১০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
একজন ট্রিলিয়নিয়ার বনাম ৪৯% দরিদ্র মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান লুকানো পেটের চর্বি হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত বুড়িয়ে দিতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা মানুষের শিশুর মতোই গান শেখে তরুণ ফিঞ্চ পাখি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩ নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই, বললেন নাইমাল খাওয়ার তালেবান শাসনে আফগানিস্তান: বিবাহবিচ্ছেদ থেকে স্মার্টফোন, সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের ছায়া ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বতে লাইন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ‘এটা তো বিনোদনকেন্দ্র নয়’ আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ বদলে যাচ্ছে, বড় ঝুঁকিতে পাকিস্তানের শিল্প-বাণিজ্য

উচ্চতা বাড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার, মাসের পর মাস যন্ত্রণা—তবু থামছেন না তরুণরা

নিজের উচ্চতা নিয়ে অস্বস্তি, হীনমন্যতা আর সামাজিক চাপ—এই ত্রিভুজের ভেতর আটকে গিয়ে এখন অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ঝুঁকিপূর্ণ উচ্চতা বৃদ্ধির অস্ত্রোপচার। সুস্থ পায়ের হাড় ভেঙে ধীরে ধীরে লম্বা করার এই প্রক্রিয়া শুধু ব্যয়বহুলই নয়, এতে রয়েছে সংক্রমণ, স্নায়ু ক্ষতি, হাড় না জোড়া লাগার মতো গুরুতর ঝুঁকি। তবু কয়েক ইঞ্চি লম্বা হওয়ার আশায় মাসের পর মাস ব্যথা সহ্য করছেন অনেকে।

উচ্চতা নিয়ে অস্বস্তির গল্প

হিউস্টনের তরুণ প্রকৌশল শিক্ষার্থী অ্যারন ট্রিনের উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। কৈশোর পেরোনোর পর থেকেই তিনি নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করতেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়ালে নিজেকে ছোট মনে হতো। সামাজিক মাধ্যমে উচ্চতা বৃদ্ধির অস্ত্রোপচারের ভিডিও দেখার পর তাঁর আগ্রহ বাড়ে।

এই অস্ত্রোপচারে উরুর হাড় ভেঙে ভেতরে বিশেষ যন্ত্র বসানো হয়। অস্ত্রোপচারের এক সপ্তাহ পর থেকে বাইরের চৌম্বক যন্ত্রের সাহায্যে প্রতিদিন অল্প অল্প করে হাড়ের দূরত্ব বাড়ানো হয়। কয়েক মাস ধরে চলতে থাকে এই প্রক্রিয়া।

ঝুঁকি, খরচ ও মানসিক দ্বন্দ্ব

এই অস্ত্রোপচারের খরচ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সত্তর হাজার থেকে দেড় লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বীমা সাধারণত কসমেটিক কারণে এই খরচ বহন করে না। ফলে অনেকেই বিদেশে কম খরচে চিকিৎসা নিতে যান। তবে সেখানেও ঝুঁকি কম নয়।

Leg-lengthening: The people having surgery to be a bit taller

অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. ড্রর প্যালি বলেন, রোগীরা অনেক সময় বেশি লম্বা হওয়ার লোভে কার্যক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিও নিতে চান। চিকিৎসকের দায়িত্ব সেখানে কঠোর থাকা।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চতা নিয়ে অস্বস্তি অনেক সময় শৈশবের অভিজ্ঞতা, পরিবেশ বা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। কারও ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার মানসিক স্বস্তি দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নিয়ে এখনও পর্যাপ্ত গবেষণা নেই।

অস্ত্রোপচারের কঠিন পথ

অ্যারন ট্রিন অস্ত্রোপচারের পর কয়েক মাস হোটেলে থেকে নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথম দিকে তীব্র ব্যথা, ঘুমের সমস্যা, পরে স্নায়ুজনিত জ্বালাপোড়া—সবই সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। এক পর্যায়ে বাম পায়ে অসহনীয় জ্বালা শুরু হলে তিনি প্রক্রিয়া থামান। কয়েক দিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার শুরু করেন।

তিন মাসে প্রায় তিন ইঞ্চি উচ্চতা বাড়ে তাঁর। পাঁচ মাস পর তিনি পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি উচ্চতায় পৌঁছান, যা যুক্তরাষ্ট্রের গড় উচ্চতার কাছাকাছি। যদিও এখনও তাঁর পায়ে কিছু অবশ ভাব রয়ে গেছে, যা স্থায়ীও হতে পারে।

বিতর্কিত কিন্তু বাড়ছে আগ্রহ

গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ক্লিনিক জানিয়েছে, উচ্চতা বৃদ্ধির অস্ত্রোপচারে আগ্রহ বেড়েছে। নতুন প্রযুক্তি আসায় প্রক্রিয়াটি তুলনামূলক সহজ হয়েছে, কিন্তু ঝুঁকি রয়ে গেছে। ব্রিটেনের এক শিশু হাসপাতাল সম্প্রতি নিম্নমানের চিকিৎসার জন্য ক্ষমা চেয়েছে, যেখানে বহু রোগী দীর্ঘস্থায়ী জটিলতায় ভুগছেন।

