ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় এক ছাত্রীকে ঘরে আটকে রেখে মারধর ও গরম পানি ঢেলে হাত পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইসলামনগর এলাকায় ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন যে, তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তারিকুল ইসলাম এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে উত্তেজনা
ভুক্তভোগীর বিভাগের এক নারী শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীর সঙ্গে অভিযুক্তের আগে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, যা পরবর্তীতে ভেঙে যায়। মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীটির হলের সামনে গিয়ে শেষবারের মতো কথা বলার কথা বলে তাকে নিজের বাসায় যাওয়ার জন্য চাপ দেন।

শিক্ষার্থী রাজি না হলে বিভিন্নভাবে তাকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ইফতারের কিছু জিনিস নেওয়ার অজুহাতে ছাত্রীটি অভিযুক্তের ফ্ল্যাটে যান।
ঘরে আটকে মারধর, হাতে গরম পানি
অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্ল্যাটে পৌঁছানোর পর তার মুখে টেপ লাগিয়ে মারধর করা হয় এবং হাতে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়। এতে তার হাতে তিন থেকে চার সেন্টিমিটার জায়গাজুড়ে দগ্ধ হয়।
নির্যাতনের সময় ছাত্রীটি যখন পোড়া স্থানের জন্য ওষুধ কিনতে বাইরে যেতে চান, তখন কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
চিকিৎসা ও তদন্তের অগ্রগতি

প্রথমে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. তানভীর হোসেন জানান, দগ্ধ স্থানের আকার তিন থেকে চার সেন্টিমিটার। তাদের কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ বার্ন চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় তাকে সাভারে পাঠানো হয়েছে।
প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেন, ঘটনাটি সাবেক এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে জানা গেছে। এখনো পর্যন্ত তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। এটি ব্যক্তিগত বিষয় হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















