০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধ: সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি, তবে সমাধান এখনো দূরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত, মাইন অপসারণে সমস্যায় ইরান শান্তি আলোচনায় দুই পক্ষের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা শুরু, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামাতে ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শুরু, উত্তেজনার মাঝেই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ তেল আছে শুধু সংসদে, মাঠে নেই—জ্বালানি সংকটে কৃষি ও অর্থনীতিতে বিপদের শঙ্কা আইপিএলে টানা হার থামাতে মরিয়া চেন্নাই, দিল্লির বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই চীন-পাকিস্তান কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধবিরতিতে বড় ভূমিকা বেইজিংয়ের পুতিনের প্রচারণার জালে রাশিয়া: কীভাবে বিভ্রান্তির রাজনীতি মানুষের চিন্তাকে বদলে দিচ্ছে বুরকিনা ফাসোতে যুদ্ধের নামে রক্তপাত, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৫৩)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪
  • 140

শ্রী নিখিলনাথ রায়

সেই সময়ে ঢাকার উলাইল গ্রামের মিত্রবংশীয়েরা রাজস্ববিভাগের কার্য্য করিতেন। তাঁহাদের অনুরোধে উক্ত জমীদার অবশেষে বঙ্গাধিকারীর ক্রোধাগ্নি হইতে নিষ্কৃতি লাভ করেন। হরিনারায়ণের সময় হইতে বঙ্গাধিকারিগণের সৎকীত্তি বঙ্গ- ভূমিকে অলঙ্কত করিতে আরম্ভ করে। হরিনারায়ণ আপনাদিগের আদিবাসস্থান খাজুরডিহি গ্রামে হরি-সাগর নামে এক প্রকাণ্ড দীর্ঘিক। খনন করান; অম্লাপি তাহা বর্তমান আছে।

প্রসিদ্ধ পীঠস্থান ক্ষীর- গ্রামের যোগাদ্ধাদেবীর সেবার বন্দোবস্তের জন্য তিনি ১৬শত টাকার’ ভূসম্পত্তি প্রদান করিয়াছিলেন এবং জ্ঞাতি-ও ব্রাহ্মণদিগকেও অনেক টাকার ভূসম্পত্তি প্রদান করেন।  এইরূপ কথিত আছে যে, কেবল জ্ঞাতিদিগকে তিনি ১৬হাজার টাকার ভূসম্পত্তি প্রদান করিয়াছিলেন। ইহা হইতে স্পষ্ট বুঝিতে পারা যায় যে, সে সময়ে তাঁহারা উন্নতির কত উচ্চ সীমায় উপনীত হইয়াছিলেন। বঙ্গাধিকারিগণের অধিকাংশ সংকীর্তি হরিনারায়ণের সময় হইতে গড়িত হয় এবং ক্ষমতার প্রাবল্য- হেতু এই সময় হইতে তাঁহারা প্রকৃত বঙ্গাধিকারী হইয়া উঠেন।

হরিনারায়ণের পর তাঁহার পুত্ত দর্পনারায়ণ কাননগোপদে নিযুক্ত হইয়া ঢাকার অবস্থিতি করিতে থাকেন। নবাব আজিম ওখানের সময় মুর্শিদকুলী জাফর খাঁ বাঙ্গলার দেওয়ানীপদে নিযুক্ত হইয়া ঢাকায় আগমন করেন। তথায় নবাবের সহিত দেওয়ানের বিশিষ্টরূপ মনোবিষাদ সংঘটিত হওয়ায়, দেওয়ান মুর্শিদকুলী রাজস্ববিভাগের সমস্ত কর্মচারী লইয়া ১৭০৪ খৃঃ অব্দে মুর্শিদাবাদে আসিতে বাধ্য হন। তাঁহার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনারায়ণও আগমন করিয়া ডাহাপাড়ার আপনার নিবাসস্থান স্থাপন করেন।

