ফেনীর পরশুরামে এক আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল এলাকাবাসী। ফেনী জেলা কারাগারে বন্দি যুবলীগ নেতা ইয়াছিন শরীফ মজুমদার প্যারোলে সাময়িক মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়েছেন। পুলিশের কঠোর পাহারায়, হাতে হাতকড়া পরেই তিনি বাবার লাশের খাটিয়া কাঁধে তুলে নেন। জানাজায় উপস্থিত মানুষের সামনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
রবিবার দুপুরে তার বাবা রফিকুল ইসলাম বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলে কর্তৃপক্ষ তিন ঘণ্টার জন্য অনুমতি দেয়।

জেলা কারাগার থেকে গ্রামের বাড়ি
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্যারোলে মুক্তি পান ইয়াছিন শরীফ। পুলিশের পাহারায় তাকে জেলা কারাগার থেকে পরশুরাম পৌরসভার অনন্তপুর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। বেলা ১১টায় অনন্তপুর সলিয়া কোলাপাড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজার আগে বাবার মরদেহের খাটিয়া নিজ কাঁধে তুলে নেন তিনি। পুরো সময়জুড়ে পুলিশি নিরাপত্তা ছিল কড়া। জানাজা শেষে নির্ধারিত সময় শেষ হলে তাকে আবার জেলা কারাগারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
জানাজায় আবেগঘন বক্তব্য
জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে ইয়াছিন শরীফ বলেন, তিনি বাবার হতভাগ্য ছেলে। বাবার অসুস্থতার সময় পাশে থাকতে না পারার কষ্টের কথা জানিয়ে সবার কাছে বাবার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

রাজনৈতিক অঙ্গনের উপস্থিতি
জানাজায় স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং যুবদলের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেপ্তার ও মামলা প্রসঙ্গ
পুলিশ জানিয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যার একটি মামলায় ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে ইয়াছিন শরীফ মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি ফেনী জেলা কারাগারে বন্দি আছেন।
তিনি পরশুরাম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিনের জামাতা। অতীতে উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















