১০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
ভারতের বেসরকারি হাসপাতাল খাতে বিস্তার: বিনিয়োগের জোয়ার, কিন্তু সেবার খরচ কতটা নাগালের মধ্যে? গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এ বড় পরিবর্তন, আসছে ‘আল্ট্রা’ সংস্করণ আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর হওয়ার দৌড়ে থাকা তরুণ রাজনীতিবিদ আবদুল এল সাইদ কে? টেস্টে ফেল করলে কি এসএসসি পরীক্ষায় বাধা দিতে পারে স্কুল? যোগ্যতার সরকার: পাকিস্তানের গণতন্ত্রে এখন প্রয়োজন দক্ষতার নতুন কাঠামো তেল কি আবার ১০০ ডলারে উঠবে? মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে সরবরাহ ঝুঁকিতে বাড়ছে দাম হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা ৯২২ ইউরোপে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা, তীব্র দাবদাহে ধস নামছে কৃষি উৎপাদনে ২০ বছর পূর্তিতে নতুন গান নিয়ে ফিরছে বিগব্যাং বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী ছবি ‘দ্য টেবিল: ডে অ্যান্ড নাইট’

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৫২)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪
  • 183

শ্রী নিখিলনাথ রায়

বঙ্গবিনোদের পর ভগবানের পুত্র হরিনারায়ণকে কাননগো-পদ প্রদান করা হয়। ‘১৬৭৯ খৃঃ অব্দে ১০৯০ হিজরী আরঙ্গজেবের রাজত্বের ২২শ তম বৎসরে হরিনারায়ণ সুবা বাঙ্গলার অর্দ্ধাংশ কাননগোর ভার প্রাপ্ত: হন, তাঁহার নিয়োগপত্রে এইরূপই লিখিত আছে। হরিনারায়ণ হইতেই সুবা বাদলায় দুই জন প্রাধান কাননগোর নিয়োগ দেখা যায়। তাহার পূর্ব্বে এক জন প্রধান কাননগোই কাৰ্য্য করিতেন। হরিনারায়ণের কাগানের পরপৃষ্ঠায় এইরূপ লিখিত আছে যে, পূর্ব্বে বিনোদ হবা বাঙ্গলার কাননগোর কাৰ্য্য করিতেন এবং বিনোদের নিকট হইতে ৬ লক্ষ টাকার পেঙ্কশ স্বীকার করা হয়। বাদসাহ আরঙ্গজেবের রাজত্বের দশম বৎসরে রঘুনাথ নামক এক ব্যাক্তি কাননগোই ফাম্মান প্রাপ্ত হইয়া- ছিলেন বলিয়া, তাঁহার নিকট হইতে ত্রিশ হাজার টাকা পেস্কশ লইয়া • অর্থাংশ কাননগোর ভার প্রদান করা হয়।

আরঙ্গজেবের রাজত্বের দ্বাদশ বর্ষে রামজীবনের আবেদনে জানা যায়? যে, দেবকীর প্রদত্ত অর্দ্ধাংশ কাননগোর ভার আজিও তাঁহার ভাগ্যে ঘটিয়া উঠে নাই। এই জন্য রামজীবন দেবকীর প্রকৃত উত্তরাধিকারী কি না’ জানিয়া, তাঁহাকে অর্দ্ধাংশ কাননগোর ভার প্রদানের আদেশ হয়। সুতরাং একই ফাৰ্ম্মান হইতে আমরা উভয় কাননগোর নিয়োগের আদেশ। জানিতে পারিতেছি। এই দেবকী ও রামজীবন ভট্টবাটীবংশীয় কাননগো- গণের আদিপুরুষ। তাঁহারা পূর্ব্বে রাজস্ববিভাগের কোন উচ্চতম। পদে অভিষিক্ত ছিলেন। হরিনারায়ণ অর্ধাংশ কাননগোর ভারপ্রাপ্ত।

হইলেও তাঁহার সময় হইতেই বঙ্গাধিকারিগণের শ্রীবৃদ্ধি বিশিষ্টরূপে আরম্ভ হয় এবং তাঁহাদের ক্ষমতাও অত্যন্ত প্রবল হইয়া উঠে। রাজস্ব- বিভাগের ভার একরূপ তাঁহাদের হস্তে ন্যস্ত ছিল। জমীদারগণ বঙ্গাধিকারীকে অত্যন্ত ভয় করিয়া চলিতেন। তাঁহারা ইচ্ছা করিলে, একের জমীদারী অন্যকে প্রদান করিতে পারিতেন। নবাব তাঁহাদের পরামর্শ ব্যতীত রাজস্বসম্বন্ধে কোনরূপ আদেশ দিতেন না। রাজস্ব- বিষয়ে দেওয়ান প্রধান কর্মচারী হইলেও তাঁহাকে বঙ্গাধিকারিগণের পরামর্শানুসারে চলিতে হইত। ফলতঃ রাজস্ববিষয়ে বঙ্গাধিকারিগণ।

যোহা ইচ্ছা, করিতে পারিতেন। ঢাকায় অবস্থানকালে তাঁহাদের ক্ষমতার একটি উদাহরণ দেওয়া যাইতেছে। একদিন বঙ্গাধিকারী রাজকার্য শেষ করিয়া সন্ধ্যাকালে একখানি সুন্দর তরণীতে অধিরূঢ় হইয়া নদীবক্ষে বায়ুসেবন করিতেছিলেন। সেই সময়ে ঢাকা জেলার অন্তর্গত চাঁদপ্রতাপ প্রভৃতি পরগণার জমীদারগণের পূর্ব্বপুরুষ সেইরূপ শোভাশালিনী অন্ত এক তরণীতে আরোহণ পূর্ব্বক মহাড়ম্বরে সেইস্থান দিয়া গমন করিতেছিলেন। দৈববলে উক্ত জমীদারের -নাবিকগণের ক্ষেপণীনিক্ষিপ্ত জল বঙ্গাধিকারীর গাত্রে পতিত হয়। ইহাতে, বঙ্গাধিকারী অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হইয়া উক্ত জমীদারের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করিতে আদেশ দেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের বেসরকারি হাসপাতাল খাতে বিস্তার: বিনিয়োগের জোয়ার, কিন্তু সেবার খরচ কতটা নাগালের মধ্যে?