কিন্তু তিনি পুখুরিয়াকে আপনার প্রকৃত বাসস্থান বলিয়া পরিচয় দিতেন। দ্বিতীয় কাননগো জয়নারায়ণ ভট্টবাটীতে অবস্থান করিতে থাকেন। মুর্শিদকুলী খাঁ বাঙ্গলার রাজস্বসংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করিয়া দাক্ষিণাত্যে সম্রাট্ আরঙ্গজেবের শিবিরে উপস্থিত হওয়ার জন্ত আয়োজন করেন। সম্রাট্ সেই সময়ে গুদ্দান্ত মহারাষ্ট্রীয়দিগকে দমন করিবার জন্য দক্ষিণে অবস্থান করিতেছিলেন।  রাজস্বসংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্রে কাননগ্যের স্বাক্ষরের আবশ্যক হইত।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধ: সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি, তবে সমাধান এখনো দূরে

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৫৩)

১১:০০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

সেই সময়ে ঢাকার উলাইল গ্রামের মিত্রবংশীয়েরা রাজস্ববিভাগের কার্য্য করিতেন। তাঁহাদের অনুরোধে উক্ত জমীদার অবশেষে বঙ্গাধিকারীর ক্রোধাগ্নি হইতে নিষ্কৃতি লাভ করেন। হরিনারায়ণের সময় হইতে বঙ্গাধিকারিগণের সৎকীত্তি বঙ্গ- ভূমিকে অলঙ্কত করিতে আরম্ভ করে। হরিনারায়ণ আপনাদিগের আদিবাসস্থান খাজুরডিহি গ্রামে হরি-সাগর নামে এক প্রকাণ্ড দীর্ঘিক। খনন করান; অম্লাপি তাহা বর্তমান আছে।

প্রসিদ্ধ পীঠস্থান ক্ষীর- গ্রামের যোগাদ্ধাদেবীর সেবার বন্দোবস্তের জন্য তিনি ১৬শত টাকার’ ভূসম্পত্তি প্রদান করিয়াছিলেন এবং জ্ঞাতি-ও ব্রাহ্মণদিগকেও অনেক টাকার ভূসম্পত্তি প্রদান করেন।  এইরূপ কথিত আছে যে, কেবল জ্ঞাতিদিগকে তিনি ১৬হাজার টাকার ভূসম্পত্তি প্রদান করিয়াছিলেন। ইহা হইতে স্পষ্ট বুঝিতে পারা যায় যে, সে সময়ে তাঁহারা উন্নতির কত উচ্চ সীমায় উপনীত হইয়াছিলেন। বঙ্গাধিকারিগণের অধিকাংশ সংকীর্তি হরিনারায়ণের সময় হইতে গড়িত হয় এবং ক্ষমতার প্রাবল্য- হেতু এই সময় হইতে তাঁহারা প্রকৃত বঙ্গাধিকারী হইয়া উঠেন।

হরিনারায়ণের পর তাঁহার পুত্ত দর্পনারায়ণ কাননগোপদে নিযুক্ত হইয়া ঢাকার অবস্থিতি করিতে থাকেন। নবাব আজিম ওখানের সময় মুর্শিদকুলী জাফর খাঁ বাঙ্গলার দেওয়ানীপদে নিযুক্ত হইয়া ঢাকায় আগমন করেন। তথায় নবাবের সহিত দেওয়ানের বিশিষ্টরূপ মনোবিষাদ সংঘটিত হওয়ায়, দেওয়ান মুর্শিদকুলী রাজস্ববিভাগের সমস্ত কর্মচারী লইয়া ১৭০৪ খৃঃ অব্দে মুর্শিদাবাদে আসিতে বাধ্য হন। তাঁহার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনারায়ণও আগমন করিয়া ডাহাপাড়ার আপনার নিবাসস্থান স্থাপন করেন।

কিন্তু তিনি পুখুরিয়াকে আপনার প্রকৃত বাসস্থান বলিয়া পরিচয় দিতেন। দ্বিতীয় কাননগো জয়নারায়ণ ভট্টবাটীতে অবস্থান করিতে থাকেন। মুর্শিদকুলী খাঁ বাঙ্গলার রাজস্বসংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করিয়া দাক্ষিণাত্যে সম্রাট্ আরঙ্গজেবের শিবিরে উপস্থিত হওয়ার জন্ত আয়োজন করেন। সম্রাট্ সেই সময়ে গুদ্দান্ত মহারাষ্ট্রীয়দিগকে দমন করিবার জন্য দক্ষিণে অবস্থান করিতেছিলেন।  রাজস্বসংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্রে কাননগ্যের স্বাক্ষরের আবশ্যক হইত।