রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় ছিনতাই ও হানিট্র্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা চালানো একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
খিলক্ষেত থানার তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে শাহাপ্রাণ, আফজাল হোসেন ও হানিফকে শুক্রবার ভোর প্রায় পৌনে চারটার দিকে লেকপাড় সংলগ্ন পাকা সড়ক এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি মিনি ট্রাক, নয়টি মোটরসাইকেল এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব যানবাহন ডাকাতির ঘটনায় লুট করা হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ।

হানিট্র্যাপের ফাঁদে তরুণদের টার্গেট
অন্য ঘটনায়, ভুক্তভোগী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাফিজা নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নিয়মিত ফোনালাপের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে খিলক্ষেত রাজউক মার্কেটের উত্তর গেটে দেখা করতে বলেন ওই নারী।
সেখানে পৌঁছালে সাগর হাওলাদার, নাসিফ আনকান ও ফারহাদ সোহান তাকে ঘিরে ফেলে। হাফিজা নিজেকে মার্কেটের চতুর্থ তলার একটি রেস্তোরাঁয় অবস্থান করছেন বলে জানিয়ে সেখানে যেতে বলেন। সন্দেহ হলে জসিম যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে জোরপূর্বক আটক ও মারধর করে উপরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।
রেস্তোরাঁয় আটকে রেখে তার মোবাইল ফোন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নগদ দেড় হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে আরও টাকা দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় মোবাইল ও লাইসেন্স ফিরিয়ে দিলেও পরবর্তীতে ২০ হাজার টাকা দাবি করে একটি নম্বর দেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ।
অভিযোগের ভিত্তিতে খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজউক মার্কেটের সামনে থেকে সাগর ও নাসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতে নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারহাদকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করা হয়েছে।

সংগঠিত চক্রের সন্ধান
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তাররা পলাতক হাফিজাকে সঙ্গে নিয়ে একটি সংগঠিত প্রতারণা ও ছিনতাই চক্র পরিচালনা করছিল। নারীর পরিচয়ে ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খুলে তারা তরুণদের টার্গেট করত। সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে ডেকে এনে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি চালানোই ছিল তাদের কৌশল।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















