০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
ইন্টারনেট ফিরলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণে ইরান, যোগাযোগে ভোগান্তি অব্যাহত আর্কটিকের বরফে হারিয়ে যাওয়া জাহাজের রহস্যে নতুন মোড়, ১৮০ বছর পর শনাক্ত তিন নাবিক এআই চিপের জোয়ারে ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও বাড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা সংকট ভারতে কমিউনিস্ট রাজনীতির পতন, শেষ দুর্গ হারিয়ে নতুন সংকটে বামপন্থীরা রাশিয়া থেকে ৫ লাখ টনের বেশি এমওপি সার আমদানি করবে বাংলাদেশ শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত সকাল ৯টায়, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় প্রস্তুত ঐতিহাসিক ঈদগাহ ঢাকায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ঈদ প্রস্তুতিতে ভোগান্তি বাড়ছে হামে ভয়াবহতা বাড়ছেই, আরও ১০ শিশুর মৃত্যু যুদ্ধ যখন যন্ত্রের গতিতে, রাজনীতি কি তখনও মানুষের থাকবে

কক্সবাজারে এলপিজি ফিলিং স্টেশন বিস্ফোরণ: দগ্ধ তরুণের মৃত্যু, আগুনে পুড়ল বাড়িঘর ও পর্যটক জিপ

কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে এলপিজি ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ২৮ বছর বয়সী এক তরুণ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর রবিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত তরুণের নাম আবু তাহের সিরাজ। তিনি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকরা জানান, শুক্রবার সকালে তাকে প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় ভর্তি করা হয়। আগুনে তার শ্বাসনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করায় তার অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

Man dies 3-day after being burned in Cox's Bazar gas pump fire | The  Business Standard

বিস্ফোরণের রাত: মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন

বুধবার রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে ‘এন আলম’ নামে একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে এবং দ্রুত আশপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হয়। তবে আগুনের তীব্রতায় আশপাশের বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Six Critical After Gas Station Blast in Cox's Bazar

ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আগুনে ফিলিং স্টেশনের পাশের ১০টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া ২০ থেকে ২৫টি পর্যটকবাহী জিপ গাড়িও আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। পর্যটননির্ভর এলাকায় এমন ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা

এলপিজি ফিলিং স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন দাহ্য স্থাপনা পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ তদারকি ও নিরাপত্তা মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নই ভেঙে দেয়নি, বরং কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্টারনেট ফিরলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণে ইরান, যোগাযোগে ভোগান্তি অব্যাহত

কক্সবাজারে এলপিজি ফিলিং স্টেশন বিস্ফোরণ: দগ্ধ তরুণের মৃত্যু, আগুনে পুড়ল বাড়িঘর ও পর্যটক জিপ

১০:৪৩:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে এলপিজি ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ২৮ বছর বয়সী এক তরুণ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর রবিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত তরুণের নাম আবু তাহের সিরাজ। তিনি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকরা জানান, শুক্রবার সকালে তাকে প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় ভর্তি করা হয়। আগুনে তার শ্বাসনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করায় তার অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

Man dies 3-day after being burned in Cox's Bazar gas pump fire | The  Business Standard

বিস্ফোরণের রাত: মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন

বুধবার রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে ‘এন আলম’ নামে একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে এবং দ্রুত আশপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হয়। তবে আগুনের তীব্রতায় আশপাশের বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Six Critical After Gas Station Blast in Cox's Bazar

ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আগুনে ফিলিং স্টেশনের পাশের ১০টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া ২০ থেকে ২৫টি পর্যটকবাহী জিপ গাড়িও আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। পর্যটননির্ভর এলাকায় এমন ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা

এলপিজি ফিলিং স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন দাহ্য স্থাপনা পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ তদারকি ও নিরাপত্তা মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নই ভেঙে দেয়নি, বরং কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।