০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
আরোগ্যের বাজার: সুস্থতা যখন পণ্যে পরিণত হয় দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে বিশ্বকাপ শুরু, চেকিয়াকে হারিয়ে নকআউটের পথে দক্ষিণ কোরিয়া নতুন ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে মধ্য এশিয়া: কেন এখন সবার নজর এই অঞ্চলকে ঘিরে পাকিস্তানে দারিদ্র্য বেড়ে ২৮.৯ শতাংশ, শিক্ষা খাতে ব্যয় নেমেছে রেকর্ড সর্বনিম্নে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমছে, ন্যাটোতে নতুন উদ্বেগ: ইউরোপ থেকে এক-তৃতীয়াংশ যুদ্ধবিমান প্রত্যাহারের পরিকল্পনা স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক শেয়ারবাজারে অভিষেক, ৭৫ বিলিয়ন ডলার তুলে রেকর্ড গড়লেন ইলন মাস্ক বিমান দুর্ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ‘এরোপ্লেন বয়’, এক বছর পরও আতঙ্ক কাটেনি আরিয়ানের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে মধ্যরাতের চুরি, ‘পরিকল্পিত নাশকতা’ সন্দেহ কাজলের নড়াইলের ৫৭ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান নগদ অর্থ নয়, উন্নয়নের পরবর্তী লড়াই জ্ঞান ও সক্ষমতার

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৫০)

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৪১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মে ২০২৪
  • 160

শ্রী নিখিলনাথ রায়

খৃষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বাঙ্গলারাজ্য দিল্লীসাম্রাজ্য হইতে বিচ্ছিন্ন হয়। তাহার পর সুপ্রসিদ্ধ শের শাহা বাঙ্গলা ও দিল্লী অধিকার করিয়া সমস্ত উত্তর ভারতবর্ষে আপনার জয়পতাকা উড্ডীন করেন। শের শাহার পর বাঙ্গলা আবার কিছু দিন স্বাধীন ভাব অবলম্বন করে। অবশেষে মোগলকেশরী আকবরশাহ তাহাকে দিল্লীসাম্রাজ্যের অন্তর্ভূত করিয়া লন। শের শাহ হইতে বাঙ্গলার রাজস্বসম্বন্ধীয় বন্দোবস্তের কথা বিশদ-রূপে অবগত হওয়া যায়; আকবরের সময়ে ইহা পূর্ণতা লাভ করে। আকবরের রাজস্ববন্দোবস্ত শের শাহের প্রথা হইতে গৃহীত বলিয়া বিবেচিত হয়। রাজা তোড়রমল্ল এই বন্দোবস্তের অধিনায়ক।

তিনি ১৫৮২ খৃঃ অব্দে বাঙ্গলার জমীদারদিগের সহিত রাজস্বের বন্দোবস্ত করিয়া সমস্ত বঙ্গভূমি ১৯ সরকার ও ৬৮২ পরগণায় বিভক্ত করেন। তাঁহার রাজস্ববন্দোবস্ত বা আসল তোমর জমা, খালসা ও জায়গীর সমেত প্রায় ১ কোটি ৭ লক্ষ টাকায় ধার্য্য হইয়াছিল। তোড়রমল্লের পরে শাহ সুজা কর্তৃক আর একবার বাঙ্গলার রাজস্বের বন্দোবস্ত হয়; তৎপরে। মুর্শিদকুলী খাঁর সময়ে ইহা উন্নতির চরম সীমায় উপনীত হয়। এই রাজস্বসংক্রান্ত বন্দোবস্তের জন্য তোড়রমল্ল ভিন্ন ভিন্ন কাননগো নিযুক্ত করিয়াছিলেন: তাঁহাদের উপরে এক এক জন প্রধান কাননগোও নিযুক্ত হন। কাননগো-পদ তোড়রমল্লের নূতন সৃষ্টি নহে।

তাঁহার পূর্ব্ব হইতেও বাঙ্গলাদেশে কাননগো পদের উল্লেখ দেখা যায়। তাঁহার সময়ে উক্তপদের কার্য্যবিভাগ অতি সুচারুরূপে নির্দিষ্ট হয়। যে বঙ্গাধিকারিগণ বাঙ্গলার প্রধান কাননগো-পদে প্রতিষ্ঠিত থাকিয়া বঙ্গরাজ্যের রাজস্বের কার্য্য অতি দক্ষতার সহিত নির্ব্বাহ করিয়াছিলেন,’ এইরূপ প্রবাদ আছে যে, তাঁহাদের পূর্ব্বপুরুষ ভগবান্ রায়, রাজা তোড়র- মল্লের রাজস্ব বন্দোবস্তের সময় প্রধান কাননগো-পদে নিযুক্ত হন এবং তিনি তোড়রমল্লকে উক্ত কার্য্যে সহায়তা করিয়াছিলেন। ভগবান্ কার্য্যোপলক্ষে দিল্লীতে অবস্থিতি করায়, আকবরশাহের অনুকূল দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া উক্ত পদ প্রাপ্ত হন। কিন্তু এই প্রবাদে বিশ্বাস করা কঠিন।

