মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজারে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে—এই আশঙ্কায় তেলের দাম বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বেড়েছে মূল্যস্ফীতির ভয়। এর ফলেই মার্কিন শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকগুলো মঙ্গলবার লেনদেন শেষে উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে যায়।
যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক বাজারে
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চতুর্থ দিনে গড়াতেই বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় এলাকায় পাল্টা আঘাত হানার পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে লেবানন পর্যন্ত।
এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে বড় আকারে শেয়ার বিক্রি শুরু হয়, যা বাজারে চাপ তৈরি করে।

প্রধান সূচকগুলোতে বড় পতন
দিন শেষে ডাও জোন্স সূচক ৪০৩ পয়েন্টের বেশি হারিয়ে প্রায় শূন্য দশমিক আট শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪৮ হাজার ৫০১ পয়েন্টে।
এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক প্রায় শূন্য দশমিক নয় শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৮১৬ পয়েন্টে।
নাসডাক সূচকও এক শতাংশের বেশি হারিয়ে ২২ হাজার ৫১৬ পয়েন্টে নেমে আসে।
লেনদেনের শুরুতে বাজার আরও বড় পতনের মুখে পড়লেও দিনের শেষে কিছুটা ক্ষতি কমিয়ে আনতে সক্ষম হয় সূচকগুলো।
অস্থিরতার ইঙ্গিত বাজারে
বাজারের অস্থিরতার সূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রভাব কত দূর গড়াবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তাই বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে কিছু প্রযুক্তি খাতের শেয়ার তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বড় পতনের মুখে পড়া সফটওয়্যার কোম্পানির শেয়ারগুলোর মধ্যে কিছুটা উত্থানও দেখা গেছে।

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ
ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে যে কোনও উত্তেজনা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বাজারে সতর্ক অবস্থানে বিনিয়োগকারীরা
বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। অনেকেই তাদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও নতুন করে মূল্যায়ন করছেন এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে কি না তা নিয়ে চিন্তিত।
একই সঙ্গে তেলের দাম বাড়তে থাকলে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণে নতুন চাপ তৈরি করবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















