কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলীয় নেতাদের স্ত্রীরা জামায়াতে ভোট দিয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে তাদের তালাক দেওয়ার আহ্বান জানানো বক্তব্য এখন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
লালমাইয়ের ইফতার মাহফিলে বিতর্কিত মন্তব্য
গত মঙ্গলবার লালমাই উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এমপি মোবাশ্বের। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মাসুদ করিম। সেখানেই দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
বুধবার থেকে প্রায় দুই মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, তার দলের কিছু বড় নেতা নির্বাচনের দিন জামায়াতকে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন এবং তাদের স্ত্রী জামায়াতে ভোট দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট নেতাদের স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা বলেন। বক্তব্যে ক্ষোভের ভাষা আরও তীব্র হয়ে ওঠে, যা নিয়ে দলীয় অঙ্গনেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

অর্থ লেনদেন ও ভোট বিক্রির অভিযোগ
বক্তব্যে এমপি মোবাশ্বের দাবি করেন, কিছু নেতা জামায়াতকে অর্থ দিয়েছেন এবং কেউ কেউ টাকার বিনিময়ে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন যারা মাঠে ছিলেন না, তারাই এখন তার সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদের দায় এড়াতে চাইছেন। এলাকায় তার বিরুদ্ধে বদনাম ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যারা কেন্দ্র বিক্রি করেছে বা দলের প্রতীক থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালন করেনি, তাদের চিহ্নিত করা হবে। তার ভাষায়, দলের প্রতীক থাকলেই প্রার্থীর জয়ের জন্য যথেষ্ট, আলাদা প্রার্থীর দরকার নেই—এমন মন্তব্যও উঠে আসে বক্তব্যে।
দলীয় নেতার প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে এমপি মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে অনুষ্ঠানটির সভাপতি ও লালমাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউছুফ আলী মীর পিন্টু বলেন, দলের অনেক নেতাকর্মীর স্ত্রী জামায়াতের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, আবার স্বামীরা ভোট দিয়েছেন বিএনপিকে। কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে ভোট দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দলের ভেতরে অভিমান থেকেই এমপি এমন মন্তব্য করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এর আগেও নির্বাচনকে ঘিরে বক্তব্য
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরদিন লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারে নির্বাচন ও প্রশাসন নিয়ে দেওয়া আরেকটি বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। সেই ভিডিও ঘিরেও ব্যাপক আলোচনা হয়।
বর্তমান বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা, পারিবারিক সম্পর্ক ও নির্বাচনী আচরণ—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন কুমিল্লার রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















