০৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
ভারতের এলপিজি সরবরাহে কৌশলগত দুর্বলতা: আমদানিনির্ভর রান্নাঘরের ঝুঁকি বাড়ছে ইউপিএসসি প্রস্তুতির দীর্ঘ পথ মানসিক চাপে ভেঙে পড়ছেন প্রার্থীরা পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে উত্তেজনা, সংঘর্ষ-গ্রেফতার-সেনা মোতায়েন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক মণিপুরে নতুন করে হত্যাকাণ্ড, দ্রুত তদন্ত ও শান্তি ফেরাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চায় কংগ্রেস বিজেপি মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সীমা পুনর্নির্ধারণ চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল: কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে.সি. ভেনুগোপাল এআইএডিএমকেকে বিজেপির  নিয়ন্ত্রণে : ওদের ভোট দেবেন না -কেজরিওয়াল চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাকচাপায় কিশোর নিহত, দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার বাদ দিতে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’: কেন এই যুক্তি প্রশ্নের মুখে এলসি পতন, বিনিয়োগে স্থবিরতা, বৈশ্বিক চাপ—বাংলাদেশের ব্যবসা এখন বহুমুখী সংকটে যুদ্ধবাজরা ইতিহাসকে সম্পূর্ণ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে

দুবাইয়ে স্বর্ণে নতুন অফার, মেকিং চার্জ কমিয়ে বিক্রি বাড়ানোর কৌশল—অক্ষয় তৃতীয়ায় বাজারে আশার আলো

দুবাইসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে স্বর্ণের বাজারে দেখা যাচ্ছে নতুন এক প্রবণতা। পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপরই নির্ভর করছে বিক্রি, আর সেই কারণে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মেকিং চার্জ কমিয়ে বা অনেক ক্ষেত্রে একেবারে শূন্য করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

বিশেষ করে আসন্ন অক্ষয় তৃতীয়া উৎসবকে ঘিরে এই কৌশল আরও জোরদার হয়েছে। ১৯ এপ্রিল পালিত হতে যাওয়া এই উৎসবকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, চলতি সপ্তাহেই বিক্রি বাড়বে।

স্বর্ণের দামে চাপ, বিক্রিতে ধীরগতি
বর্তমানে স্বর্ণের দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় অনেক ক্রেতা দ্বিধায় রয়েছেন। বাজারে ২৪ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট ও ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম যথাক্রমে গ্রামপ্রতি ৫৭৮, ৫৩৫.২৫ এবং ৫১৩.২৫ দিরহাম পর্যায়ে রয়েছে। উচ্চমূল্যের এই পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি দিতে মেকিং চার্জ কমানোর পথে হাঁটছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের মূল দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে হলেও মেকিং চার্জ কমানো এমন একটি বিষয়, যা ক্রেতাদের মনে কেনার আগ্রহ বাড়ায়। এতে মোট খরচ তুলনামূলক কম মনে হয় এবং দরকষাকষির সুযোগ তৈরি হয়।

Not discounts. How Dubai gold jewellers are trying to attract Indian  shoppers as prices surge 30% in just 4 months - The Economic Times

নির্দিষ্ট পণ্যে বিশেষ ছাড়
সব ধরনের অলঙ্কারে সমানভাবে ছাড় না দিয়ে ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরিতে এই সুবিধা দিচ্ছেন। বিশেষ করে স্টাডেড গয়না ও দৈনন্দিন ব্যবহারের অলঙ্কারে এই ছাড় বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে দ্রুত বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে।

উৎসবকে ঘিরে প্রতিযোগিতা তীব্র
নতুন নতুন ব্র্যান্ড বাজারে প্রবেশ করায় প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে উচ্চ দামের কারণে বিক্রির ধীরগতি। ফলে ব্যবসায়ীরা এখন আরও আকর্ষণীয় অফার দিয়ে বাজারে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।

বাসিন্দারাই বাজারের মূল চালিকাশক্তি
পর্যটক কমে যাওয়ার ফলে এখন স্থানীয় বাসিন্দারাই স্বর্ণ কেনাবেচার প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন। পরিবার, পেশাজীবী এবং দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী প্রবাসীরা নিয়মিতভাবে স্বর্ণ কিনছেন—বিয়ে, উপহার কিংবা ব্যক্তিগত উপলক্ষকে কেন্দ্র করে।

ব্যবসায়ীদের মতে, এই ক্রেতারা হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেন না, বরং পরিকল্পনা করে কেনাকাটা করেন। বিশেষ করে অক্ষয় তৃতীয়ার মতো উৎসব তাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যখন স্বর্ণ কেনা শুভ বলে মনে করা হয়।

