০৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
১৯২৬ সালের ব্রিটিশ সাধারণ ধর্মঘট: ১৭ লাখ শ্রমিকের ঐক্য, তবু কেন পরাজয়ের ইতিহাস ড্রোন যুদ্ধের সূচনা: ১৮৪৯ সালের ভেনিস অবরোধ থেকে আধুনিক যুদ্ধের ভয়াবহ রূপ প্লাস্টিকের আবিষ্কার: ১৯শ শতকের পরীক্ষাগার থেকে ২০শ শতকের বিপ্লব রানি এলিজাবেথ দ্বিতীয়: সাম্রাজ্যের পতন থেকে আধুনিক ব্রিটেন—৭০ বছরের ইতিহাসে এক অটল নেতৃত্ব দাসত্বের অন্ধকার ভেঙে স্বাধীনতার কণ্ঠ: ফ্রেডেরিক ডগলাস ও আমেরিকার অসম স্বাধীনতার গল্প প্রাচীন রোমে ‘কাল্ট’ সংস্কৃতি থেকে খ্রিস্টধর্মের উত্থান: কীভাবে বদলে গেল ধর্মীয় মানচিত্র মধ্যযুগে নোংরা নয়, পরিকল্পিত ছিল টয়লেট ব্যবস্থা—ইউরোপের অজানা পরিচ্ছন্নতার ইতিহাস নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার ১৮.৫৭ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শুরু হলো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা বুরিমারি স্থলবন্দর চার দিন বন্ধ, পশ্চিমবঙ্গের ভোটের প্রভাব

বিশ্বের শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রের তালিকায় আমিরাত, কর্মক্ষেত্রে ৮০ শতাংশের বেশি ব্যবহার

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে নতুন শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক মূল্যায়নে দেশটি শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে, যা প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ার পথে তাদের ধারাবাহিক অগ্রগতিকে আরও স্পষ্ট করে।

বিশ্বমঞ্চে আমিরাতের অবস্থান
আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশল, সচেতনতা এবং শাসন কাঠামোর ক্ষেত্রে আমিরাত শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং প্রতিভা গড়ে তোলার সূচকে দেশটির পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী।

বিশেষ করে মাথাপিছু আয়ের তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যে মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে, তা প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ফলে বৈশ্বিক সক্ষমতার তালিকায় আমিরাত ধারাবাহিকভাবে উপরের সারিতে অবস্থান ধরে রেখেছে।

The UAE ranks among the world's leading AI hubs in the AI Index 2026. -  https://www.dubaistandard.com

কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার
দেশটিতে ৮০ শতাংশেরও বেশি কর্মী নিয়মিতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন। শুধু ব্যবহারই নয়, এই প্রযুক্তির প্রতি তাদের আস্থাও বেশ উচ্চ। ফলে কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

একই সঙ্গে প্রকৌশল দক্ষতায় দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতার বৃদ্ধি সাধারণ সচেতনতার তুলনায় আরও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ উদ্ভাবনের জন্য শক্ত ভিত তৈরি করছে।

প্রতিভা ও কর্মসংস্থানে বড় অগ্রগতি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দক্ষ জনশক্তির ঘনত্ব গত কয়েক বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে দক্ষ জনবল আমিরাতে আকৃষ্ট হচ্ছে, যা দেশটির প্রযুক্তি খাতকে আরও গতিশীল করছে।

চাকরির বাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোট চাকরির বিজ্ঞাপনের উল্লেখযোগ্য অংশই এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট। এতে বোঝা যায়, ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে এই খাত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

UAE ranks among top global AI hubs in Stanford AI Index 2026

শিক্ষায় বাধ্যতামূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
আমিরাত সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুল পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে তথ্য, অ্যালগরিদম, উদ্ভাবন ও নৈতিকতা—সবকিছুর মৌলিক ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গবেষণায় এগিয়ে আবুধাবি
উন্নত প্রযুক্তি গবেষণায়ও আমিরাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে আবুধাবিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগভিত্তিক উদ্ভাবনে বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। নতুন মডেল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।

সব মিলিয়ে কৌশলগত পরিকল্পনা, শিক্ষা সংস্কার, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং গবেষণায় বিনিয়োগ—এই চার স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আমিরাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৯২৬ সালের ব্রিটিশ সাধারণ ধর্মঘট: ১৭ লাখ শ্রমিকের ঐক্য, তবু কেন পরাজয়ের ইতিহাস

বিশ্বের শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রের তালিকায় আমিরাত, কর্মক্ষেত্রে ৮০ শতাংশের বেশি ব্যবহার

০৩:৫৩:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে নতুন শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক মূল্যায়নে দেশটি শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে, যা প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ার পথে তাদের ধারাবাহিক অগ্রগতিকে আরও স্পষ্ট করে।

বিশ্বমঞ্চে আমিরাতের অবস্থান
আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশল, সচেতনতা এবং শাসন কাঠামোর ক্ষেত্রে আমিরাত শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং প্রতিভা গড়ে তোলার সূচকে দেশটির পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী।

বিশেষ করে মাথাপিছু আয়ের তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যে মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে, তা প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ফলে বৈশ্বিক সক্ষমতার তালিকায় আমিরাত ধারাবাহিকভাবে উপরের সারিতে অবস্থান ধরে রেখেছে।

The UAE ranks among the world's leading AI hubs in the AI Index 2026. -  https://www.dubaistandard.com

কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার
দেশটিতে ৮০ শতাংশেরও বেশি কর্মী নিয়মিতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন। শুধু ব্যবহারই নয়, এই প্রযুক্তির প্রতি তাদের আস্থাও বেশ উচ্চ। ফলে কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

একই সঙ্গে প্রকৌশল দক্ষতায় দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতার বৃদ্ধি সাধারণ সচেতনতার তুলনায় আরও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ উদ্ভাবনের জন্য শক্ত ভিত তৈরি করছে।

প্রতিভা ও কর্মসংস্থানে বড় অগ্রগতি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দক্ষ জনশক্তির ঘনত্ব গত কয়েক বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে দক্ষ জনবল আমিরাতে আকৃষ্ট হচ্ছে, যা দেশটির প্রযুক্তি খাতকে আরও গতিশীল করছে।

চাকরির বাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোট চাকরির বিজ্ঞাপনের উল্লেখযোগ্য অংশই এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট। এতে বোঝা যায়, ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে এই খাত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

UAE ranks among top global AI hubs in Stanford AI Index 2026

শিক্ষায় বাধ্যতামূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
আমিরাত সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুল পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে তথ্য, অ্যালগরিদম, উদ্ভাবন ও নৈতিকতা—সবকিছুর মৌলিক ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গবেষণায় এগিয়ে আবুধাবি
উন্নত প্রযুক্তি গবেষণায়ও আমিরাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে আবুধাবিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগভিত্তিক উদ্ভাবনে বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। নতুন মডেল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।

সব মিলিয়ে কৌশলগত পরিকল্পনা, শিক্ষা সংস্কার, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং গবেষণায় বিনিয়োগ—এই চার স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আমিরাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।