০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়ার আত্মবিশ্বাস শাহর, সীমান্ত ঘেরাটোপ ও অনুপ্রবেশ রুখতেই প্রধান লক্ষ্য ভারতে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই নিষিদ্ধ, সব কপি জব্দের নির্দেশ; বিচারব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেখানোর অভিযোগে শীর্ষ আদালতের কড়া অবস্থান রমজানের ইফতারে বৈচিত্র্য আনতে ৮ সহজ রেসিপি, স্বাদে-স্বাস্থ্যে পরিপূর্ণ আয়োজন পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা ভারতের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত: ইজরায়েলে মোদির কূটনৈতিক বার্তা ৩ মার্চ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাবে ব্লাড মুন  আফগানিস্তানের হাইওয়ে ১: যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে নিরাপত্তার পথে, তবু কর্মসংস্থানের হাহাকার ইরান কি আমেরিকার শর্ত মানবে, নাকি যুদ্ধের ঝুঁকি নেবে? তেহরানের সামনে কঠিন সমীকরণ ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৮ শতাংশে, নতুন হিসাবপদ্ধতিতে বাড়ল বার্ষিক পূর্বাভাস সাখাওয়াত মুখ খুললেন: ‘কিচেন কেবিনেট’ থেকে ৭.৬২ বুলেট—অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের অজানা কথা ভারত গড়েছিল বিশ্বের ব্যাক অফিস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেটিকে ছোট করতে শুরু করেছে

কৌশলগত পুনর্গঠনে টিকে থাকাই নেতৃত্বের নতুন মানদণ্ড, দ্রুত বদলে যাওয়া অর্থনীতিতে বদলাতে না পারলে হারাতে হবে প্রাসঙ্গিকতা

দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, বদলে যাওয়া কর্মসংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক অগ্রাধিকারের পরিবর্তনে আজকের ব্যবসা জগতে নেতৃত্ব আর স্থায়ী মর্যাদা নয়। এক সময় অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের সাফল্য নেতৃত্বকে স্থিতি দিত, কিন্তু এখন সেই বাস্তবতা বদলে গেছে। পরিবর্তন এখন ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়ম। ফলে নেতৃত্বকে টিকে থাকতে হলে নিজেকে নিয়মিত নতুন করে গড়ে তুলতে হচ্ছে।

নেতৃত্বের প্রাসঙ্গিকতা কেন কমে যাচ্ছে

আগে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করত। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার, নতুন খাতের উত্থান এবং ভোক্তাদের প্রত্যাশার পরিবর্তনে ঐতিহ্যগত দক্ষতার স্থায়িত্ব কমে গেছে। প্রতিষ্ঠান কীভাবে পরিচালিত হবে, সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হবে—সবকিছুই বদলে যাচ্ছে। ফলে কেবল পুরোনো সাফল্যের ওপর নির্ভর করলে নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

UAE leaders embrace reinvention as key to sustained success in a rapidly evolving economy

এখন প্রাসঙ্গিক থাকতে হলে নেতাদের নিজেদের চিন্তাভাবনা হালনাগাদ করতে হচ্ছে, কৌশল পুনর্বিন্যাস করতে হচ্ছে এবং বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হচ্ছে। কর্তৃত্ব বা পদমর্যাদা নয়, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই হয়ে উঠেছে নেতৃত্বের আসল শক্তি।

অবিরাম শেখাই টিকে থাকার চাবিকাঠি

শেখা এখন আর কর্মজীবনের শুরুর অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। এটি নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছাড়াও নেতাদের বুঝতে হচ্ছে ডিজিটাল রূপান্তর, কর্মীদের আচরণগত পরিবর্তন, অর্থনৈতিক প্রবণতা এবং গ্রাহক ও কর্মীদের নতুন প্রত্যাশা।

যে নেতা নিয়মিত শেখেন, তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, ঝুঁকি আগে থেকে আঁচ করতে পারেন এবং পরিবর্তনের মুহূর্তে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম হন। এই মনোভাব পুরো প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতিকেও প্রভাবিত করে। নেতা যখন নিজে শেখেন, তখন দলও নতুন দক্ষতা অর্জনে উৎসাহী হয়। এতে প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকে।

মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এখন মূল সম্পদ

UAE leaders embrace reinvention as key to sustained success in a rapidly evolving economy

অনিশ্চয়তার সময়ে নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় গুণ হয়ে উঠেছে অভিযোজন ক্ষমতা। নতুন বাস্তবতা সামনে এলে তাকে অস্বীকার না করে, বিশ্লেষণ করে, প্রয়োজনে কৌশল বদলে নেওয়াই সফল নেতার বৈশিষ্ট্য। কঠোর বা অনমনীয় মানসিকতা এখন নেতৃত্বকে পিছিয়ে দেয়।

পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারলে প্রতিষ্ঠানও গতি ধরে রাখতে পারে। পুরোনো ধারণায় আটকে থাকলে সুযোগ হাতছাড়া হয়। তাই মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এখন কৌশলগত সুবিধায় পরিণত হয়েছে।

আত্মসচেতনতা ও পুরোনো ধারণা ছাড়ার সাহস

নেতৃত্বের পুনর্গঠন শুরু হয় ভেতর থেকে। নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা, মতামত শোনা এবং উন্নতির জন্য প্রস্তুত থাকা—এসবই আত্মসচেতন নেতৃত্বের অংশ। অতীতের সাফল্য কখনও কখনও আরামের জায়গা তৈরি করে, কিন্তু তাতেই ভবিষ্যৎ আটকে যেতে পারে।

যে নেতা সময়ের প্রয়োজন বুঝে পুরোনো পদ্ধতি ছাড়তে পারেন, তিনি অভিজ্ঞতাকে অপ্রাসঙ্গিক হতে দেন না। বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে তাকে আরও কার্যকর করে তোলেন। এতে দলের আস্থা বাড়ে এবং নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা শক্তিশালী হয়।

UAE leaders embrace reinvention as key to sustained success in a rapidly evolving economy

প্রযুক্তি ও মানবিকতার ভারসাম্য

ডিজিটাল রূপান্তর এখন প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। প্রযুক্তি কীভাবে শিল্পখাত বদলে দিচ্ছে, তা বোঝা এখন নেতাদের জন্য অপরিহার্য। তবে একই সঙ্গে নেতৃত্ব আরও মানবিক হয়ে উঠছে। কর্মীরা এখন এমন নেতা চান, যিনি সহজপ্রাপ্য, স্বচ্ছ এবং সহানুভূতিশীল।

কর্তৃত্বের চেয়ে আস্থার গুরুত্ব বেড়েছে। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাও সমান প্রয়োজনীয়। এই ভারসাম্যই প্রতিষ্ঠানকে টেকসই ও দৃঢ় করে তোলে।

পুনর্গঠন একবারের নয়, চলমান প্রক্রিয়া

নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলা এখন আর এককালীন পদক্ষেপ নয়। এটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। যে নেতা পরিবর্তনকে ভয় না পেয়ে গ্রহণ করেন, শেখার মানসিকতা ধরে রাখেন এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে রূপান্তরিত করেন, তিনিই দীর্ঘমেয়াদে প্রাসঙ্গিক থাকেন।

অবিরাম পরিবর্তনের এই যুগে নেতৃত্বের ভিত্তি একটাই—নিরবচ্ছিন্ন বিকাশ। যারা বদলাতে জানেন, তারাই টিকে থাকেন।

How Leadership Influences Organizational Culture | DDI

পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়ার আত্মবিশ্বাস শাহর, সীমান্ত ঘেরাটোপ ও অনুপ্রবেশ রুখতেই প্রধান লক্ষ্য

কৌশলগত পুনর্গঠনে টিকে থাকাই নেতৃত্বের নতুন মানদণ্ড, দ্রুত বদলে যাওয়া অর্থনীতিতে বদলাতে না পারলে হারাতে হবে প্রাসঙ্গিকতা

০৫:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, বদলে যাওয়া কর্মসংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক অগ্রাধিকারের পরিবর্তনে আজকের ব্যবসা জগতে নেতৃত্ব আর স্থায়ী মর্যাদা নয়। এক সময় অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের সাফল্য নেতৃত্বকে স্থিতি দিত, কিন্তু এখন সেই বাস্তবতা বদলে গেছে। পরিবর্তন এখন ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়ম। ফলে নেতৃত্বকে টিকে থাকতে হলে নিজেকে নিয়মিত নতুন করে গড়ে তুলতে হচ্ছে।

নেতৃত্বের প্রাসঙ্গিকতা কেন কমে যাচ্ছে

আগে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করত। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার, নতুন খাতের উত্থান এবং ভোক্তাদের প্রত্যাশার পরিবর্তনে ঐতিহ্যগত দক্ষতার স্থায়িত্ব কমে গেছে। প্রতিষ্ঠান কীভাবে পরিচালিত হবে, সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হবে—সবকিছুই বদলে যাচ্ছে। ফলে কেবল পুরোনো সাফল্যের ওপর নির্ভর করলে নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

UAE leaders embrace reinvention as key to sustained success in a rapidly evolving economy

