শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির সময় জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।
কম চাল দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদে মঙ্গলবার জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু অনেক জেলে অভিযোগ করেছেন, সরকার নির্ধারিত ৮০ কেজির বদলে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৬ থেকে ১০ কেজি কম চাল।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সচিব এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কম চাল দেওয়াকে কেন্দ্র করে জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি কর্মসূচি
মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়। চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচটি অভয়াশ্রম এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই সময় নিবন্ধিত জেলেদের সহায়তা দিতে মৎস্য বিভাগের মাধ্যমে প্রত্যেককে ৮০ কেজি করে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ভেদরগঞ্জ উপজেলায় মোট ১ হাজার ৫০ জন জেলে এই সহায়তার আওতায় ছিলেন।
জেলেদের অভিযোগ
ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই চাল বিতরণ শুরু করা হয় এবং অনেকের চাল কম দেওয়া হয়।
জেলে রকিব মাঝি বলেন, তার পাওয়ার কথা ছিল ৮০ কেজি চাল, কিন্তু তাকে দেওয়া হয়েছে ৭০ কেজি। বিষয়টি জানতে চাইলে বলা হয় চাল কম এসেছে। তিনি জানান, দরিদ্র হওয়ায় প্রতিবাদ করার সুযোগও নেই।
আরেক উপকারভোগী ফয়সাল হোসেন বলেন, তিনি নিজের অংশ মেপে দেখেন ৭২ কেজি চাল পেয়েছেন। তবে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সবার হাতে পূর্ণ ৮০ কেজি করে চাল তুলে দেওয়া হয়।

প্রশাসনের তদন্ত শুরু
অভিযোগের খবর পাওয়ার পর ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ব্যবস্থা নেন। তিনি সহকারী কমিশনার ভূমি কে এম রাফসান রাব্বি এবং জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা এম এ ইমরানকে ঘটনাস্থলে পাঠান।
তারা সেখানে গিয়ে চাল বিতরণ তদারকি করেন এবং বাকি চাল সঠিকভাবে জেলেদের মাঝে বিতরণ নিশ্চিত করেন।
অভিযোগ অস্বীকার স্থানীয় চেয়ারম্যানের
এদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান সেকান্দার খান অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, চাল সঠিকভাবে মেপেই বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক জানান, বিষয়টি তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সহায়তার ওপর নির্ভরশীল জেলেরা
ভেদরগঞ্জ উপজেলায় মোট ১৫ হাজার ৮১৮ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। মাছ ধরা বন্ধের সময় তাদের অনেকেই জীবিকার জন্য সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এমন অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত নয়, বরং দরিদ্র জেলে পরিবারের প্রতি বড় ধরনের অবিচার। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















