ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কারখানায় কাজ করা এক কিশোর শ্রমিককে উচ্চচাপের বাতাস ঢুকিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। নৃশংস এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে অবশেষে ধরা পড়েছে মূল হোতা।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১০–এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার তারিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় র্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন।
যেভাবে ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত। বোয়ালমারীর দোবরাগ্রামের একটি পাটকলের কিশোর শ্রমিক মোহাম্মদ সজীব ওরফে শরিফ কাজ শেষে কম্প্রেসারের পাইপ দিয়ে শরীর পরিষ্কার করছিল। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময় রিহাত শেখ ওরফে হাকিম নামে এক যুবক এবং তার এক সহযোগী জোর করে উচ্চচাপের বাতাস কিশোরটির শরীরে প্রবেশ করায়। এতে তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাত লাগে।
গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করলেও শেষ পর্যন্ত ২৫ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য, অতিরিক্ত চাপে তার অন্ত্রে একাধিক ছিদ্র হয়ে যায়।
মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি
ঘটনার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি কিশোরটির বাবা বোয়ালমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়। এ ঘটনায় গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়, স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
র্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত রিহাত শেখ আত্মগোপনে চলে যায়। তবে গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মাগুরার শ্রীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বোয়ালমারী উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাবের কঠোর অবস্থান
র্যাব-১০ জানিয়েছে, এমন বর্বর ও অমানবিক অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান শূন্য সহনশীলতার। দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















