পঞ্চগড়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক নেতাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে গভীর রাতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ির সামনে গিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নেতাকে সরিয়ে নেয়।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও পাল্টাপাল্টি মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি, যদিও উভয় পক্ষ মামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
হত্যার হুমকির অভিযোগ ও সরাসরি সম্প্রচার
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইফতারের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী নিজের সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা দেন। সেখানে তিনি লেখেন, তিনি মৃত্যুর মুখে যাচ্ছেন এবং সবার কাছে দোয়া চান। পরে তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থক আব্দুর রউফের বাড়ির সামনে গিয়ে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন।
সম্প্রচারে তাকে বলতে শোনা যায়, আব্দুর রউফ ও তার ভাই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে। তিনি তাদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং আজ একজনের শেষ দিন হবে—এমন মন্তব্যও করেন। অন্ধকার রাতে তার এমন বক্তব্য মুহূর্তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।

উত্তেজনা, জটলা ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে স্থানীয় লোকজন জড়ো হতে থাকেন। বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মী, আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং মব সৃষ্টির অভিযোগ তুলে স্লোগান দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফজলে রাব্বীকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে নিরাপদে থানায় নেওয়া হয়।
ফজলে রাব্বীর বক্তব্য
ফজলে রাব্বীর দাবি, বিকেলে আব্দুর রউফের ছোট ভাই রব্বানি তাকে বার্তা ও কলের মাধ্যমে সরাসরি হত্যার হুমকি দেন। তিনি বলেন, এর প্রতিবাদ জানাতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, তিনি একা গিয়েছিলেন, মব তৈরির কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
তিনি আরও বলেন, তাকে বলা হয়েছে তার দিন শেষ। তিনি শুধু প্রতিবাদ জানাতে এবং হুমকির সাহস কতটা তা দেখতে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তিনি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।
অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য
আব্দুর রউফ জানান, সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক বিরোধ থেকে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। তার দাবি, ফজলে রাব্বী একাধিকবার তার ছবি ব্যবহার করে মানহানিকর পোস্ট করেছেন এবং পুলিশি হয়রানি করেছেন।
তিনি বলেন, তার ভাইয়ের সঙ্গে কথাকাটাকাটির সময় উভয় পক্ষ থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ কথা হয়েছে। রাতে ফজলে রাব্বী তার বাড়ির সামনে গিয়ে বেসামাল ভাষায় কথা বলেন এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। তিনি এটিকে মব তৈরির চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
পুলিশের অবস্থান
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

উপসংহার
পঞ্চগড়ে বৈষম্যবিরোধী নেতাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ ঘিরে সৃষ্ট এই উত্তেজনা নতুন করে রাজনৈতিক বিভাজন ও সামাজিক মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মামলা হলে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় গড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















