বরগুনার পাথরঘাটায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার একটি ট্রলারের ইঞ্জিন চুরির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জসীম উদ্দীন মৃধার বিরুদ্ধে। সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের ইঞ্জিন মাত্র ১১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মালিক। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ইঞ্জিন জব্দ, ভাঙারির দোকানে মিলল সন্ধান
বুধবার দুপুর দুইটার দিকে পাথরঘাটা পৌরশহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ভাঙারির দোকান থেকে ইঞ্জিনটি জব্দ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগের রাতেই উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফারহাট বাজার এলাকা থেকে ইঞ্জিনটি চুরি হয়। পরে খোঁজ নিতে গিয়ে মালিক ভাঙারির দোকানে নিজের ইঞ্জিন শনাক্ত করেন।
মালিকের দাবি, সিসি ক্যামেরায় দেখা গেছে
ইঞ্জিনের মালিক আলমগীর খলিফা জানান, কিছুদিন আগে তিনি তার ট্রলারের জন্য দুটি ইঞ্জিন কিনেছিলেন। একটি ট্রলারে বসানো হয়, অন্যটি আকারে ছোট হওয়ায় সংরক্ষণ করে রাখা ছিল। সকালে কর্মচারীর ফোনে জানতে পারেন ইঞ্জিনটি আর সেখানে নেই। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তালতলা এলাকার একটি ভাঙারির দোকানে ইঞ্জিনটি পাওয়া যায়।
তিনি দাবি করেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে অভিযুক্ত জসীম উদ্দীন মৃধা ইঞ্জিনটি বিক্রি করে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাড়ে চার লাখ টাকায় কেনা ইঞ্জিনটি মাত্র ১১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

অভিযুক্তের বক্তব্য, চুরির অভিযোগ অস্বীকার
অভিযুক্ত জসীম উদ্দীন মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলাকার কয়েকজন ছোট ভাই একটি ইঞ্জিন বাজারে বিক্রি করতে এনেছিল। তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কেউ কিনতে চাইছিল না। পরে তিনি সেটি বিক্রি করে দেন। তার দাবি, ইঞ্জিনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল এবং তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

পুলিশের অবস্থান
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পাথরঘাটা সার্কেলের মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ভুক্তভোগীকে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলা দায়ের হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি মূল্যবান সামুদ্রিক ট্রলারের ইঞ্জিন কীভাবে এত কম দামে বিক্রি হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















