ঈদের কেনাকাটা করতে পরিবারের সঙ্গে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু উৎসবের আনন্দের সেই পথেই ঘটে গেল ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। খুলনা মহানগরীর ব্যস্ত ডাকবাংলা মোড়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে শ্রমিক দল নেতা মাসুম বিল্লাহকে। বুধবার রাতের এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই একজন সন্দেহভাজনকে অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা এবং রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন।
ঘটনাস্থলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত প্রায় নয়টার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে ডাকবাংলা মোড়ে যান মাসুম বিল্লাহ। বাটা দোকানের সামনে পৌঁছানোর পর হঠাৎ ছয় থেকে সাতজন দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ফেলে।
প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাকে গুলি করা হয়। পরপর গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে।
স্থানীয়দের সহায়তায় আটক এক সন্দেহভাজন
ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় অশোক ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পূর্বশত্রুতার ইঙ্গিত পুলিশের
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্বশত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের ভাই।
উল্লেখ্য, মোস্তফা কামাল ২০২০ সালের ৩০ জুলাই একটি অভিযানে নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় নানা ধরনের বিরোধ ও উত্তেজনার কথা স্থানীয়রা জানিয়ে আসছেন।

পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ
খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে হত্যার জন্য একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের ছয় থেকে সাতজন সদস্যকে ভাড়া করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পরে গুলি করে মাসুম বিল্লাহকে হত্যা করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুত তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকায় ঘটনাস্থল থেকেই একজন অস্ত্রধারীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতার করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















