চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে একটি ফ্ল্যাটে গ্যাস লিক থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরপরই দুইটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।
বিস্ফোরণের পর তদন্তের নির্দেশ
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তাদের।

অন্যদিকে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক কবির উদ্দিন আহমেদ তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোরের বিস্ফোরণে লণ্ডভণ্ড ফ্ল্যাট
সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিশহরের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত নয়জন দগ্ধ হন। তাদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন নূরজাহান আক্তার রানি, বয়স চল্লিশ। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে তার ষোল বছর বয়সী ছেলে শাওন এবং দেবর সামিরও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। রানির শরীরের শতভাগ পুড়ে গিয়েছিল। শাওন ও সামির যথাক্রমে পঞ্চাশ ও পঁয়তাল্লিশ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিলেন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছয়জন
এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন রানির স্বামী সাখাওয়াত হোসেন, মেয়ে উম্মে আইমান স্নিগ্ধা, সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি, তাদের সন্তান আয়েশা ও ফারহান আহমেদ আনাস এবং সাখাওয়াতের ভাই শিপন হোসেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পাখি ও সাখাওয়াতের শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে। শিপনের আশি শতাংশ, আইমানের আটত্রিশ শতাংশ, আয়েশার পঁয়তাল্লিশ শতাংশ এবং আনাসের ত্রিশ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
পরিবারটির বসবাস ও সম্ভাব্য কারণ
সাখাওয়াত হোসেন পেশায় গ্যারেজ মালিক। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন এবং স্ত্রী, সন্তান ও এক কর্মচারীকে নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন। সম্প্রতি তার ছোট ভাই চিকিৎসার জন্য পরিবারসহ সেখানে ওঠেন।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, ফ্ল্যাটের ভেতরে জমে থাকা গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