কারণ, ভগবানের পরবর্তী তত্ত্বংশীহগণের নিয়োগের সময় হইতে, ইহার মীমাংসা করা দুঃসাধ্য হইয়া উঠে। বদি ভগবান্ বাঙ্গলার রাজস্বসস্বন্ধীয় কোন বন্দোবস্তের সময় বিশিষ্টরূপ কাৰ্য্যদক্ষতা দেখাইয়া: থাকেন, তাহা হইলে শাহ সুজার বন্দোবস্ত সময়ে দেখাইয়াছিলেন বলিয়া আমাদের বিবেচনা হয়। ভগবান্ রায় বর্দ্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটস্থ খাজুরডিহি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁহারা উত্তররাঢ়ীক্ষ কায়স্থ ও মিত্রবংশসম্ভূত। ভগবান, বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার প্রধান কাননগো-পদে নিযুক্ত হইয়া অত্যন্ত কাৰ্য্যদক্ষতা প্রকাশ করিয়াছিলেন বলিয়া কথিত আছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আরোগ্যের বাজার: সুস্থতা যখন পণ্যে পরিণত হয়

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৫০)

০৩:৪১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মে ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

খৃষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বাঙ্গলারাজ্য দিল্লীসাম্রাজ্য হইতে বিচ্ছিন্ন হয়। তাহার পর সুপ্রসিদ্ধ শের শাহা বাঙ্গলা ও দিল্লী অধিকার করিয়া সমস্ত উত্তর ভারতবর্ষে আপনার জয়পতাকা উড্ডীন করেন। শের শাহার পর বাঙ্গলা আবার কিছু দিন স্বাধীন ভাব অবলম্বন করে। অবশেষে মোগলকেশরী আকবরশাহ তাহাকে দিল্লীসাম্রাজ্যের অন্তর্ভূত করিয়া লন। শের শাহ হইতে বাঙ্গলার রাজস্বসম্বন্ধীয় বন্দোবস্তের কথা বিশদ-রূপে অবগত হওয়া যায়; আকবরের সময়ে ইহা পূর্ণতা লাভ করে। আকবরের রাজস্ববন্দোবস্ত শের শাহের প্রথা হইতে গৃহীত বলিয়া বিবেচিত হয়। রাজা তোড়রমল্ল এই বন্দোবস্তের অধিনায়ক।

তিনি ১৫৮২ খৃঃ অব্দে বাঙ্গলার জমীদারদিগের সহিত রাজস্বের বন্দোবস্ত করিয়া সমস্ত বঙ্গভূমি ১৯ সরকার ও ৬৮২ পরগণায় বিভক্ত করেন। তাঁহার রাজস্ববন্দোবস্ত বা আসল তোমর জমা, খালসা ও জায়গীর সমেত প্রায় ১ কোটি ৭ লক্ষ টাকায় ধার্য্য হইয়াছিল। তোড়রমল্লের পরে শাহ সুজা কর্তৃক আর একবার বাঙ্গলার রাজস্বের বন্দোবস্ত হয়; তৎপরে। মুর্শিদকুলী খাঁর সময়ে ইহা উন্নতির চরম সীমায় উপনীত হয়। এই রাজস্বসংক্রান্ত বন্দোবস্তের জন্য তোড়রমল্ল ভিন্ন ভিন্ন কাননগো নিযুক্ত করিয়াছিলেন: তাঁহাদের উপরে এক এক জন প্রধান কাননগোও নিযুক্ত হন। কাননগো-পদ তোড়রমল্লের নূতন সৃষ্টি নহে।

তাঁহার পূর্ব্ব হইতেও বাঙ্গলাদেশে কাননগো পদের উল্লেখ দেখা যায়। তাঁহার সময়ে উক্তপদের কার্য্যবিভাগ অতি সুচারুরূপে নির্দিষ্ট হয়। যে বঙ্গাধিকারিগণ বাঙ্গলার প্রধান কাননগো-পদে প্রতিষ্ঠিত থাকিয়া বঙ্গরাজ্যের রাজস্বের কার্য্য অতি দক্ষতার সহিত নির্ব্বাহ করিয়াছিলেন,’ এইরূপ প্রবাদ আছে যে, তাঁহাদের পূর্ব্বপুরুষ ভগবান্ রায়, রাজা তোড়র- মল্লের রাজস্ব বন্দোবস্তের সময় প্রধান কাননগো-পদে নিযুক্ত হন এবং তিনি তোড়রমল্লকে উক্ত কার্য্যে সহায়তা করিয়াছিলেন। ভগবান্ কার্য্যোপলক্ষে দিল্লীতে অবস্থিতি করায়, আকবরশাহের অনুকূল দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া উক্ত পদ প্রাপ্ত হন। কিন্তু এই প্রবাদে বিশ্বাস করা কঠিন।

কারণ, ভগবানের পরবর্তী তত্ত্বংশীহগণের নিয়োগের সময় হইতে, ইহার মীমাংসা করা দুঃসাধ্য হইয়া উঠে। বদি ভগবান্ বাঙ্গলার রাজস্বসস্বন্ধীয় কোন বন্দোবস্তের সময় বিশিষ্টরূপ কাৰ্য্যদক্ষতা দেখাইয়া: থাকেন, তাহা হইলে শাহ সুজার বন্দোবস্ত সময়ে দেখাইয়াছিলেন বলিয়া আমাদের বিবেচনা হয়। ভগবান্ রায় বর্দ্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটস্থ খাজুরডিহি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁহারা উত্তররাঢ়ীক্ষ কায়স্থ ও মিত্রবংশসম্ভূত। ভগবান, বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার প্রধান কাননগো-পদে নিযুক্ত হইয়া অত্যন্ত কাৰ্য্যদক্ষতা প্রকাশ করিয়াছিলেন বলিয়া কথিত আছে।