০৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যায়াম হতে পারে কার্যকর: নতুন গবেষণা সরকারের অনুমোদন: মরক্কো থেকে ৬০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি, ডালও কিনছে সরকার ইসলামী ব্যাংকের অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন ব্যাংকাররা, আস্থার সংকটের আশঙ্কা রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২ হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৩৯, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জোর দেওয়ার আহ্বান, আজ আসছে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনঃ ভারতের জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে কমতে শুরু করবে  নতুন বিশ্বব্যবস্থায় চীনের অবস্থান: কূটনীতি, শক্তির ভারসাম্য ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রশ্ন নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান যখন ক্ষমতার যুদ্ধে বন্দি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নজরদারিতে ৭০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল অনুমোদন, ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষা

ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের পাল্টা জবাব, ‘দুর্বল ছাত্রী’ অভিযোগ অস্বীকার; গোপন তহবিল বিতর্কে নতুন চাপ

ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তে নিজের শিক্ষাজীবন নিয়ে ওঠা বিতর্কে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, তিনি কখনোই বিশেষ সহায়তার উপর নির্ভর করে আইন পড়াশোনা শেষ করেননি। সাম্প্রতিক এক শুনানিতে তাকে ‘দুর্বল ছাত্রী’ বলা হলে তিনি এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।

বিতর্কের সূত্রপাত যেভাবে
প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে একটি হলফনামা উপস্থাপন করা হয়, যেখানে দাবি করা হয় যে সারা দুতের্তে আইন শিক্ষায় দুর্বল ছিলেন এবং প্রায়ই পড়াশোনায় সমস্যায় পড়তেন। একই সঙ্গে অভিযোগ তোলা হয়, একজন প্রভাবশালী শিক্ষক তার জন্য পাশ নম্বর নিশ্চিত করেছিলেন।

এই বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আপত্তিকর হলো এই দাবি যে তিনি অন্যের সাহায্যে আইন পাস করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, নিজের যোগ্যতায়ই তিনি পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন এবং কখনো বিশেষ সুবিধা নেননি।

Philippines VP Sara Duterte refutes accusations she was a 'poor student'

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যায় যা বললেন
দুতের্তে বলেন, তার শিক্ষাজীবনে কোনো ধরনের অভিযোগ ছিল না এবং তিনি নিয়ম মেনেই আইন শিক্ষা শেষ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০০৫ সালে তিনি বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং নির্ধারিত পাস নম্বরের চেয়েও বেশি নম্বর অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবনের পটভূমি
শুরুতে তিনি একটি স্বনামধন্য আইন কলেজে পড়াশোনা করলেও পরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হন। এই পরিবর্তনের কারণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে তার শিক্ষাজীবন নিয়েই এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, যা রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

শুনানিতে অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
বিচার কমিটির এক সদস্য মন্তব্য করেন, শুনানিতে উপস্থিত থাকলে ভাইস প্রেসিডেন্ট সরাসরি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দিতে পারতেন। এতে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হতো বলে তিনি মনে করেন।

Philippines VP Sara Duterte Asks Senate to Dismiss Impeachment Case -  Bloomberg

গোপন তহবিল নিয়ে বাড়ছে চাপ
শুধু শিক্ষাজীবন নয়, গোপন ও গোয়েন্দা তহবিল ব্যবহারের বিষয়েও সারা দুতের্তের ওপর চাপ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়েছে। এই অভিযোগও তিনি সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে নিরীক্ষা সংস্থার নির্দেশে কিছু অর্থ ফেরত দেওয়া হলেও, তা চলমান তদন্ত বা অভিশংসন প্রক্রিয়াকে থামাবে না বলে জানানো হয়েছে। বিরোধী জোট স্পষ্টভাবে দাবি করেছে, ভাইস প্রেসিডেন্টকে ব্যাখ্যা করতে হবে কীভাবে শত শত কোটি টাকার গোপন তহবিল ব্যয় করা হয়েছে এবং তা জনস্বার্থে ব্যবহার হয়েছে কি না।

