দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন কঙ্গনা রানাউত। সাহসী সিদ্ধান্ত আর ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বারবার নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। তবে এত দীর্ঘ ক্যারিয়ারেও তাকে এখনও হলিউডে দেখা যায়নি—এবং এখন স্পষ্ট, ভবিষ্যতেও সেই পরিকল্পনা নেই তার।
হলিউড নিয়ে কঙ্গনার স্পষ্ট অবস্থান
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা সরাসরি জানিয়ে দেন, হলিউডে কাজ করার কোনও আগ্রহ তার নেই। তার মতে, হলিউডের বেশিরভাগ সিনেমা একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয়, যেখানে মূলত আমেরিকাকে বড় করে দেখানো হয়।
কঙ্গনার ভাষায়, “আমাদের নিজেদেরও তো একটি ভাবনা থাকা উচিত। অকারণে সেখানে গিয়ে কেন আমেরিকাকে বড় করে দেখাতে হবে?”—এই মন্তব্যে তার দৃষ্টিভঙ্গি আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে।

নিজস্ব ধারায় এগোনোর গল্প
‘কুইন’ সিনেমার সাফল্য হোক বা ‘মণিকর্ণিকা’ ও ‘ইমার্জেন্সি’র মতো ছবিতে পরিচালকের দায়িত্ব নেওয়া—কঙ্গনা সবসময়ই নিজের পথ নিজেই তৈরি করেছেন। নারী-কেন্দ্রিক গল্প থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক চরিত্র, সব ক্ষেত্রেই তিনি নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছেন।
অন্য তারকাদের ভিন্ন ভাবনা
বলিউডের অনেক অভিনেত্রী ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রেখেছেন। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও দীপিকা পাড়ুকোনের মতো তারকারা হলিউডে কাজ করে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
তবে অন্যদিকে, কারিনা কাপুর খানও জানিয়েছেন, তিনি নিজের ভারতীয় চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার নিয়েই সন্তুষ্ট। এক আলোচনায় তিনি বলেন, “আমি আমার ভারতীয় সিনেমা ও অভিনয় নিয়েই খুব খুশি।”
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে আলিয়া ভাটও আন্তর্জাতিক সিনেমায় কাজ শুরু করেছেন এবং একটি বড় বাজেটের গুপ্তচরভিত্তিক ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

বলিউড বনাম হলিউড—চলমান বিতর্ক
এই ভিন্ন ভিন্ন মতামত থেকেই বোঝা যায়, বলিউড তারকাদের মধ্যে হলিউড নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। কেউ বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করতে আগ্রহী, আবার কেউ নিজের দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
কঙ্গনা রানাউতের মন্তব্য এই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে, যেখানে প্রশ্ন উঠছে—আন্তর্জাতিক সাফল্য কি সবসময় প্রয়োজন, নাকি নিজস্ব পরিচয়ই সবচেয়ে বড় শক্তি?
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















