নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্প এলাকায় এক ইফতার অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে প্রায় দুই ঘণ্টা একটি ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সম্পাদক আবদুল্লাহ আল আমিনকে। পরে রাতের দিকে পুলিশ তাকে নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।
মন্তব্য ঘিরেই উত্তেজনার সূত্রপাত
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবদুল্লাহ আল আমিন এবং দেশের বৃহত্তম নিটওয়্যার সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঞ্চে হাতেমকে দেখে সংসদ সদস্য তার সঙ্গে একই মঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানান।
এক পর্যায়ে তিনি প্রকাশ্যে হাতেমকে কটূক্তি করে বলেন, তিনি ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’-এর সঙ্গে একই মঞ্চে বসবেন না। এই মন্তব্যের পরপরই সেখানে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ ও ঘেরাও
সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতিবাদে শত শত ব্যবসায়ী ও তাদের সমর্থক অনুষ্ঠানস্থলের সামনে জড়ো হন। তারা ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং মন্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংসদ সদস্য ভবনের ভেতরে অবস্থান নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা ভবনের চারপাশ ঘিরে রাখেন। ফলে প্রায় দুই ঘণ্টা তিনি কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।
পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফতুল্লা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য সেখানে যোগ দেন। রাত প্রায় নয়টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সংসদ সদস্যকে নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।

ব্যবসায়ী নেতাদের ক্ষোভ
স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, মোহাম্মদ হাতেম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একজন নেতা এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলা মানে পুরো ব্যবসায়ী সমাজকে অপমান করা।
এলাকার এক কারখানা মালিক জানান, হাতেমের নেতৃত্ব এবং ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগের কারণে নানা সংকটের মধ্যেও নারায়ণগঞ্জে শিল্প কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে সংসদ সদস্যের বক্তব্য
ঘটনার সময় আবদুল্লাহ আল আমিন ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা যায়। তিনি দাবি করেন, পুলিশ, সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতির কারণে তিনি নিরাপদ বোধ করছিলেন। তবে তার অভিযোগ, অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে তার দলের কয়েকজন সদস্যকে হাতেমের সমর্থকেরা মারধর করেছেন।
ফতুল্লা থানার পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















