লালমনিরহাটের আদিতমারীতে এক কিশোরকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তের স্বজনদের কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরে নিহত কিশোরের মরদেহ সড়কে রেখে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিচার ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায় বিক্ষোভকারীরা।
নিহত লিয়াকত আলী লাদেন উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের বালাটারী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন।
তুচ্ছ ঘটনাকে ঘিরে রক্তক্ষয়
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সামান্য একটি বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। এক কিশোরের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে সোমবার রাতে সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে একা বসে থাকা অবস্থায় লাদেনের ওপর হামলা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক যুবক পেছন দিক থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যার পর ক্ষোভের বিস্ফোরণ
কিশোরের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার আত্মীয়স্বজনের অন্তত সাতটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। কয়েকটি বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হস্তক্ষেপ করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ
মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী সপ্তীবাড়ী বাজার এলাকায় মরদেহ রেখে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ চলায় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। দ্রুত তদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের বাবার করা মামলার ভিত্তিতে হত্যার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযানও চলছে।
এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















