রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত গণইফতার কর্মসূচিতে খাবারের ঘাটতিকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইফতার না পেয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকত আলীকে কিছু সময়ের জন্য ঘিরে রাখেন। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং তাকে সেখান থেকে যেতে দেওয়া হয়।
ইফতার আয়োজনে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে প্রায় সাড়ে সাত হাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর জন্য গণইফতারের আয়োজন করা হয়। কিন্তু খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় শত শত শিক্ষার্থী টোকেন থাকা সত্ত্বেও ইফতার পাননি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, যারা খাবার পেয়েছেন তাদের মধ্যেও কেউ কেউ খাবারের গন্ধ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, কিছু খাবারে পচা গন্ধ ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও উপাচার্যের অবরোধ
খাবার না পাওয়া এবং আয়োজনের বিশৃঙ্খলায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনেও জড়ো হয়ে তাদের অভিযোগ জানান।
এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনেকেই বিকেল চারটার আগেই মাঠে উপস্থিত হন এবং টোকেন দেখিয়ে ইফতার সংগ্রহের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু খাবারের সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বহু শিক্ষার্থী খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে আমন্ত্রিত অতিথিরাও পর্যাপ্ত খাবার পাননি বলে অভিযোগ ওঠে।

উপাচার্যের ক্ষমা ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপাচার্য ড. শওকত আলী শিক্ষার্থীদের সামনে বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ইফতার আয়োজনে কিছু ত্রুটি হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। যারা এই ব্যবস্থাপনায় দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছে অসুবিধার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন উপাচার্য এবং সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তার ক্ষমা ও আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















