০৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই থাইল্যান্ডের জাহাজে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত হামলা, নিখোঁজ তিন নাবিক ইরান যুদ্ধে বেসামরিক ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ পোপ লিওর তেলের বাজারে অস্থিরতা: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সুপারিশ আইইএর ইরানে নতুন করে ‘ব্যাপক হামলা’ শুরু করেছে ইসরাইল, একই সঙ্গে বৈরুতেও আঘাত ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত প্রয়োজন হলে সৌদি আরবের পাশে থাকবে পাকিস্তান

বইমেলায় ভিড় কম, কেনা কম—রমজান ও ঈদের বাজারে ম্লান একুশে বইমেলার সপ্তম দিন

রাজধানীর বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে বাঙালির প্রাণের সাংস্কৃতিক উৎসব অমর একুশে বইমেলা। তবে সপ্তম দিনে মেলায় প্রত্যাশিত ভিড় দেখা যায়নি। দর্শনার্থী ও বই ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম থাকায় অনেক স্টলে বিক্রেতাদের সময় কাটাতে হয়েছে প্রায় বসেই।

এবারের বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে। কিন্তু দেরিতে উদ্বোধন, অংশগ্রহণকারী প্রকাশকের সংখ্যা কমে যাওয়া, রমজানের আবহ এবং সীমিত সময়ের কারণে শুরু থেকেই মেলা কিছুটা ভিন্ন বাস্তবতায় এগোচ্ছে।

দর্শনার্থী কম, বিক্রি আরও কম

মেলার সপ্তম দিনে সরেজমিনে দেখা যায়, আগের বছরের তুলনায় দর্শনার্থী ও পাঠকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। রোজা ও বিকেলের তীব্র গরমের কারণে দিনের বেলায় অনেকেই মেলায় আসতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

তবু কিছু বইপ্রেমী নিজেদের পছন্দের বই কিনতে মেলায় আসছেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দর্শনার্থীরা স্টল ঘুরে দেখছেন, বই উল্টে-পাল্টে দেখছেন বা ছবি তুলছেন, কিন্তু কেনাকাটা কম হচ্ছে।

Ekushey Boi Mela sees low visitor-reader turnout on day 7

ঈদের বাজারে মনোযোগ, বই কেনা পিছিয়ে

মুক্তধারা প্রকাশনীর এক বিক্রয়কর্মী আশরাফ হোসেন সীমান্ত জানান, এখন মানুষের প্রধান মনোযোগ ঈদের কেনাকাটায়। অনেকেই বাজারে কেনাকাটা শেষে মেলায় ঢুঁ মারছেন। তারা বই দেখছেন, ছবি তুলছেন, কিন্তু কিনছেন কম।

শিখর প্রকাশনীর এক বিক্রয়কর্মী বলেন, সাধারণত মেলায় আসা পাঠকরা অন্তত একটি বা দুটি বই কিনে থাকেন। কিন্তু এবার রমজানের কারণে এমন ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে। অনেক সময় পুরো বিকেল বসে থাকতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে কেউ এসে বই দেখে আবার চলে যাচ্ছেন।

Ekushey Boi Mela sees rising visitor numbers but mixed sales

নতুন বই জমা ও আলোচনা অনুষ্ঠান

মেলার সপ্তম দিনে তথ্যকেন্দ্রে ৮১টি নতুন বই জমা পড়েছে। বিকেল তিনটায় মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ : সঞ্জীদা খাতুন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মফিদুল হক।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং সভাপতিত্ব করেন ভীষ্মদেব চৌধুরী।

বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, সঞ্জীদা খাতুন ছিলেন পূর্ণাঙ্গ, মার্জিত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকারী একজন মানুষ। তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল গভীর মনোযোগ। সংগীত নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করতে তিনি বিশেষভাবে পছন্দ করতেন। শিক্ষক পরিচয়ের পাশাপাশি প্রাবন্ধিক, সমালোচক ও বিশ্লেষক হিসেবেও তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

লেখক বলছি পর্বে নাসিমা আনিস

এদিন মেলার ‘লেখক বলছি’ পর্বে কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস নিজের লেখা বই নিয়ে কথা বলেন। পাঠকদের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর লেখালেখি ও ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরেন।

