০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক খরা মোকাবিলার জরুরি পরিকল্পনা প্রকাশে ব্রিটিশ সরকারের ‘নিরাপত্তা’ যুক্তি, বাড়ছে উদ্বেগ ইউরোভিশন ২০২৭: রাজধানী সোফিয়াকে হারিয়ে আয়োজক হচ্ছে কৃষ্ণসাগরের শহর বুর্গাস পরমাণু বোমার আগের হিরোশিমা-নাগাসাকি ফিরিয়ে আনছে মাইনক্রাফটের কর্মশালা সাইনসবুরির দোকানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল শনাক্তকরণ, বন্ধ হলো মুখ স্ক্যান ব্যবস্থা ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’-খ্যাত অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়েরে ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন ভ্রমণে হালকা ব্যাগ? না, বরং বেশি করে সঙ্গে নিন! আফগান নারীদের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু অধিকার রক্ষা নয়, ভবিষ্যৎ আফগানিস্তানকে বাঁচিয়ে রাখা হোয়াইট হাউসের বিশাল বলরুম নির্মাণে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি চাইলেন ট্রাম্প ইরান চুক্তির পথে বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

চীনের চিপ শিল্পে বড় ধাক্কা, মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে থমকে উচ্চক্ষমতার সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দৌড়ে এগোতে চাইলেও চীনের চিপ শিল্প এখন বড় চাপে। উচ্চক্ষমতার সেমিকন্ডাক্টর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে বাধা থাকায় দেশটির উৎপাদন সক্ষমতা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ছে না। বিপুল বিনিয়োগ ও সরকারি প্রণোদনা সত্ত্বেও উন্নত চিপ উৎপাদনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবধান রয়ে গেছে বিস্তর।

চীনের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা সাম্প্রতিক এক সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—সুপারফাস্ট চিপের ঘাটতি তাদের অগ্রযাত্রার প্রধান বাধা।

উৎপাদনে বড় ব্যবধান

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি নির্মাতাদের তুলনায় উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপের খুবই সামান্য অংশ উৎপাদন করতে পারবে। বিশেষ করে মেমোরি চিপে ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স এবং তাইওয়ানের টিএসএমসি আধিপত্য বজায় রেখেছে, সেখানে চীনের উৎপাদন সক্ষমতা এখনও অনেক পিছিয়ে।

মার্কিন নীতির প্রভাব

ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতির ফলে চীনা কোম্পানিগুলো উন্নত চিপ ও চিপ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি কিনতে পারছে না। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসের এএসএমএল নির্মিত যন্ত্র, যা অত্যাধুনিক চিপ উৎপাদনে অপরিহার্য, তা না পাওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

Nvidia's Jensen Huang says he disagrees with almost everything Anthropic CEO Dario Amodei says | Fortune

এই সীমাবদ্ধতার কারণেই চীনা কোম্পানিগুলোর তৈরি চিপ এখনো এনভিডিয়ার সর্বাধুনিক মডেলের সমকক্ষ নয়। যদিও কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো মডেলের সঙ্গে তুলনীয় চিপ বাজারে আনতে সক্ষম হয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো।

স্বনির্ভরতার পথে বেইজিং

এক দশকেরও বেশি সময় আগে চীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলবে। সরকার ইতিমধ্যে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে এই খাতে। হুয়াওয়ে, আলিবাবা, টেনসেন্ট ও বাইটড্যান্সের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা নিজস্ব চিপ নকশা ও উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে।

হুয়াওয়ে বিশেষভাবে রাষ্ট্রের স্বনির্ভরতা কর্মসূচির সঙ্গে নিজেদের কৌশল সামঞ্জস্য করেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপের পর তারা টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ব্যবসায় বড় পরিবর্তন এনে চিপ উন্নয়নে জোর দেয়। তবু বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত প্রযুক্তির মূল উপাদানে বিদেশি নির্ভরতা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা এখনো সম্ভব হয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত পরিবর্তনের ফলে গত ডিসেম্বরে এনভিডিয়ার কিছু উন্নত চিপ চীনা কোম্পানির কাছে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হলেও সামগ্রিক প্রযুক্তিগত ব্যবধান দ্রুত কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

ভবিষ্যৎ পথ কঠিন

চীন এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে। তবে উন্নত যন্ত্রপাতির অভাব, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তিগত জটিলতা মিলিয়ে সামনে পথ সহজ নয়। তবু দেশটির নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক

চীনের চিপ শিল্পে বড় ধাক্কা, মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে থমকে উচ্চক্ষমতার সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন

১২:০১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দৌড়ে এগোতে চাইলেও চীনের চিপ শিল্প এখন বড় চাপে। উচ্চক্ষমতার সেমিকন্ডাক্টর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে বাধা থাকায় দেশটির উৎপাদন সক্ষমতা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ছে না। বিপুল বিনিয়োগ ও সরকারি প্রণোদনা সত্ত্বেও উন্নত চিপ উৎপাদনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবধান রয়ে গেছে বিস্তর।

চীনের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা সাম্প্রতিক এক সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—সুপারফাস্ট চিপের ঘাটতি তাদের অগ্রযাত্রার প্রধান বাধা।

উৎপাদনে বড় ব্যবধান

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি নির্মাতাদের তুলনায় উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপের খুবই সামান্য অংশ উৎপাদন করতে পারবে। বিশেষ করে মেমোরি চিপে ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স এবং তাইওয়ানের টিএসএমসি আধিপত্য বজায় রেখেছে, সেখানে চীনের উৎপাদন সক্ষমতা এখনও অনেক পিছিয়ে।

মার্কিন নীতির প্রভাব

ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতির ফলে চীনা কোম্পানিগুলো উন্নত চিপ ও চিপ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি কিনতে পারছে না। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসের এএসএমএল নির্মিত যন্ত্র, যা অত্যাধুনিক চিপ উৎপাদনে অপরিহার্য, তা না পাওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

Nvidia's Jensen Huang says he disagrees with almost everything Anthropic CEO Dario Amodei says | Fortune

এই সীমাবদ্ধতার কারণেই চীনা কোম্পানিগুলোর তৈরি চিপ এখনো এনভিডিয়ার সর্বাধুনিক মডেলের সমকক্ষ নয়। যদিও কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো মডেলের সঙ্গে তুলনীয় চিপ বাজারে আনতে সক্ষম হয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো।

স্বনির্ভরতার পথে বেইজিং

এক দশকেরও বেশি সময় আগে চীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলবে। সরকার ইতিমধ্যে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে এই খাতে। হুয়াওয়ে, আলিবাবা, টেনসেন্ট ও বাইটড্যান্সের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা নিজস্ব চিপ নকশা ও উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে।

হুয়াওয়ে বিশেষভাবে রাষ্ট্রের স্বনির্ভরতা কর্মসূচির সঙ্গে নিজেদের কৌশল সামঞ্জস্য করেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপের পর তারা টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ব্যবসায় বড় পরিবর্তন এনে চিপ উন্নয়নে জোর দেয়। তবু বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত প্রযুক্তির মূল উপাদানে বিদেশি নির্ভরতা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা এখনো সম্ভব হয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত পরিবর্তনের ফলে গত ডিসেম্বরে এনভিডিয়ার কিছু উন্নত চিপ চীনা কোম্পানির কাছে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হলেও সামগ্রিক প্রযুক্তিগত ব্যবধান দ্রুত কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

ভবিষ্যৎ পথ কঠিন

চীন এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে। তবে উন্নত যন্ত্রপাতির অভাব, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তিগত জটিলতা মিলিয়ে সামনে পথ সহজ নয়। তবু দেশটির নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।