০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
ইন্টারনেট ফিরলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণে ইরান, যোগাযোগে ভোগান্তি অব্যাহত আর্কটিকের বরফে হারিয়ে যাওয়া জাহাজের রহস্যে নতুন মোড়, ১৮০ বছর পর শনাক্ত তিন নাবিক এআই চিপের জোয়ারে ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও বাড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা সংকট ভারতে কমিউনিস্ট রাজনীতির পতন, শেষ দুর্গ হারিয়ে নতুন সংকটে বামপন্থীরা রাশিয়া থেকে ৫ লাখ টনের বেশি এমওপি সার আমদানি করবে বাংলাদেশ শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত সকাল ৯টায়, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় প্রস্তুত ঐতিহাসিক ঈদগাহ ঢাকায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ঈদ প্রস্তুতিতে ভোগান্তি বাড়ছে হামে ভয়াবহতা বাড়ছেই, আরও ১০ শিশুর মৃত্যু যুদ্ধ যখন যন্ত্রের গতিতে, রাজনীতি কি তখনও মানুষের থাকবে

হাতিরঝিলে নির্মাণাধীন ভবনে শিশুর লাশ, থানা ঘেরাওয়ের পর হত্যা মামলা

রাজধানীর হাতিরঝিলের পশ্চিম উলন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গা থেকে ছয় বছরের কন্যাশিশু তাহেদী আক্তারের মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ঘেরাও করলে পুলিশ শেষ পর্যন্ত হত্যা মামলা গ্রহণ করে।

ঘটনার বিবরণ

পরিবারের সদস্যরা জানান, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা লিটন মিয়ার মেয়ে তাহেদী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে ইফতার শেষে রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসার বাইরে খেলতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়।

পরিবার ও এলাকাবাসী দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর গভীর রাতে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য রাখা গর্তে জমে থাকা পানির ভেতর থেকে শিশুটির নিথর দেহ দেখতে পান। রাত একটার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লিফটের ফাঁকা স্থানে শিশুর মরদেহ, বিচার চেয়ে হাতিরঝিল থানা ঘেরাও

হত্যার অভিযোগ ও জনতার বিক্ষোভ

নিহতের চাচা স্বপন মিয়া দাবি করেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাহেদীর মুখে বিস্কুটের গুঁড়া ছিল, কিন্তু পেটে কোনো পানি পাওয়া যায়নি। তাদের যুক্তি, পানিতে ডুবে মৃত্যু হলে পেটে পানি থাকার কথা। এই তথ্য থেকেই তারা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করছেন।

স্বজনদের অভিযোগ, মামলা নিতে গেলে পুলিশ শুরুতে গড়িমসি করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাত নয়টার দিকে শত শত এলাকাবাসী হাতিরঝিল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে রাত এগারোটার দিকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা নেয় পুলিশ।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত

এলাকাবাসীর চাপে নির্মাণাধীন ভবনের দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। তাদের আশঙ্কা, শিশুটির মুখ চেপে ধরে হত্যা করে পরে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মর্তুজা জানান, শিশুটির শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিবারের দায়ের করা হত্যা মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হলে ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্টারনেট ফিরলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণে ইরান, যোগাযোগে ভোগান্তি অব্যাহত

হাতিরঝিলে নির্মাণাধীন ভবনে শিশুর লাশ, থানা ঘেরাওয়ের পর হত্যা মামলা

১১:০০:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর হাতিরঝিলের পশ্চিম উলন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গা থেকে ছয় বছরের কন্যাশিশু তাহেদী আক্তারের মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ঘেরাও করলে পুলিশ শেষ পর্যন্ত হত্যা মামলা গ্রহণ করে।

ঘটনার বিবরণ

পরিবারের সদস্যরা জানান, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা লিটন মিয়ার মেয়ে তাহেদী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে ইফতার শেষে রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসার বাইরে খেলতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়।

পরিবার ও এলাকাবাসী দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর গভীর রাতে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য রাখা গর্তে জমে থাকা পানির ভেতর থেকে শিশুটির নিথর দেহ দেখতে পান। রাত একটার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লিফটের ফাঁকা স্থানে শিশুর মরদেহ, বিচার চেয়ে হাতিরঝিল থানা ঘেরাও

হত্যার অভিযোগ ও জনতার বিক্ষোভ

নিহতের চাচা স্বপন মিয়া দাবি করেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাহেদীর মুখে বিস্কুটের গুঁড়া ছিল, কিন্তু পেটে কোনো পানি পাওয়া যায়নি। তাদের যুক্তি, পানিতে ডুবে মৃত্যু হলে পেটে পানি থাকার কথা। এই তথ্য থেকেই তারা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করছেন।

স্বজনদের অভিযোগ, মামলা নিতে গেলে পুলিশ শুরুতে গড়িমসি করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাত নয়টার দিকে শত শত এলাকাবাসী হাতিরঝিল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে রাত এগারোটার দিকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা নেয় পুলিশ।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত

এলাকাবাসীর চাপে নির্মাণাধীন ভবনের দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। তাদের আশঙ্কা, শিশুটির মুখ চেপে ধরে হত্যা করে পরে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মর্তুজা জানান, শিশুটির শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিবারের দায়ের করা হত্যা মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হলে ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে।