা বলছেন না।

প্রথমবার এমন কাজে পিবিআই

পিবিআইর অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, সাধারণত অপরাধী শনাক্তে কাজ করলেও বিদেশফেরত নির্যাতিত নারী কর্মীর পরিচয় শনাক্তে এবারই প্রথম কাজ করেছে সংস্থাটি। মানব পাচার ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

১৩ দিন পর পরিবারের কাছে ফিরলেন সৌদি-ফেরত মানসিক ভারসাম্যহীন নারী | The  Business Standard

আরেক নির্যাতিত নারীর বয়ান

অনুষ্ঠানে রিমা আক্তার নামে সৌদি ফেরত আরেক নারী নিজের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ছোটবেলায় এতিম হয়ে বড় হওয়া এই নারী দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে গত বছরের জুলাই মাসে সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে যান। সেখানে কাজ দেওয়ার বদলে তাঁকে একাধিকবার বিক্রি করা হয় এবং শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

একপর্যায়ে পুলিশে সোপর্দ করা হলে জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। বিচার না পেয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নিরাপদ আবাসন ও চিকিৎসা সহায়তায় রাখা হয়েছে তাঁকে। নিজের ও অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কায় আছেন তিনি।

এই দুটি ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এলো বিদেশে কর্মসংস্থানের আড়ালে মানব পাচার ও নির্যাতনের ভয়াবহ বাস্তবতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্টারনেট ফিরলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণে ইরান, যোগাযোগে ভোগান্তি অব্যাহত

রিজিয়া বেগমকে মৃত ভেবেছিল পরিবার, ১৩ দিন পর আঙুলের ছাপে মিলল পরিচয়

১২:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরলেন সৌদি ফেরত রিজিয়া বেগম। যাঁকে স্বজনরা প্রায় মৃত বলেই ধরে নিয়েছিলেন, সেই রিজিয়াকে ফিরে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েছেন তিন সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা। মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফেরার পর পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় টানা ১৩ দিন অনিশ্চয়তায় কাটে তাঁর জীবন।

উত্তরার একটি মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে রিজিয়াকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য মিলিয়ে নিশ্চিত করা হয় তাঁর পরিচয়। জানা যায়, তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মামদনগর গ্রামে।

কীভাবে মিলল পরিচয়

১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রিজিয়া বেগম। তাঁর কাছে কোনো পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত কাগজপত্র ছিল না। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অবস্থায় তাঁকে বিমানবন্দর থেকে একটি সুরক্ষা কেন্দ্রে রাখা হয়।

পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন সদস্যরা তাঁর আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। সেখানেই মিল পাওয়া যায় তাঁর পরিচয়ের। এভাবেই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।

সৌদি থেকে ফেরার ১৩ দিন পর রিজিয়ার ঘরে ফেরা

 

পরিবারের কান্না, সন্তানের আর্তি

রিজিয়ার মেয়ে লিজা আক্তার জানান, ২০১৯ সালে গ্রামের এক দালালের মাধ্যমে ঢাকার একটি এজেন্সির সহায়তায় তাঁর মা সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই নিয়োগকর্তার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। অভিযোগ জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। ২০২১ সালের পর মায়ের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যরা ধীরে ধীরে ধরে নেন, রিজিয়া আর বেঁচে নেই। ২০২৩ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি। অবশেষে বাড়িতে গিয়ে জানানো হয়, রিজিয়া দেশে ফিরেছেন। লিজা বলেন, নির্যাতনে মায়ের চেহারা এতটাই বদলে গেছে যে চিনতে কষ্ট হচ্ছে। আর মা এখনো কোনো কথা বলছেন না।

প্রথমবার এমন কাজে পিবিআই

পিবিআইর অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, সাধারণত অপরাধী শনাক্তে কাজ করলেও বিদেশফেরত নির্যাতিত নারী কর্মীর পরিচয় শনাক্তে এবারই প্রথম কাজ করেছে সংস্থাটি। মানব পাচার ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

১৩ দিন পর পরিবারের কাছে ফিরলেন সৌদি-ফেরত মানসিক ভারসাম্যহীন নারী | The  Business Standard

আরেক নির্যাতিত নারীর বয়ান

অনুষ্ঠানে রিমা আক্তার নামে সৌদি ফেরত আরেক নারী নিজের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ছোটবেলায় এতিম হয়ে বড় হওয়া এই নারী দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে গত বছরের জুলাই মাসে সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে যান। সেখানে কাজ দেওয়ার বদলে তাঁকে একাধিকবার বিক্রি করা হয় এবং শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

একপর্যায়ে পুলিশে সোপর্দ করা হলে জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। বিচার না পেয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নিরাপদ আবাসন ও চিকিৎসা সহায়তায় রাখা হয়েছে তাঁকে। নিজের ও অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কায় আছেন তিনি।

এই দুটি ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এলো বিদেশে কর্মসংস্থানের আড়ালে মানব পাচার ও নির্যাতনের ভয়াবহ বাস্তবতা।