নড়াইল সদর উপজেলার চুংখোলা মোড়ে গত ২০ জানুয়ারি সকালে হামলার শিকার হয়ে পঙ্গু হয়ে পড়েন শাহিদুল মোল্লা। ওই হামলায় তাঁর দুই পা ভেঙে যায় এবং দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি এখনো স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না। অথচ বিস্ময়করভাবে সম্প্রতি দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় তাঁকে পঞ্চম আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
হামলার পর থেকেই পঙ্গু জীবন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি সকালে সাবেক এক স্থানীয় চেয়ারম্যানের অনুসারীদের হামলায় গুরুতর আহত হন শাহিদুল মোল্লা। হামলায় তাঁর দুই পা ভেঙে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি এখনো স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে পারেন না। চলাফেরা করতে হলে তাঁকে দুইটি লাঠির সাহায্য নিতে হয়।
শাহিদুল জানান, হামলার পর থেকে তিনি কার্যত চলাফেরার অক্ষম হয়ে পড়েছেন। ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না এবং একা দাঁড়াতেও পারেন না। এমন অবস্থায় তাঁকে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে, যা তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।
‘ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে জড়ানো হয়েছে’
নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে শাহিদুল বলেন, হামলার দিন তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং চলাফেরা করার মতো অবস্থাতেই ছিলেন না। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধীরা যেন আইনের আওতায় আসে, কিন্তু নির্দোষ কাউকে যেন হয়রানি করা না হয়। এজন্য তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
একই ঘটনার জেরে দুটি হত্যা মামলা
পুলিশ জানিয়েছে, সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুটি পৃথক হত্যা মামলা হয়েছে।
প্রথম মামলাটি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দায়ের করেন নিহত খলিল শেখের ছেলে রুবেল শেখ। এতে ৬৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলাটি ২৮ ফেব্রুয়ারি দায়ের করেন নিহত ওসিবুরের বাবা ওসমান ফকির। এই মামলায় ৫৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, দুই মামলায় বিপরীত পক্ষের বহু লোককে আসামি করা হয়েছে। ফলে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করা বেশ জটিল হয়ে উঠেছে।
তদন্ত চলছে, বলছে পুলিশ
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওলি মিয়া জানান, দুটি মামলার অভিযোগই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পঙ্গু অবস্থায় থাকা একজন মানুষকে হত্যা মামলায় আসামি করা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তই পারে প্রকৃত সত্য সামনে আনতে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















