মানবজাতিকে আবার চাঁদে ফিরিয়ে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নতুন অগ্রগতি দেখাল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটি তাদের পরবর্তী আর্টেমিস-৩ অভিযানের জন্য চার সদস্যের নভোচারী দল ঘোষণা করেছে। এই অভিযানে থাকছেন তিনজন মার্কিন নভোচারী এবং একজন ইতালীয় নভোচারী। আগামী বছরের শেষ দিকে এই মিশন উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আর্টেমিস কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ এই মিশনে প্রথমবারের মতো মহাকাশে দুটি পৃথক চন্দ্রযান প্রযুক্তির পরীক্ষা হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানোর প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
কারা থাকছেন অভিযানে
নাসার ঘোষণায় জানানো হয়েছে, অভিযানের নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ নভোচারী ও সাবেক পরীক্ষামূলক পাইলট র্যান্ডি ব্রেসনিক। তার সঙ্গে থাকবেন আন্দ্রে ডগলাস, ফ্র্যাঙ্ক রুবিও এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ইতালীয় নভোচারী লুকা পারমিতানো।
এই মিশনের মাধ্যমে পারমিতানো আর্টেমিস কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রথম ইউরোপীয় নভোচারী হিসেবে ইতিহাস গড়বেন। এর আগে আর্টেমিস-২ অভিযানে একজন কানাডীয় নভোচারী অংশ নিয়েছিলেন।
চাঁদে নয়, তবু কেন গুরুত্বপূর্ণ
দুই সপ্তাহের এই মিশন চাঁদের কাছাকাছি যাবে না। পুরো কার্যক্রম পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথেই পরিচালিত হবে। তবে এটি ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিযানে নাসার ওরায়ন মহাকাশযানের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে দুটি চন্দ্রযান যুক্ত হবে। মহাকাশে বিভিন্ন যান একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা যাচাই করা হবে।
এই পরীক্ষাগুলো সফল হলে পরবর্তী আর্টেমিস অভিযানে নভোচারীদের চাঁদের পৃষ্ঠে নামানোর পথ আরও সুগম হবে।
মহাকাশে নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা
মিশনের শুরুতে প্রথমে একটি চন্দ্রযান কক্ষপথে পাঠানো হবে। পরে নভোচারীদের নিয়ে ওরায়ন মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হবে। দুটি যান কয়েকদিন একসঙ্গে থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা চালাবে।
এরপর প্রথম চন্দ্রযানটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে দ্বিতীয় চন্দ্রযান এসে ওরায়নের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই পর্যায়েও নতুন প্রযুক্তি ও সংযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে।
পুরো প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানে বিভিন্ন মহাকাশযানের সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করা।
বিলম্ব কাটিয়ে এগোচ্ছে কর্মসূচি

চন্দ্রযান উন্নয়নের ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু বিলম্বের মুখে পড়েছিল সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাসা তাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনে এবং এই কক্ষপথভিত্তিক পরীক্ষামূলক মিশনের সিদ্ধান্ত নেয়।
আগামী ধাপগুলো সফল হলে ২০২৮ সালে চাঁদের মাটিতে নভোচারী অবতরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতালির জন্য বিশেষ অর্জন
লুকা পারমিতানোর অন্তর্ভুক্তি ইতালি এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহাকাশ অনুসন্ধানে ইউরোপের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতার নতুন স্বীকৃতি হিসেবেও এটি বিবেচিত হচ্ছে।
দুইবার মহাকাশ ভ্রমণ করা পারমিতানো দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় মহাকাশ কর্মসূচির অন্যতম পরিচিত মুখ। তার এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন গুরুত্ব বহন করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















