নরসিংদীতে আমেনা বেগমকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবার রাজপথে নামলেন। সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের একের পর এক ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এরপর ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ও প্রতিবাদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।
স্লোগানে ক্ষোভ, কণ্ঠে প্রতিবাদ
মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে নানা স্লোগান দেন। তারা বলেন, সোনার বাংলায় ধর্ষকদের কোনো জায়গা নেই। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষার্থীরা জানতে চান, বোন ধর্ষণের শিকার হলে প্রশাসন কী করছে। অনেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ধর্ষকদের রেহাই দেওয়া হবে না।

রাজনৈতিক আশ্রয়ের অভিযোগ
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষার্থী রাহাত আবদুল্লাহ বলেন, একটি ধর্ষণের ঘটনার পনেরো দিন পরও ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজপথে নামতে হচ্ছে—এটি জাতির জন্য লজ্জাজনক। তার অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো দল কি ধর্ষকদের রক্ষাকবচ হয়ে উঠেছে? যদি তাই হয়, জনগণই তার জবাব দেবে।
প্রশাসন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে সমালোচনা
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া হোসেন বর্তমান প্রশাসন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় এসে একটি অংশ আবারও সেই ধর্ষণ ও নির্যাতনের চর্চা শুরু করেছে, যা পূর্ববর্তী শাসনামলের শেষ দিকে দেখা গিয়েছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্ষমতার নামে যারা এসব অপকর্ম করছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। না হলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষই ব্যবস্থা নেবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকায় প্রশ্ন
বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ে ধর্ষণ, হত্যা ও হয়রানি চললেও কিছু মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ব্যস্ত। তারা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের খবর অনেক সময় গুরুত্ব পায় না, অথচ অপ্রাসঙ্গিক বিষয় প্রচারে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া হয়। এতে জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
ন্যায়বিচারের দাবিতে অটল অবস্থান
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় নয়—অপরাধের ভিত্তিতেই বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















