০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
পোষা প্রাণীর জন্য ভিডিও এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়, স্ক্রিনে মজেছে বিড়াল-কুকুর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: সার-সংকটের শঙ্কায় বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ, ক্ষুধার ঝুঁকিতে দরিদ্র দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ওরাকলের বড় উত্থান, ২০২৭ সালের আগেই আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত পিরিয়ড ট্যাক্সের বিরুদ্ধে তরুণ আইনজীবী মাহনূর ওমরের লড়াই, পাকিস্তানে শুরু নতুন জাতীয় বিতর্ক ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য: বিশ্বের বৃহত্তম শেয়ার বাজারে নামতে প্রস্তুত ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ক্রিপ্টো দুনিয়ায় দ্রুত উত্থান ‘স্টেবলকয়েন’-এর, ডলার নির্ভর এই মুদ্রা ঘিরে বাড়ছে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার বিতর্ক ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ছায়া ওয়াল স্ট্রিটে, তেলের দামে আতঙ্কে ধস শেয়ারবাজারে

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজারে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে—এই আশঙ্কায় তেলের দাম বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বেড়েছে মূল্যস্ফীতির ভয়। এর ফলেই মার্কিন শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকগুলো মঙ্গলবার লেনদেন শেষে উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে যায়।

যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক বাজারে

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চতুর্থ দিনে গড়াতেই বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় এলাকায় পাল্টা আঘাত হানার পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে লেবানন পর্যন্ত।

এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে বড় আকারে শেয়ার বিক্রি শুরু হয়, যা বাজারে চাপ তৈরি করে।

Oil prices rise to $63.91 amid heightened Ukraine-Russia tensions

প্রধান সূচকগুলোতে বড় পতন

দিন শেষে ডাও জোন্স সূচক ৪০৩ পয়েন্টের বেশি হারিয়ে প্রায় শূন্য দশমিক আট শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪৮ হাজার ৫০১ পয়েন্টে।
এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক প্রায় শূন্য দশমিক নয় শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৮১৬ পয়েন্টে।
নাসডাক সূচকও এক শতাংশের বেশি হারিয়ে ২২ হাজার ৫১৬ পয়েন্টে নেমে আসে।

লেনদেনের শুরুতে বাজার আরও বড় পতনের মুখে পড়লেও দিনের শেষে কিছুটা ক্ষতি কমিয়ে আনতে সক্ষম হয় সূচকগুলো।

অস্থিরতার ইঙ্গিত বাজারে

বাজারের অস্থিরতার সূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রভাব কত দূর গড়াবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তাই বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তবে কিছু প্রযুক্তি খাতের শেয়ার তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বড় পতনের মুখে পড়া সফটওয়্যার কোম্পানির শেয়ারগুলোর মধ্যে কিছুটা উত্থানও দেখা গেছে।

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে যে কোনও উত্তেজনা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

বাজারে সতর্ক অবস্থানে বিনিয়োগকারীরা

বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। অনেকেই তাদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও নতুন করে মূল্যায়ন করছেন এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে কি না তা নিয়ে চিন্তিত।

একই সঙ্গে তেলের দাম বাড়তে থাকলে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণে নতুন চাপ তৈরি করবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পোষা প্রাণীর জন্য ভিডিও এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়, স্ক্রিনে মজেছে বিড়াল-কুকুর

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ছায়া ওয়াল স্ট্রিটে, তেলের দামে আতঙ্কে ধস শেয়ারবাজারে

০৪:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজারে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে—এই আশঙ্কায় তেলের দাম বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বেড়েছে মূল্যস্ফীতির ভয়। এর ফলেই মার্কিন শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকগুলো মঙ্গলবার লেনদেন শেষে উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে যায়।

যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক বাজারে

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চতুর্থ দিনে গড়াতেই বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় এলাকায় পাল্টা আঘাত হানার পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে লেবানন পর্যন্ত।

এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে বড় আকারে শেয়ার বিক্রি শুরু হয়, যা বাজারে চাপ তৈরি করে।

Oil prices rise to $63.91 amid heightened Ukraine-Russia tensions

প্রধান সূচকগুলোতে বড় পতন

দিন শেষে ডাও জোন্স সূচক ৪০৩ পয়েন্টের বেশি হারিয়ে প্রায় শূন্য দশমিক আট শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪৮ হাজার ৫০১ পয়েন্টে।
এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক প্রায় শূন্য দশমিক নয় শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৮১৬ পয়েন্টে।
নাসডাক সূচকও এক শতাংশের বেশি হারিয়ে ২২ হাজার ৫১৬ পয়েন্টে নেমে আসে।

লেনদেনের শুরুতে বাজার আরও বড় পতনের মুখে পড়লেও দিনের শেষে কিছুটা ক্ষতি কমিয়ে আনতে সক্ষম হয় সূচকগুলো।

অস্থিরতার ইঙ্গিত বাজারে

বাজারের অস্থিরতার সূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রভাব কত দূর গড়াবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তাই বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তবে কিছু প্রযুক্তি খাতের শেয়ার তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বড় পতনের মুখে পড়া সফটওয়্যার কোম্পানির শেয়ারগুলোর মধ্যে কিছুটা উত্থানও দেখা গেছে।

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে যে কোনও উত্তেজনা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

বাজারে সতর্ক অবস্থানে বিনিয়োগকারীরা

বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। অনেকেই তাদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও নতুন করে মূল্যায়ন করছেন এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে কি না তা নিয়ে চিন্তিত।

একই সঙ্গে তেলের দাম বাড়তে থাকলে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণে নতুন চাপ তৈরি করবে বলেও মনে করা হচ্ছে।