রমজানের প্রভাব ও ঈদের কেনাকাটার ব্যস্ততার কারণে মেলার শুরুটা ধীরগতির হলেও আয়োজক ও প্রকাশকদের আশা, মাসের শেষ দিকে পাঠকের ভিড় বাড়বে এবং বই বিক্রিও গতি পাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বইমেলায় ভিড় কম, কেনা কম—রমজান ও ঈদের বাজারে ম্লান একুশে বইমেলার সপ্তম দিন

১২:০১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে বাঙালির প্রাণের সাংস্কৃতিক উৎসব অমর একুশে বইমেলা। তবে সপ্তম দিনে মেলায় প্রত্যাশিত ভিড় দেখা যায়নি। দর্শনার্থী ও বই ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম থাকায় অনেক স্টলে বিক্রেতাদের সময় কাটাতে হয়েছে প্রায় বসেই।

এবারের বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে। কিন্তু দেরিতে উদ্বোধন, অংশগ্রহণকারী প্রকাশকের সংখ্যা কমে যাওয়া, রমজানের আবহ এবং সীমিত সময়ের কারণে শুরু থেকেই মেলা কিছুটা ভিন্ন বাস্তবতায় এগোচ্ছে।

দর্শনার্থী কম, বিক্রি আরও কম

মেলার সপ্তম দিনে সরেজমিনে দেখা যায়, আগের বছরের তুলনায় দর্শনার্থী ও পাঠকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। রোজা ও বিকেলের তীব্র গরমের কারণে দিনের বেলায় অনেকেই মেলায় আসতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

তবু কিছু বইপ্রেমী নিজেদের পছন্দের বই কিনতে মেলায় আসছেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দর্শনার্থীরা স্টল ঘুরে দেখছেন, বই উল্টে-পাল্টে দেখছেন বা ছবি তুলছেন, কিন্তু কেনাকাটা কম হচ্ছে।

Ekushey Boi Mela sees low visitor-reader turnout on day 7

ঈদের বাজারে মনোযোগ, বই কেনা পিছিয়ে

মুক্তধারা প্রকাশনীর এক বিক্রয়কর্মী আশরাফ হোসেন সীমান্ত জানান, এখন মানুষের প্রধান মনোযোগ ঈদের কেনাকাটায়। অনেকেই বাজারে কেনাকাটা শেষে মেলায় ঢুঁ মারছেন। তারা বই দেখছেন, ছবি তুলছেন, কিন্তু কিনছেন কম।

শিখর প্রকাশনীর এক বিক্রয়কর্মী বলেন, সাধারণত মেলায় আসা পাঠকরা অন্তত একটি বা দুটি বই কিনে থাকেন। কিন্তু এবার রমজানের কারণে এমন ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে। অনেক সময় পুরো বিকেল বসে থাকতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে কেউ এসে বই দেখে আবার চলে যাচ্ছেন।

Ekushey Boi Mela sees rising visitor numbers but mixed sales

নতুন বই জমা ও আলোচনা অনুষ্ঠান

মেলার সপ্তম দিনে তথ্যকেন্দ্রে ৮১টি নতুন বই জমা পড়েছে। বিকেল তিনটায় মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ : সঞ্জীদা খাতুন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মফিদুল হক।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং সভাপতিত্ব করেন ভীষ্মদেব চৌধুরী।

বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, সঞ্জীদা খাতুন ছিলেন পূর্ণাঙ্গ, মার্জিত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকারী একজন মানুষ। তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল গভীর মনোযোগ। সংগীত নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করতে তিনি বিশেষভাবে পছন্দ করতেন। শিক্ষক পরিচয়ের পাশাপাশি প্রাবন্ধিক, সমালোচক ও বিশ্লেষক হিসেবেও তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

লেখক বলছি পর্বে নাসিমা আনিস

এদিন মেলার ‘লেখক বলছি’ পর্বে কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস নিজের লেখা বই নিয়ে কথা বলেন। পাঠকদের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর লেখালেখি ও ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরেন।

রমজানের প্রভাব ও ঈদের কেনাকাটার ব্যস্ততার কারণে মেলার শুরুটা ধীরগতির হলেও আয়োজক ও প্রকাশকদের আশা, মাসের শেষ দিকে পাঠকের ভিড় বাড়বে এবং বই বিক্রিও গতি পাবে।