মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সামাল দিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ভারত ও ভিয়েতনাম সফরে যাচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে নিজেদের অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখতে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিন দিনের ভারত সফর দিয়ে শুরু
রবিবার ভারত সফরে রওনা হবেন প্রেসিডেন্ট লি। তিন দিনের এই সফরে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বৈঠকে মূলত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।
দুই দেশের নেতারা জাহাজ নির্মাণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পথ খুঁজবেন। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

আঞ্চলিক শান্তি ও কৌশলগত সহযোগিতা
ভারত সফরে কোরীয় উপদ্বীপ এবং বৃহত্তর অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা করবেন লি ও মোদি। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ভিয়েতনাম সফরে নজর জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে
ভারত সফর শেষে মঙ্গলবার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে পৌঁছাবেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট। সেখানে ভিয়েতনামের নেতা তো লামের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
এই বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হবে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হবে।

বৈশ্বিক অস্থিরতায় কৌশল বদল
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়া এখন নতুন কৌশল নিচ্ছে। ভারত ও ভিয়েতনামের মতো অংশীদার দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে সিউল।
এই সফরের মাধ্যমে শুধু জ্বালানি নয়, বরং বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্তও উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















