চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ছয়জন। কয়েক দিনের ব্যবধানে একে একে ঝরে গেল একই পরিবারের ছয়টি প্রাণ, শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস
শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মো. শিপন (৩০)। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের প্রায় ৮৩ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। আগুনে দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি শ্বাসনালিতেও গুরুতর ক্ষত ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
একই পরিবারের একের পর এক মৃত্যু
এর আগে এই বিস্ফোরণে প্রাণ হারান শিপনের ভাবি নূরজাহান আক্তার, ভাতিজা শাওন, ভাই সামির হোসেন, আরেক ভাবি পাখি আক্তার এবং বড় ভাই সাখাওয়াত হোসেন। একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। এখনও আরও তিনজন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

কীভাবে ঘটেছিল বিস্ফোরণ
সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিশহর এলাকার ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত নয়জন দগ্ধ হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও ক্ষয়ক্ষতি ছিল মারাত্মক।
তদন্তে দুটি কমিটি
ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গ্যাস লাইন, সিলিন্ডার কিংবা অন্য কোনো ত্রুটি থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের গ্যাস বিস্ফোরণ এখন শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি হয়ে উঠেছে এক পরিবারের নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার হৃদয়বিদারক গল্প। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, এমন দুর্ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল?
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