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৫২)

১১:০০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

বঙ্গবিনোদের পর ভগবানের পুত্র হরিনারায়ণকে কাননগো-পদ প্রদান করা হয়। ‘১৬৭৯ খৃঃ অব্দে ১০৯০ হিজরী আরঙ্গজেবের রাজত্বের ২২শ তম বৎসরে হরিনারায়ণ সুবা বাঙ্গলার অর্দ্ধাংশ কাননগোর ভার প্রাপ্ত: হন, তাঁহার নিয়োগপত্রে এইরূপই লিখিত আছে। হরিনারায়ণ হইতেই সুবা বাদলায় দুই জন প্রাধান কাননগোর নিয়োগ দেখা যায়। তাহার পূর্ব্বে এক জন প্রধান কাননগোই কাৰ্য্য করিতেন। হরিনারায়ণের কাগানের পরপৃষ্ঠায় এইরূপ লিখিত আছে যে, পূর্ব্বে বিনোদ হবা বাঙ্গলার কাননগোর কাৰ্য্য করিতেন এবং বিনোদের নিকট হইতে ৬ লক্ষ টাকার পেঙ্কশ স্বীকার করা হয়। বাদসাহ আরঙ্গজেবের রাজত্বের দশম বৎসরে রঘুনাথ নামক এক ব্যাক্তি কাননগোই ফাম্মান প্রাপ্ত হইয়া- ছিলেন বলিয়া, তাঁহার নিকট হইতে ত্রিশ হাজার টাকা পেস্কশ লইয়া • অর্থাংশ কাননগোর ভার প্রদান করা হয়।

আরঙ্গজেবের রাজত্বের দ্বাদশ বর্ষে রামজীবনের আবেদনে জানা যায়? যে, দেবকীর প্রদত্ত অর্দ্ধাংশ কাননগোর ভার আজিও তাঁহার ভাগ্যে ঘটিয়া উঠে নাই। এই জন্য রামজীবন দেবকীর প্রকৃত উত্তরাধিকারী কি না’ জানিয়া, তাঁহাকে অর্দ্ধাংশ কাননগোর ভার প্রদানের আদেশ হয়। সুতরাং একই ফাৰ্ম্মান হইতে আমরা উভয় কাননগোর নিয়োগের আদেশ। জানিতে পারিতেছি। এই দেবকী ও রামজীবন ভট্টবাটীবংশীয় কাননগো- গণের আদিপুরুষ। তাঁহারা পূর্ব্বে রাজস্ববিভাগের কোন উচ্চতম। পদে অভিষিক্ত ছিলেন। হরিনারায়ণ অর্ধাংশ কাননগোর ভারপ্রাপ্ত।

হইলেও তাঁহার সময় হইতেই বঙ্গাধিকারিগণের শ্রীবৃদ্ধি বিশিষ্টরূপে আরম্ভ হয় এবং তাঁহাদের ক্ষমতাও অত্যন্ত প্রবল হইয়া উঠে। রাজস্ব- বিভাগের ভার একরূপ তাঁহাদের হস্তে ন্যস্ত ছিল। জমীদারগণ বঙ্গাধিকারীকে অত্যন্ত ভয় করিয়া চলিতেন। তাঁহারা ইচ্ছা করিলে, একের জমীদারী অন্যকে প্রদান করিতে পারিতেন। নবাব তাঁহাদের পরামর্শ ব্যতীত রাজস্বসম্বন্ধে কোনরূপ আদেশ দিতেন না। রাজস্ব- বিষয়ে দেওয়ান প্রধান কর্মচারী হইলেও তাঁহাকে বঙ্গাধিকারিগণের পরামর্শানুসারে চলিতে হইত। ফলতঃ রাজস্ববিষয়ে বঙ্গাধিকারিগণ।

যোহা ইচ্ছা, করিতে পারিতেন। ঢাকায় অবস্থানকালে তাঁহাদের ক্ষমতার একটি উদাহরণ দেওয়া যাইতেছে। একদিন বঙ্গাধিকারী রাজকার্য শেষ করিয়া সন্ধ্যাকালে একখানি সুন্দর তরণীতে অধিরূঢ় হইয়া নদীবক্ষে বায়ুসেবন করিতেছিলেন। সেই সময়ে ঢাকা জেলার অন্তর্গত চাঁদপ্রতাপ প্রভৃতি পরগণার জমীদারগণের পূর্ব্বপুরুষ সেইরূপ শোভাশালিনী অন্ত এক তরণীতে আরোহণ পূর্ব্বক মহাড়ম্বরে সেইস্থান দিয়া গমন করিতেছিলেন। দৈববলে উক্ত জমীদারের -নাবিকগণের ক্ষেপণীনিক্ষিপ্ত জল বঙ্গাধিকারীর গাত্রে পতিত হয়। ইহাতে, বঙ্গাধিকারী অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হইয়া উক্ত জমীদারের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করিতে আদেশ দেন।