প্রায় এক দশক আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকট কমাতে নারায়ণগঞ্জে শুরু হওয়া একটি বৃহৎ আবাসন প্রকল্প এখনও শেষ হয়নি। বারবার সময়সীমা বাড়ানো হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটি নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
দীর্ঘসূত্রতায় আটকে প্রকল্প
নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জ এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আটটি পনেরো তলা ভবনে মোট ৬৭২টি ফ্ল্যাট নির্মাণের এই প্রকল্পটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। তখন পরিকল্পনা ছিল ২০১৯ সালের জুনের মধ্যেই সব কাজ শেষ করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ধারাবাহিকভাবে সময়সীমা বাড়ানো হয়।
প্রথমে মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। এরপর ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। পরে দ্বিতীয় সংশোধিত অনুমোদনে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন করা হয়েছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে আবারও সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যয় বাড়েনি, কিন্তু কাজ শেষ হয়নি
প্রকল্পের শুরুতে অনুমোদিত ব্যয় ছিল প্রায় ৩৯৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। পরে প্রথম সংশোধনে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪০২ কোটি ৪৩ লাখ টাকায়। দ্বিতীয় সংশোধনে ব্যয় সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪০৪ কোটি ৪ লাখ টাকা। পুরো প্রকল্পের অর্থায়ন করছে সরকার।
তবে প্রকল্পের সময় বাড়লেও অতিরিক্ত ব্যয় না বাড়ানোর বিষয়টি কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন।

কোথায় হচ্ছে এই প্রকল্প
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীগঞ্জ এলাকায় গণপূর্ত বিভাগের প্রায় ১১ দশমিক ৬৫ একর জমির ওপর এই আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার।
এই জমির প্রায় ৫ দশমিক ৭০ একর এলাকা স্থানীয়ভাবে আলীগঞ্জ মাঠ নামে পরিচিত।
কেন পিছিয়ে যাচ্ছে কাজ
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পনেরো তলা ভবনগুলোর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হওয়ায় প্রকল্পের সময় বাড়াতে হয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানির সরবরাহ লাইন, গ্যাস সংযোগ এবং বিদ্যুৎ স্থাপনার কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
এই সব কাজ শেষ হলেই প্রকল্পটি ব্যবহার উপযোগী হবে বলে জানানো হয়েছে।

সম্পন্ন হলে কী সুবিধা মিলবে
প্রকল্পটি শেষ হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ৬৭২টি আবাসিক ফ্ল্যাট পাওয়া যাবে। এতে সরকারি জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং সরকারি কর্মীদের আবাসন সুবিধা বাড়বে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
শুরু থেকেই বিতর্ক
প্রকল্পটি শুরু হওয়ার সময় থেকেই স্থানীয়দের একটি অংশের বিরোধিতা ছিল। কারণ ভবনগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে যে জমিতে, সেটি স্থানীয়ভাবে আলীগঞ্জ খেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত।
প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা, মুক্তিযোদ্ধা, ক্রীড়া সংগঠক এবং তরুণদের একটি অংশ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। তারা জেলা প্রশাসনের কাছে গণস্বাক্ষর জমা দিয়ে প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়েছিল।
তবে সেই প্রতিবাদ সত্ত্বেও প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলতে থাকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















