০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান টানাপোড়েনে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন সংকট ইরান পরিস্থিতি ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা, পাকিস্তানে যাচ্ছেন উইটকফ ও কুশনার সবুজ প্রতিশ্রুতির রাজনীতি: কথার চেয়ে কাজে কতটা এগোবে বাংলা? ‘জয় বাংলা’ বলা নিষিদ্ধ কোথায়—প্রশ্ন তুলে ইমির মুক্তির দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে প্রতিবাদ কলকাতার অভিজাত রাশবিহারী কেন্দ্রে বিজেপির মতাদর্শিক মুখ বনাম তৃণমূলের অভিজ্ঞ যোদ্ধা—জমে উঠেছে লড়াই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ নিয়ে বিতর্ক: ১ কোটি টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার, আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার রিফাতের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাইবার প্রতারণা দমনে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া পদক্ষেপ, কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা ৩০ বছরের চুক্তির শেষ বছরে গঙ্গা ইস্যু, নতুন বাস্তবতায় সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ রাতের বাসযাত্রা থেকে নিখোঁজ, ১২ ঘণ্টা পর কুমিল্লার ফুটপাতে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ মিছিল নিয়ে তেল পাম্পে হামলা: শৃঙ্খলা ফেরাতে গিয়ে ইউএনওর ওপর আক্রমণ, অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

উচ্চতা বাড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার, মাসের পর মাস যন্ত্রণা—তবু থামছেন না তরুণরা

নিজের উচ্চতা নিয়ে অস্বস্তি, হীনমন্যতা আর সামাজিক চাপ—এই ত্রিভুজের ভেতর আটকে গিয়ে এখন অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ঝুঁকিপূর্ণ উচ্চতা বৃদ্ধির অস্ত্রোপচার। সুস্থ পায়ের হাড় ভেঙে ধীরে ধীরে লম্বা করার এই প্রক্রিয়া শুধু ব্যয়বহুলই নয়, এতে রয়েছে সংক্রমণ, স্নায়ু ক্ষতি, হাড় না জোড়া লাগার মতো গুরুতর ঝুঁকি। তবু কয়েক ইঞ্চি লম্বা হওয়ার আশায় মাসের পর মাস ব্যথা সহ্য করছেন অনেকে।

উচ্চতা নিয়ে অস্বস্তির গল্প

হিউস্টনের তরুণ প্রকৌশল শিক্ষার্থী অ্যারন ট্রিনের উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। কৈশোর পেরোনোর পর থেকেই তিনি নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করতেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়ালে নিজেকে ছোট মনে হতো। সামাজিক মাধ্যমে উচ্চতা বৃদ্ধির অস্ত্রোপচারের ভিডিও দেখার পর তাঁর আগ্রহ বাড়ে।

এই অস্ত্রোপচারে উরুর হাড় ভেঙে ভেতরে বিশেষ যন্ত্র বসানো হয়। অস্ত্রোপচারের এক সপ্তাহ পর থেকে বাইরের চৌম্বক যন্ত্রের সাহায্যে প্রতিদিন অল্প অল্প করে হাড়ের দূরত্ব বাড়ানো হয়। কয়েক মাস ধরে চলতে থাকে এই প্রক্রিয়া।

ঝুঁকি, খরচ ও মানসিক দ্বন্দ্ব

এই অস্ত্রোপচারের খরচ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সত্তর হাজার থেকে দেড় লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বীমা সাধারণত কসমেটিক কারণে এই খরচ বহন করে না। ফলে অনেকেই বিদেশে কম খরচে চিকিৎসা নিতে যান। তবে সেখানেও ঝুঁকি কম নয়।

Leg-lengthening: The people having surgery to be a bit taller

অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. ড্রর প্যালি বলেন, রোগীরা অনেক সময় বেশি লম্বা হওয়ার লোভে কার্যক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিও নিতে চান। চিকিৎসকের দায়িত্ব সেখানে কঠোর থাকা।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চতা নিয়ে অস্বস্তি অনেক সময় শৈশবের অভিজ্ঞতা, পরিবেশ বা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। কারও ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার মানসিক স্বস্তি দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নিয়ে এখনও পর্যাপ্ত গবেষণা নেই।

অস্ত্রোপচারের কঠিন পথ

অ্যারন ট্রিন অস্ত্রোপচারের পর কয়েক মাস হোটেলে থেকে নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথম দিকে তীব্র ব্যথা, ঘুমের সমস্যা, পরে স্নায়ুজনিত জ্বালাপোড়া—সবই সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। এক পর্যায়ে বাম পায়ে অসহনীয় জ্বালা শুরু হলে তিনি প্রক্রিয়া থামান। কয়েক দিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার শুরু করেন।

তিন মাসে প্রায় তিন ইঞ্চি উচ্চতা বাড়ে তাঁর। পাঁচ মাস পর তিনি পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি উচ্চতায় পৌঁছান, যা যুক্তরাষ্ট্রের গড় উচ্চতার কাছাকাছি। যদিও এখনও তাঁর পায়ে কিছু অবশ ভাব রয়ে গেছে, যা স্থায়ীও হতে পারে।

বিতর্কিত কিন্তু বাড়ছে আগ্রহ

গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ক্লিনিক জানিয়েছে, উচ্চতা বৃদ্ধির অস্ত্রোপচারে আগ্রহ বেড়েছে। নতুন প্রযুক্তি আসায় প্রক্রিয়াটি তুলনামূলক সহজ হয়েছে, কিন্তু ঝুঁকি রয়ে গেছে। ব্রিটেনের এক শিশু হাসপাতাল সম্প্রতি নিম্নমানের চিকিৎসার জন্য ক্ষমা চেয়েছে, যেখানে বহু রোগী দীর্ঘস্থায়ী জটিলতায় ভুগছেন।