রাজনৈতিক প্রভাব ও সামনে চ্যালেঞ্জ
এই দুই ইস্যু—শিক্ষাজীবন ও তহবিল ব্যবস্থাপনা—দুতের্তের রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। একদিকে ব্যক্তিগত সুনাম রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন—দুই দিকেই তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এই বিতর্ক ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যায়াম হতে পারে কার্যকর: নতুন গবেষণা

ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের পাল্টা জবাব, ‘দুর্বল ছাত্রী’ অভিযোগ অস্বীকার; গোপন তহবিল বিতর্কে নতুন চাপ

০৪:০৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তে নিজের শিক্ষাজীবন নিয়ে ওঠা বিতর্কে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, তিনি কখনোই বিশেষ সহায়তার উপর নির্ভর করে আইন পড়াশোনা শেষ করেননি। সাম্প্রতিক এক শুনানিতে তাকে ‘দুর্বল ছাত্রী’ বলা হলে তিনি এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।

বিতর্কের সূত্রপাত যেভাবে
প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে একটি হলফনামা উপস্থাপন করা হয়, যেখানে দাবি করা হয় যে সারা দুতের্তে আইন শিক্ষায় দুর্বল ছিলেন এবং প্রায়ই পড়াশোনায় সমস্যায় পড়তেন। একই সঙ্গে অভিযোগ তোলা হয়, একজন প্রভাবশালী শিক্ষক তার জন্য পাশ নম্বর নিশ্চিত করেছিলেন।

এই বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আপত্তিকর হলো এই দাবি যে তিনি অন্যের সাহায্যে আইন পাস করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, নিজের যোগ্যতায়ই তিনি পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন এবং কখনো বিশেষ সুবিধা নেননি।

Philippines VP Sara Duterte refutes accusations she was a 'poor student'

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যায় যা বললেন
দুতের্তে বলেন, তার শিক্ষাজীবনে কোনো ধরনের অভিযোগ ছিল না এবং তিনি নিয়ম মেনেই আইন শিক্ষা শেষ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০০৫ সালে তিনি বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং নির্ধারিত পাস নম্বরের চেয়েও বেশি নম্বর অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবনের পটভূমি
শুরুতে তিনি একটি স্বনামধন্য আইন কলেজে পড়াশোনা করলেও পরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হন। এই পরিবর্তনের কারণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে তার শিক্ষাজীবন নিয়েই এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, যা রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

শুনানিতে অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
বিচার কমিটির এক সদস্য মন্তব্য করেন, শুনানিতে উপস্থিত থাকলে ভাইস প্রেসিডেন্ট সরাসরি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দিতে পারতেন। এতে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হতো বলে তিনি মনে করেন।

Philippines VP Sara Duterte Asks Senate to Dismiss Impeachment Case -  Bloomberg

গোপন তহবিল নিয়ে বাড়ছে চাপ
শুধু শিক্ষাজীবন নয়, গোপন ও গোয়েন্দা তহবিল ব্যবহারের বিষয়েও সারা দুতের্তের ওপর চাপ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়েছে। এই অভিযোগও তিনি সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে নিরীক্ষা সংস্থার নির্দেশে কিছু অর্থ ফেরত দেওয়া হলেও, তা চলমান তদন্ত বা অভিশংসন প্রক্রিয়াকে থামাবে না বলে জানানো হয়েছে। বিরোধী জোট স্পষ্টভাবে দাবি করেছে, ভাইস প্রেসিডেন্টকে ব্যাখ্যা করতে হবে কীভাবে শত শত কোটি টাকার গোপন তহবিল ব্যয় করা হয়েছে এবং তা জনস্বার্থে ব্যবহার হয়েছে কি না।

রাজনৈতিক প্রভাব ও সামনে চ্যালেঞ্জ
এই দুই ইস্যু—শিক্ষাজীবন ও তহবিল ব্যবস্থাপনা—দুতের্তের রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। একদিকে ব্যক্তিগত সুনাম রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন—দুই দিকেই তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এই বিতর্ক ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।