তবু যারা এই পথে হাঁটছেন, তাঁদের অনেকেই বলছেন—মনের ভেতরের দীর্ঘদিনের অস্বস্তি দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত। অ্যারনের ভাষায়, “মাথার ভেতরের খোঁচাটা এখন আর নেই। নিজেকে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

একজন ট্রিলিয়নিয়ার বনাম ৪৯% দরিদ্র

উচ্চতা বাড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার, মাসের পর মাস যন্ত্রণা—তবু থামছেন না তরুণরা

০৪:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজের উচ্চতা নিয়ে অস্বস্তি, হীনমন্যতা আর সামাজিক চাপ—এই ত্রিভুজের ভেতর আটকে গিয়ে এখন অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ঝুঁকিপূর্ণ উচ্চতা বৃদ্ধির অস্ত্রোপচার। সুস্থ পায়ের হাড় ভেঙে ধীরে ধীরে লম্বা করার এই প্রক্রিয়া শুধু ব্যয়বহুলই নয়, এতে রয়েছে সংক্রমণ, স্নায়ু ক্ষতি, হাড় না জোড়া লাগার মতো গুরুতর ঝুঁকি। তবু কয়েক ইঞ্চি লম্বা হওয়ার আশায় মাসের পর মাস ব্যথা সহ্য করছেন অনেকে।

উচ্চতা নিয়ে অস্বস্তির গল্প

হিউস্টনের তরুণ প্রকৌশল শিক্ষার্থী অ্যারন ট্রিনের উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। কৈশোর পেরোনোর পর থেকেই তিনি নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করতেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়ালে নিজেকে ছোট মনে হতো। সামাজিক মাধ্যমে উচ্চতা বৃদ্ধির অস্ত্রোপচারের ভিডিও দেখার পর তাঁর আগ্রহ বাড়ে।

এই অস্ত্রোপচারে উরুর হাড় ভেঙে ভেতরে বিশেষ যন্ত্র বসানো হয়। অস্ত্রোপচারের এক সপ্তাহ পর থেকে বাইরের চৌম্বক যন্ত্রের সাহায্যে প্রতিদিন অল্প অল্প করে হাড়ের দূরত্ব বাড়ানো হয়। কয়েক মাস ধরে চলতে থাকে এই প্রক্রিয়া।

ঝুঁকি, খরচ ও মানসিক দ্বন্দ্ব

এই অস্ত্রোপচারের খরচ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সত্তর হাজার থেকে দেড় লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বীমা সাধারণত কসমেটিক কারণে এই খরচ বহন করে না। ফলে অনেকেই বিদেশে কম খরচে চিকিৎসা নিতে যান। তবে সেখানেও ঝুঁকি কম নয়।

Leg-lengthening: The people having surgery to be a bit taller

অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. ড্রর প্যালি বলেন, রোগীরা অনেক সময় বেশি লম্বা হওয়ার লোভে কার্যক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিও নিতে চান। চিকিৎসকের দায়িত্ব সেখানে কঠোর থাকা।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চতা নিয়ে অস্বস্তি অনেক সময় শৈশবের অভিজ্ঞতা, পরিবেশ বা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। কারও ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার মানসিক স্বস্তি দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নিয়ে এখনও পর্যাপ্ত গবেষণা নেই।

অস্ত্রোপচারের কঠিন পথ

অ্যারন ট্রিন অস্ত্রোপচারের পর কয়েক মাস হোটেলে থেকে নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথম দিকে তীব্র ব্যথা, ঘুমের সমস্যা, পরে স্নায়ুজনিত জ্বালাপোড়া—সবই সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। এক পর্যায়ে বাম পায়ে অসহনীয় জ্বালা শুরু হলে তিনি প্রক্রিয়া থামান। কয়েক দিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার শুরু করেন।

তিন মাসে প্রায় তিন ইঞ্চি উচ্চতা বাড়ে তাঁর। পাঁচ মাস পর তিনি পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি উচ্চতায় পৌঁছান, যা যুক্তরাষ্ট্রের গড় উচ্চতার কাছাকাছি। যদিও এখনও তাঁর পায়ে কিছু অবশ ভাব রয়ে গেছে, যা স্থায়ীও হতে পারে।

বিতর্কিত কিন্তু বাড়ছে আগ্রহ

গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ক্লিনিক জানিয়েছে, উচ্চতা বৃদ্ধির অস্ত্রোপচারে আগ্রহ বেড়েছে। নতুন প্রযুক্তি আসায় প্রক্রিয়াটি তুলনামূলক সহজ হয়েছে, কিন্তু ঝুঁকি রয়ে গেছে। ব্রিটেনের এক শিশু হাসপাতাল সম্প্রতি নিম্নমানের চিকিৎসার জন্য ক্ষমা চেয়েছে, যেখানে বহু রোগী দীর্ঘস্থায়ী জটিলতায় ভুগছেন।

তবু যারা এই পথে হাঁটছেন, তাঁদের অনেকেই বলছেন—মনের ভেতরের দীর্ঘদিনের অস্বস্তি দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত। অ্যারনের ভাষায়, “মাথার ভেতরের খোঁচাটা এখন আর নেই। নিজেকে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে।”