টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দাপনাজোর এলাকায় একটি বালিকা বিদ্যালয় ও সংলগ্ন স্পা-রিসোর্টকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একই গেট ও একই রাস্তা ব্যবহার করে স্কুলছাত্রী এবং রিসোর্টের অতিথিদের যাতায়াতের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। বিষয়টি এখন শুধু অবকাঠামোগত নয়, সামাজিক সংবেদনশীলতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নেও বড় আলোচনায় পরিণত হয়েছে।
একই গেট, মিশ্র পরিবেশে অস্বস্তি
স্থানীয়দের অভিযোগ, রিসোর্ট নির্মাণের সময় আলাদা প্রবেশপথ বা সীমানা প্রাচীরের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন সকাল-বিকেলে ছাত্রীদের সঙ্গে রিসোর্টের অতিথিদের একই গেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে এক ধরনের মিশ্র পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে।
অভিভাবকদের দাবি, মেয়েদের নিরাপদ ও স্বস্তিকর পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় থাকছেন।

ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের বদলে যাওয়া চিত্র
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্থা লিডস্ট্রিম নূরজাহান বালিকা উচ্চবিদ্যালয় একসময় এলাকার কন্যাশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। শুরুতে চার শতাধিক ছাত্রী থাকলেও বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৮০ জনে। স্থানীয়রা মনে করছেন, পরিবেশগত এই পরিবর্তনই বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
বিদ্যালয়ের ৩০৬ দশমিক ৫ শতাংশ জমির বড় একটি অংশ এখন রিসোর্টের দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রধান শিক্ষকের বাসভবনও রিসোর্টের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক।
নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ
২০২২ সালে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে পৃথক গেট নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে উচ্চ আদালত থেকেও আলাদা প্রবেশপথ তৈরির নির্দেশ আসে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন, সংবেদনশীল একটি প্রতিষ্ঠানের পাশে এমন অবকাঠামোগত পরিকল্পনায় কেন আগে থেকেই সতর্কতা নেওয়া হলো না।
রিসোর্ট কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক
রিসোর্টে বিশেষ আয়োজন, কনসার্ট ও নাচের অনুষ্ঠানের অভিযোগও উঠেছে। মাসে এক দিন বিশেষ অফারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উচ্চমূল্যের টিকিটে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। থার্টি ফার্স্ট নাইটেও খোলামেলা আয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি বালিকা বিদ্যালয়ের পাশেই এ ধরনের আয়োজন সামাজিকভাবে সংবেদনশীল। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য বিঘ্নিত হতে পারে।

প্রশাসনের অবস্থান
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালিকপক্ষ দেশে ফিরলে পৃথক প্রবেশপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিতর্ক নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















