কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে এলপিজি ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ২৮ বছর বয়সী এক তরুণ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর রবিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত তরুণের নাম আবু তাহের সিরাজ। তিনি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকরা জানান, শুক্রবার সকালে তাকে প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় ভর্তি করা হয়। আগুনে তার শ্বাসনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করায় তার অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিস্ফোরণের রাত: মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন
বুধবার রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে ‘এন আলম’ নামে একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে এবং দ্রুত আশপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হয়। তবে আগুনের তীব্রতায় আশপাশের বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আগুনে ফিলিং স্টেশনের পাশের ১০টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া ২০ থেকে ২৫টি পর্যটকবাহী জিপ গাড়িও আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। পর্যটননির্ভর এলাকায় এমন ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা
এলপিজি ফিলিং স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন দাহ্য স্থাপনা পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ তদারকি ও নিরাপত্তা মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নই ভেঙে দেয়নি, বরং কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















