চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিভক্ত ফল এসেছে। ১৩ পদের এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল ৬ পদে, বিএনপি সমর্থিত প্যানেল ৫ পদে এবং জামায়াত সমর্থিত প্যানেল ২ পদে জয় পেয়েছে। ফলে সমিতির নেতৃত্বে ভারসাম্যপূর্ণ একটি চিত্র তৈরি হয়েছে।
ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণা
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আইনজীবী সমিতি ভবনে টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সরাসরি ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেন সদস্যরা। বিকেল থেকে গণনা শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মোহা. শামসুদ্দীন প্রাথমিক ফল ঘোষণা করেন।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াই
সভাপতি পদে ৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আব্দুল ওদুদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত আলহাজ নজরুল ইসলাম পান ৭৯ ভোট।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে স্পষ্ট ব্যবধানে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মোহা. আবু হাসিব। তিনি পেয়েছেন ৯৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহা. মাহমুদুল ইসলাম কনক পান ৭৯ ভোট।
কোন প্যানেল কত পদে জয়ী
ঘোষিত ফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্রার্থীরা সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও সিনিয়র সহসভাপতি, সহসাধারণ সম্পাদক দ্বিতীয়, অর্থ সম্পাদক এবং কার্যনির্বাহী সদস্যের দুটি পদে জয়ী হয়েছেন।
বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল সভাপতি পদ ছাড়াও সহসভাপতি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং কার্যনির্বাহী সদস্যের দুটি পদে বিজয় নিশ্চিত করেছে।
জামায়াত সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেল সহসাধারণ সম্পাদক প্রথম ও গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে জয় পেয়েছে।

ভোটার উপস্থিতি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ২২৭ জন। এর মধ্যে ২০৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ১৩টি পদের বিপরীতে তিনটি প্যানেলে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপি সমর্থিত প্যানেল পূর্ণাঙ্গ ১৩ জন প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন করলেও আওয়ামী লীগ ১২ জন এবং জামায়াত ১১ জন প্রার্থী দেয়।
এই ফলাফল থেকে স্পষ্ট, সমিতির ভেতরে একক আধিপত্যের বদলে সমঝোতা ও সমন্বয়ের রাজনীতি সামনে আসতে পারে। আইনজীবী অঙ্গনে রাজনৈতিক ভারসাম্যের নতুন বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















