ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলাকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বিশ্ব রাজনীতি আজ চরম অনিশ্চয়তা ও নৈতিকতার সংকটে নিমজ্জিত। এমন পরিস্থিতিতে একটি দেশের সার্বভৌমত্বে অকারণ হস্তক্ষেপ ও রাষ্ট্রনেতাদের লক্ষ্য করে হামলা সভ্য বিশ্বের জন্য অশনি সংকেত।
সোমবার বিকেলে ধানমন্ডির ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি মিলনায়তনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক শহীদা রফিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ব রাজনীতিতে নৈতিকতার অভাব
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অত্যন্ত কঠিন ও অস্থির সময় অতিক্রম করছি। বিশ্ব রাজনীতিতে নৈতিকতার ভয়াবহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই একটি দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ, রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা এবং প্রেসিডেন্টকে কারাবন্দি করা—এসব ঘটনা বিশ্ব পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বেড়ে উঠেছি, তারা মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও প্রতিটি দেশের স্বাধীনতাকে সবসময় মূল্য দিয়েছি। চারপাশে যা ঘটছে, তা আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে। তবে অস্থিরতার মাঝেও বাংলাদেশের জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক শহীদা রফিকের স্মরণে
স্মরণসভায় অধ্যাপক শহীদা রফিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি সবসময় সত্য কথা বলতেন। জীবনে বহু প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু কখনও নতি স্বীকার করেননি। দেশ যখন নতুন সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই তিনি আমাদের মাঝে নেই—এ কথা বলতে গিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক শহীদা রফিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন এবং ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। গত বছরের ২ মার্চ তিনি ইন্তেকাল করেন।
১৭-১৮ বছরে ধ্বংস হয়েছে বহু প্রতিষ্ঠান
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের পথ এখনও দীর্ঘ। গত ১৭ থেকে ১৮ বছরে ফ্যাসিবাদী শক্তি বহু প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে, বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করা, মানবাধিকার, সুশাসন, আইনের শাসন ও কল্যাণরাষ্ট্রের ভিত্তি শক্তিশালী করা। তাহলেই অধ্যাপক শহীদা রফিকের স্বপ্ন ও কর্মকে যথার্থ সম্মান জানানো সম্ভব হবে।
তিনি প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রতি নিজের অব্যাহত সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