এখন প্রাসঙ্গিক থাকতে হলে নেতাদের নিজেদের চিন্তাভাবনা হালনাগাদ করতে হচ্ছে, কৌশল পুনর্বিন্যাস করতে হচ্ছে এবং বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হচ্ছে। কর্তৃত্ব বা পদমর্যাদা নয়, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই হয়ে উঠেছে নেতৃত্বের আসল শক্তি।

অবিরাম শেখাই টিকে থাকার চাবিকাঠি

শেখা এখন আর কর্মজীবনের শুরুর অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। এটি নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছাড়াও নেতাদের বুঝতে হচ্ছে ডিজিটাল রূপান্তর, কর্মীদের আচরণগত পরিবর্তন, অর্থনৈতিক প্রবণতা এবং গ্রাহক ও কর্মীদের নতুন প্রত্যাশা।

যে নেতা নিয়মিত শেখেন, তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, ঝুঁকি আগে থেকে আঁচ করতে পারেন এবং পরিবর্তনের মুহূর্তে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম হন। এই মনোভাব পুরো প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতিকেও প্রভাবিত করে। নেতা যখন নিজে শেখেন, তখন দলও নতুন দক্ষতা অর্জনে উৎসাহী হয়। এতে প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকে।

মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এখন মূল সম্পদ

UAE leaders embrace reinvention as key to sustained success in a rapidly evolving economy

অনিশ্চয়তার সময়ে নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় গুণ হয়ে উঠেছে অভিযোজন ক্ষমতা। নতুন বাস্তবতা সামনে এলে তাকে অস্বীকার না করে, বিশ্লেষণ করে, প্রয়োজনে কৌশল বদলে নেওয়াই সফল নেতার বৈশিষ্ট্য। কঠোর বা অনমনীয় মানসিকতা এখন নেতৃত্বকে পিছিয়ে দেয়।

পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারলে প্রতিষ্ঠানও গতি ধরে রাখতে পারে। পুরোনো ধারণায় আটকে থাকলে সুযোগ হাতছাড়া হয়। তাই মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এখন কৌশলগত সুবিধায় পরিণত হয়েছে।

আত্মসচেতনতা ও পুরোনো ধারণা ছাড়ার সাহস

নেতৃত্বের পুনর্গঠন শুরু হয় ভেতর থেকে। নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা, মতামত শোনা এবং উন্নতির জন্য প্রস্তুত থাকা—এসবই আত্মসচেতন নেতৃত্বের অংশ। অতীতের সাফল্য কখনও কখনও আরামের জায়গা তৈরি করে, কিন্তু তাতেই ভবিষ্যৎ আটকে যেতে পারে।

যে নেতা সময়ের প্রয়োজন বুঝে পুরোনো পদ্ধতি ছাড়তে পারেন, তিনি অভিজ্ঞতাকে অপ্রাসঙ্গিক হতে দেন না। বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে তাকে আরও কার্যকর করে তোলেন। এতে দলের আস্থা বাড়ে এবং নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা শক্তিশালী হয়।

UAE leaders embrace reinvention as key to sustained success in a rapidly evolving economy

প্রযুক্তি ও মানবিকতার ভারসাম্য

ডিজিটাল রূপান্তর এখন প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। প্রযুক্তি কীভাবে শিল্পখাত বদলে দিচ্ছে, তা বোঝা এখন নেতাদের জন্য অপরিহার্য। তবে একই সঙ্গে নেতৃত্ব আরও মানবিক হয়ে উঠছে। কর্মীরা এখন এমন নেতা চান, যিনি সহজপ্রাপ্য, স্বচ্ছ এবং সহানুভূতিশীল।

কর্তৃত্বের চেয়ে আস্থার গুরুত্ব বেড়েছে। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাও সমান প্রয়োজনীয়। এই ভারসাম্যই প্রতিষ্ঠানকে টেকসই ও দৃঢ় করে তোলে।

পুনর্গঠন একবারের নয়, চলমান প্রক্রিয়া

নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলা এখন আর এককালীন পদক্ষেপ নয়। এটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। যে নেতা পরিবর্তনকে ভয় না পেয়ে গ্রহণ করেন, শেখার মানসিকতা ধরে রাখেন এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে রূপান্তরিত করেন, তিনিই দীর্ঘমেয়াদে প্রাসঙ্গিক থাকেন।

অবিরাম পরিবর্তনের এই যুগে নেতৃত্বের ভিত্তি একটাই—নিরবচ্ছিন্ন বিকাশ। যারা বদলাতে জানেন, তারাই টিকে থাকেন।

How Leadership Influences Organizational Culture | DDI