তবু যারা এই পথে হাঁটছেন, তাঁদের অনেকেই বলছেন—মনের ভেতরের দীর্ঘদিনের অস্বস্তি দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত। অ্যারনের ভাষায়, “মাথার ভেতরের খোঁচাটা এখন আর নেই। নিজেকে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে।”

হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান টানাপোড়েনে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন সংকট

উচ্চতা বাড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার, মাসের পর মাস যন্ত্রণা—তবু থামছেন না তরুণরা

০৪:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজের উচ্চতা নিয়ে অস্বস্তি, হীনমন্যতা আর সামাজিক চাপ—এই ত্রিভুজের ভেতর আটকে গিয়ে এখন অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ঝুঁকিপূর্ণ উচ্চতা বৃদ্ধির অস্ত্রোপচার। সুস্থ পায়ের হাড় ভেঙে ধীরে ধীরে লম্বা করার এই প্রক্রিয়া শুধু ব্যয়বহুলই নয়, এতে রয়েছে সংক্রমণ, স্নায়ু ক্ষতি, হাড় না জোড়া লাগার মতো গুরুতর ঝুঁকি। তবু কয়েক ইঞ্চি লম্বা হওয়ার আশায় মাসের পর মাস ব্যথা সহ্য করছেন অনেকে।

উচ্চতা নিয়ে অস্বস্তির গল্প

হিউস্টনের তরুণ প্রকৌশল শিক্ষার্থী অ্যারন ট্রিনের উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। কৈশোর পেরোনোর পর থেকেই তিনি নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করতেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়ালে নিজেকে ছোট মনে হতো। সামাজিক মাধ্যমে উচ্চতা বৃদ্ধির অস্ত্রোপচারের ভিডিও দেখার পর তাঁর আগ্রহ বাড়ে।

এই অস্ত্রোপচারে উরুর হাড় ভেঙে ভেতরে বিশেষ যন্ত্র বসানো হয়। অস্ত্রোপচারের এক সপ্তাহ পর থেকে বাইরের চৌম্বক যন্ত্রের সাহায্যে প্রতিদিন অল্প অল্প করে হাড়ের দূরত্ব বাড়ানো হয়। কয়েক মাস ধরে চলতে থাকে এই প্রক্রিয়া।

ঝুঁকি, খরচ ও মানসিক দ্বন্দ্ব

এই অস্ত্রোপচারের খরচ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সত্তর হাজার থেকে দেড় লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বীমা সাধারণত কসমেটিক কারণে এই খরচ বহন করে না। ফলে অনেকেই বিদেশে কম খরচে চিকিৎসা নিতে যান। তবে সেখানেও ঝুঁকি কম নয়।

Leg-lengthening: The people having surgery to be a bit taller

অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. ড্রর প্যালি বলেন, রোগীরা অনেক সময় বেশি লম্বা হওয়ার লোভে কার্যক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিও নিতে চান। চিকিৎসকের দায়িত্ব সেখানে কঠোর থাকা।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চতা নিয়ে অস্বস্তি অনেক সময় শৈশবের অভিজ্ঞতা, পরিবেশ বা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। কারও ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার মানসিক স্বস্তি দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নিয়ে এখনও পর্যাপ্ত গবেষণা নেই।

অস্ত্রোপচারের কঠিন পথ

অ্যারন ট্রিন অস্ত্রোপচারের পর কয়েক মাস হোটেলে থেকে নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথম দিকে তীব্র ব্যথা, ঘুমের সমস্যা, পরে স্নায়ুজনিত জ্বালাপোড়া—সবই সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। এক পর্যায়ে বাম পায়ে অসহনীয় জ্বালা শুরু হলে তিনি প্রক্রিয়া থামান। কয়েক দিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার শুরু করেন।

তিন মাসে প্রায় তিন ইঞ্চি উচ্চতা বাড়ে তাঁর। পাঁচ মাস পর তিনি পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি উচ্চতায় পৌঁছান, যা যুক্তরাষ্ট্রের গড় উচ্চতার কাছাকাছি। যদিও এখনও তাঁর পায়ে কিছু অবশ ভাব রয়ে গেছে, যা স্থায়ীও হতে পারে।

বিতর্কিত কিন্তু বাড়ছে আগ্রহ

গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ক্লিনিক জানিয়েছে, উচ্চতা বৃদ্ধির অস্ত্রোপচারে আগ্রহ বেড়েছে। নতুন প্রযুক্তি আসায় প্রক্রিয়াটি তুলনামূলক সহজ হয়েছে, কিন্তু ঝুঁকি রয়ে গেছে। ব্রিটেনের এক শিশু হাসপাতাল সম্প্রতি নিম্নমানের চিকিৎসার জন্য ক্ষমা চেয়েছে, যেখানে বহু রোগী দীর্ঘস্থায়ী জটিলতায় ভুগছেন।

তবু যারা এই পথে হাঁটছেন, তাঁদের অনেকেই বলছেন—মনের ভেতরের দীর্ঘদিনের অস্বস্তি দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত। অ্যারনের ভাষায়, “মাথার ভেতরের খোঁচাটা এখন আর নেই। নিজেকে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে।”