ছয় বছরের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই প্রাক্তন সঙ্গীর বিয়ে। আবার এক নারী দশ বছর ধরে সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছেন, প্রতিটি ভ্রমণে ভেবেছেন—এইবার হয়তো প্রস্তাব আসবে। কিন্তু প্রতিবারই ফিরেছেন হতাশ হয়ে।
এই গল্পগুলো আলাদা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন বহুল আলোচিত একটি শব্দ—‘প্লেসহোল্ডার সম্পর্ক’। অর্থাৎ এমন এক সঙ্গী, যিনি বছরের পর বছর পাশে থাকেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির মানুষ হিসেবে বিবেচিত হন না। তিনি কেবল “এই সময়ের জন্য”, যতক্ষণ না ‘সত্যিকারের’ মানুষটি আসে।
প্লেসহোল্ডার সম্পর্ক কী
প্লেসহোল্ডার সঙ্গী মানে এমন একজন, যাকে নিয়ে সময় কাটানো যায়, একসঙ্গে থাকা যায়, ভবিষ্যতের কথা বলা যায়—কিন্তু বিয়ে বা স্থায়ী প্রতিশ্রুতির সিদ্ধান্ত কখনও নেওয়া হয় না। সম্পর্ক চলতে থাকে, কিন্তু অঙ্গীকার আসে না।
মনোবিশেষজ্ঞ জ্যাক ওয়ার্থি বলেন, নিজের কাছে স্বীকার করা যে আপনি কেবল একটি সাময়িক জায়গা পূরণ করছেন—এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কারণ তখন বুঝতে হয়, আপনি যাকে যতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, সে আপনাকে ততটা দেয়নি।
![]()
কেন মানুষ এমন সম্পর্কে থেকে যায়
অনেকেই দীর্ঘদিন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখেন কারণ তারা ইতিমধ্যে অনেক সময়, ভালোবাসা ও আবেগ বিনিয়োগ করেছেন। নতুন করে শুরু করার ভয়, একা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, আর নিজের মূল্য নিয়ে সংশয়—এসবই মানুষকে আটকে রাখে।
লন্ডনভিত্তিক আবেগ পুনরুদ্ধার প্রশিক্ষক লুইজ ইয়াফাইয়ের মতে, অনেকেই নিজের মূল্য বোঝেন না। ধীরে ধীরে সম্পর্কটি পরিচিত ও স্বাভাবিক হয়ে যায়। মানুষ আশায় থাকে—একদিন হয়তো সঙ্গী তার মূল্য বুঝবে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, যে মানুষ সত্যিই আপনাকে চাইবে, সে বছরের পর বছর অপেক্ষায় রাখবে না।
![]()
সীমা নির্ধারণের সাহস
এক নারী জানান, তিনি এখন প্রথম সাক্ষাতেই নিজের সীমা স্পষ্ট করে দেন। দুই বছরের মধ্যে বাগদান না হলে তিনি সম্পর্ক ছেড়ে দেবেন—এ কথা বলতেও দ্বিধা করেন না। তার মতে, এই স্পষ্টতা তাকে আরও সচেতনভাবে সঙ্গী বেছে নিতে সাহায্য করে।
সীমা টানা মানে তাড়াহুড়ো নয়, বরং আত্মমর্যাদার জায়গা পরিষ্কার করা।
বন্ধুত্বেও কি প্লেসহোল্ডার?
শুধু প্রেম নয়, বন্ধুত্বেও এমন প্রবণতা দেখা যায়। অনেকেই সম্পর্ক শুরু হলে পুরনো বন্ধুদের থেকে দূরে সরে যান। আবার সম্পর্ক ভেঙে গেলে হঠাৎ ফিরে আসেন।
কিছু মানুষ বন্ধুত্বকে ব্যবহার করেন সময় কাটানোর জন্য—যতক্ষণ না জীবনে বড় কোনও মাইলফলক আসে, যেমন বিয়ে বা সন্তান। তখন পুরনো বন্ধুরা অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।
এক নারী চার বছর পর বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে বুঝতে পারেন, তিনি নিজেও ছিলেন প্লেসহোল্ডার। প্রাক্তন সঙ্গী কখনও বিয়ের প্রস্তাব দেননি। বন্ধুটি স্বীকার করেন, তিনি অনুভব করতেন তার সঙ্গী যেন অন্যরকম কাউকে চেয়েছিলেন।
এই উপলব্ধি ছিল কষ্টের, কিন্তু মুক্তিরও।
আত্মভালোবাসার প্রথম ধাপ
প্লেসহোল্ডার সম্পর্ক চিহ্নিত করা আত্মভালোবাসার অংশ। নাম দেওয়া মানেই পরিস্থিতিকে স্বীকার করা। আর স্বীকার করলেই মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে পারে—সে কি অপেক্ষা করবে, না নিজের সময় ও সম্মান রক্ষা করবে।
শেষ পর্যন্ত সত্যিকারের মানুষ আপনাকে অনির্দিষ্ট অপেক্ষায় রাখবে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















