ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে শুক্রবার জুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। দুপুরে থানা চত্বরে শুরু হওয়া মারামারিতে অন্তত ১০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুইজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ, তবে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংঘর্ষের সূচনা কীভাবে
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর প্রায় ১২টার দিকে কালীগঞ্জ থানার সামনে একটি সমন্বয় সভা চলছিল। সভাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খানের নির্বাচনী কার্যালয়ে। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহজাহান আলী অভিযোগ তোলেন, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খুরশেদ আলম দলীয় প্রতীক ধানের শীষের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। অভিযোগকে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

থানা প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে দুই পক্ষ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পক্ষ থানার ভেতরে ঢুকে পড়ে। অপর পক্ষ তাদের অনুসরণ করে সেখানে হামলা চালায়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী উপপরিদর্শক জাহিদ, কনস্টেবল পিকুল ও কনস্টেবল সেলিমসহ আরও সাতজন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রার্থীর বক্তব্য
রাশেদ খান বলেন, অনেক নেতাকর্মী তার সঙ্গে দেখা করতে কার্যালয়ে এসেছিলেন। আলোচনার সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে তিনি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তার দাবি, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পুলিশের অবস্থান
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, সমন্বয় সভাকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেনও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, থানার সামনেই বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে এবং হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।

এদিকে, সংঘর্ষের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