The Oil Slump Is Emptying the Stores of Dubai - Bloomberg

দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা শুধু সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পর্যটকনির্ভর বাজার থেকে ধীরে ধীরে স্থানীয় ক্রেতানির্ভর বাজারে রূপান্তর ঘটছে। ফলে ব্যবসায়ীদের কৌশলও সেই অনুযায়ী বদলাতে হচ্ছে।

এই পরিবর্তনের মধ্যেও একটি বিষয় স্পষ্ট—স্বর্ণের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি। বরং নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে বাজার নিজেকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের এলপিজি সরবরাহে কৌশলগত দুর্বলতা: আমদানিনির্ভর রান্নাঘরের ঝুঁকি বাড়ছে

দুবাইয়ে স্বর্ণে নতুন অফার, মেকিং চার্জ কমিয়ে বিক্রি বাড়ানোর কৌশল—অক্ষয় তৃতীয়ায় বাজারে আশার আলো

০৩:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

দুবাইসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে স্বর্ণের বাজারে দেখা যাচ্ছে নতুন এক প্রবণতা। পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপরই নির্ভর করছে বিক্রি, আর সেই কারণে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মেকিং চার্জ কমিয়ে বা অনেক ক্ষেত্রে একেবারে শূন্য করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

বিশেষ করে আসন্ন অক্ষয় তৃতীয়া উৎসবকে ঘিরে এই কৌশল আরও জোরদার হয়েছে। ১৯ এপ্রিল পালিত হতে যাওয়া এই উৎসবকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, চলতি সপ্তাহেই বিক্রি বাড়বে।

স্বর্ণের দামে চাপ, বিক্রিতে ধীরগতি
বর্তমানে স্বর্ণের দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় অনেক ক্রেতা দ্বিধায় রয়েছেন। বাজারে ২৪ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট ও ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম যথাক্রমে গ্রামপ্রতি ৫৭৮, ৫৩৫.২৫ এবং ৫১৩.২৫ দিরহাম পর্যায়ে রয়েছে। উচ্চমূল্যের এই পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি দিতে মেকিং চার্জ কমানোর পথে হাঁটছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের মূল দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে হলেও মেকিং চার্জ কমানো এমন একটি বিষয়, যা ক্রেতাদের মনে কেনার আগ্রহ বাড়ায়। এতে মোট খরচ তুলনামূলক কম মনে হয় এবং দরকষাকষির সুযোগ তৈরি হয়।

Not discounts. How Dubai gold jewellers are trying to attract Indian  shoppers as prices surge 30% in just 4 months - The Economic Times

নির্দিষ্ট পণ্যে বিশেষ ছাড়
সব ধরনের অলঙ্কারে সমানভাবে ছাড় না দিয়ে ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরিতে এই সুবিধা দিচ্ছেন। বিশেষ করে স্টাডেড গয়না ও দৈনন্দিন ব্যবহারের অলঙ্কারে এই ছাড় বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে দ্রুত বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে।

উৎসবকে ঘিরে প্রতিযোগিতা তীব্র
নতুন নতুন ব্র্যান্ড বাজারে প্রবেশ করায় প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে উচ্চ দামের কারণে বিক্রির ধীরগতি। ফলে ব্যবসায়ীরা এখন আরও আকর্ষণীয় অফার দিয়ে বাজারে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।

বাসিন্দারাই বাজারের মূল চালিকাশক্তি
পর্যটক কমে যাওয়ার ফলে এখন স্থানীয় বাসিন্দারাই স্বর্ণ কেনাবেচার প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন। পরিবার, পেশাজীবী এবং দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী প্রবাসীরা নিয়মিতভাবে স্বর্ণ কিনছেন—বিয়ে, উপহার কিংবা ব্যক্তিগত উপলক্ষকে কেন্দ্র করে।

ব্যবসায়ীদের মতে, এই ক্রেতারা হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেন না, বরং পরিকল্পনা করে কেনাকাটা করেন। বিশেষ করে অক্ষয় তৃতীয়ার মতো উৎসব তাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যখন স্বর্ণ কেনা শুভ বলে মনে করা হয়।

The Oil Slump Is Emptying the Stores of Dubai - Bloomberg

দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা শুধু সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পর্যটকনির্ভর বাজার থেকে ধীরে ধীরে স্থানীয় ক্রেতানির্ভর বাজারে রূপান্তর ঘটছে। ফলে ব্যবসায়ীদের কৌশলও সেই অনুযায়ী বদলাতে হচ্ছে।

এই পরিবর্তনের মধ্যেও একটি বিষয় স্পষ্ট—স্বর্ণের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি। বরং নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে বাজার নিজেকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে।