ইরাক–ইরান সংঘাতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে। জ্বালানি পাচার বা অবৈধ মজুত ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্তজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি
বিজিবি সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সীমান্ত এলাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি পাচারের যেকোনো চেষ্টা রোধে সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক সীমান্তপথ, নদীপথ এবং স্থলবন্দর এলাকায় অতিরিক্ত টহল মোতায়েন করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে বিজিবি
বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি পাচার ঠেকাতে বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে জ্বালানি পাচারের কোনো সুযোগ যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য প্রতিটি এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তৎপরতা ও যৌথ অভিযান
বিজিবির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র যেন জ্বালানি মজুত বা পাচারের চেষ্টা করতে না পারে—সেজন্য গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।
প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি অবৈধভাবে পরিবহন বা মজুতের অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় যানবাহন তল্লাশি ও নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে সীমান্তে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সতর্কতা আরও জোরদার রাখা হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















